রানি রাসমণিতে সভা নিয়ে অনড় মমতা, সোমবার রাত পর্যন্ত মিলল না পুলিশের অনুমতি
মঙ্গলবার রানি রাসমণি রোডে তৃণমূলের পূর্বনির্ধারিত প্রতিবাদ সভার ডাক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, শেষ মুহূর্তে পুলিশ সেই সভার অনুমতি বাতিল করায় নতুন করে রাজনৈতিক পারদ চড়েছে।

Published : June 1, 2026 at 10:43 PM IST
কলকাতা, 01 জুন: দ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক পরাজয়ের পর থেকেই চরম রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সংকটের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। একদিকে দলের অন্দরে বিদ্রোহ, অন্যদিকে প্রশাসনের অসহযোগিতা— জোড়া ফলায় বিদ্ধ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। মঙ্গলবার রানি রাসমণি রোডে তৃণমূলের একটি পূর্বনির্ধারিত প্রতিবাদ সভার ডাক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পুলিশ সেই সভার অনুমতি বাতিল করায় নতুন করে রাজনৈতিক পারদ চড়েছে।
পুলিশের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার ফেসবুক লাইভে এসে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পুলিশ সভা করতে বাধা দিলে রাস্তাতেই বসে ধরনা দেবেন তিনি। তৃণমূল সূত্রের খবর, মঙ্গলবার রানি রাসমণি রোডে একটি মঞ্চ বেঁধে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা ছিল দলের। কিন্তু, পুলিশ সেখানে সভা করার অনুমতি দেয়নি।
পুলিশের তরফে রানি রাসমণি রোডের বদলে ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে সভা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে। তবে ওয়াই চ্যানেলের ওই সভাস্থল নিয়েও বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে। প্রশাসনের তরফ থেকে তৃণমূলকে সভার জন্য নতুন করে আবেদন করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, সারা দিনের বদলে মাত্র দুই ঘণ্টার জন্য সভার অনুমতি দেওয়া হতে পারে বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
সোমবার একটি ফেসবুক লাইভে এসে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আমি একটা মিটিংয়ের পারমিশন চেয়েছি সাত দিন আগে। পারমিশন মানে পুলিশকে ইনফরমেশন দিতে হয়, দিয়েছি। আজ স্টেজ করতে গেছে, বলছে না এখানে করা যাবে না।" তাঁর অভিযোগ, রানি রাসমণি রোড বরাবরই একটি সভার জায়গা হিসেবে চিহ্নিত। আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও এবং সিইএসসি-র (CESC) কাছ থেকে মাইক্রোফোনের অনুমতি নেওয়া হলেও, শেষ মুহূর্তে ডেকরেটরের কর্মীদের কাজ করতে বাধা দেয় পুলিশ। আগের দিন কেন সভার জায়গা বদলের কথা বলা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি।
মূলত নিট (NEET) পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস, রাজ্যজুড়ে হকার উচ্ছেদ এবং সাধারণ মানুষের জীবিকা হারানোর মতো বিষয়গুলিকে সামনে রেখেই মঙ্গলবারের এই প্রতিবাদ সভার ডাক দেওয়া হয়েছিল। বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর লাইভে বলেন, "হকারদের উচ্ছেদ করেছেন, তার প্রতিবাদ করার পারমিশন চাইতে হচ্ছে। নিট রেজাল্ট নিয়ে ছেলেমেয়েদের রাস্তায় বসিয়েছেন, শিক্ষকদের চাকরি খেয়েছেন, ঘরবাড়ি ভেঙে তছনছ করেছেন। আর এর প্রতিবাদ করতে রাস্তায় একটা ধরনা করতে দেওয়া হবে না?"
তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল 10টা থেকে তাদের বুকিং করা আছে। পুলিশ যেখানে তাঁদের আটকাবে, সেখানেই বসে পড়বেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নেত্রী। গ্রেফতারির পরোয়া না করে দলীয় কর্মীদের নির্ভয়ে রাস্তায় নামারও ডাক দিয়েছেন তিনি। কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, "বীরের মতো লড়লে বড়জোর এক মাস জেলে রাখতে পারে। তারপর আপনারা মুক্ত পাখির মতো স্বাধীন হয়ে যাবেন।"
ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে ক্রমশ ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক পুরসভায় ভাঙন ধরছে, পাল্লা দিয়ে চলছে একাধিক নেতা-কর্মীর গ্রেফতারি। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার দলবিরোধী কাজের অভিযোগে দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সব মিলিয়ে জোড়াফুল শিবির যে এক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। মঙ্গলবার মমতার এই প্রতিবাদ কর্মসূচি তৃণমূলের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

