কেরলের নাম বদলেই প্রমাণ হল জোট হয়েছে বিজেপি-সিপিএমের, বিস্ফোরক মমতা
বিরোধী ইন্ডিয়া শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী সিপিএম । বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বিধানসভা ভোটের আগে সিপিএমকে খুশি করতেই কেরলের নাম বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র ।

Published : February 24, 2026 at 7:45 PM IST
কলকাতা, 24 ফেব্রুয়ারি: কেরলের নাম পরিবর্তন নিয়ে কেন্দ্রের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই বিস্ফোরক মন্তব্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের । মঙ্গলবার নবান্নে নিজের ঘরে এক ভিডিয়ো বার্তায় তিনি সরাসরি অভিযোগ তোলেন, কেরলের নাম পরিবর্তন বাস্তবায়িত হল সিপিএম এবং বিজেপির মধ্যে বোঝাপড়া বা 'জোট' তৈরি হওয়ার কারণেই । তাঁর অভিযোগ, বিরোধী রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গকে বারংবার বঞ্চিত করা হচ্ছে । মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাংলা বিরোধী মানসিকতার কারণেই রাজ্যের নাম 'বাংলা' করার প্রস্তাব বছরের পর বছর ধরে আটকে রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার ।
উল্লেখ্য, বিরোধী ইন্ডিয়া শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী হল সিপিএম । বাংলার মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, বিধানসভা ভোটের আগে সিপিএমকে খুশি করতেই কেরলের নাম বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে । তাঁর মতে, সেই জায়গা থেকে এই জোট এখন আর অলিখিত নয়, বরং লিখিত জোট ।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন ভিডিয়ো বার্তায় নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, "আমি একটা জিনিস ভেবে অবাক হচ্ছি, সব জায়গার নাম বদল হয় রাজ্য সরকারের অনুমতি নিয়ে । কিন্তু বাংলায় দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ইংরেজি বর্ণমালার শেষের দিকে পড়ে থাকতে হয় কেন ? এর ফলে আমাদের রাজ্যের ছেলেমেয়েরা যখন সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে কোনও পরীক্ষা দিতে যায় বা ইন্টারভিউ দিতে যায়, রাজ্যের নাম অনুযায়ী তাদের সব থেকে শেষ বেঞ্চে বসতে হয় । এমনকী আমি যখন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কোথাও যাই, সেখানেও বর্ণানুক্রমিকভাবে আমাকে একদম শেষে সুযোগ দেওয়া হয় কথা বলার জন্য ।" এই বৈষম্য দূর করতেই রাজ্যের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে এদিন ফের জানান তিনি ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, বাংলার সংস্কৃতি, সভ্যতা এবং মনন শক্তিকে প্রাধান্য দিয়েই রাজ্যের নাম 'বাংলা' করার প্রস্তাব বিধানসভায় তিনবার পাশ করানো হয়েছে । তিনি বলেন, "একবার যখন আমরা প্রস্তাব পাঠালাম, তখন বলা হল বাংলা, হিন্দি এবং ইংরেজি - তিন ভাষাতেই নাম একই রাখতে হবে । আমরা সেই কথা মেনে ফের বিধানসভায় নতুন করে প্রস্তাব পাশ করালাম যে, সব ভাষাতেই নাম হবে 'বাংলা'। তা সত্ত্বেও কেন এই টালবাহানা ? আমি নিজে প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যতবার দেখা করেছি, বা ইস্টার্ন জোনাল কাউন্সিলের যত মিটিং হয়েছে, সব জায়গায় এই দাবি জানিয়েছি । কিন্তু ওরা আসলে বাংলা বিরোধী বলেই নামটা আটকে রেখেছে ।"
কেরলের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী এদিন জাতীয় রাজনীতিতে নয়া সমীকরণের ইঙ্গিত দেন । তিনি বলেন, "আমরা অন্য কোনও রাজ্যের বিরুদ্ধে নই, সব রাজ্যকেই ভালোবাসি । কিন্তু আজ দেখতে পাচ্ছি কেরলের নাম বদল নিয়ে কেন্দ্র নমনীয় হচ্ছে । কেন ? কারণ আজ কেরালায় সিপিএম-এর সঙ্গে বিজেপির একটা জোট গড়ে উঠছে । এটা আর অলিখিত জোট নয়, আজকের ঘটনায় প্রমাণ হয়ে গেল এটা একটা লিখিত জোট । এই জোটের ফসল হিসেবেই হয়তো ওরা নাম বদলের সুবিধা পাচ্ছে । কিন্তু বাংলা কেন বারবার এভাবে বঞ্চিত হবে ?" মমতার এই সরাসরি আক্রমণ বাম-বিজেপি উভয় শিবিরকেই অস্বস্তিতে ফেলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল ।
মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, ভোটের সময় তারা বাংলার মনীষীদের নাম নিয়ে আবেগ তৈরির চেষ্টা করে, কিন্তু কাজের বেলায় বাংলাকে অপমান করা হয় । তাঁর দাবি, রাজ্যের আবেগ এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থের চেয়েও কেন্দ্রের কাছে রাজনৈতিক সমীকরণ বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে । তবে তিনি আশাবাদী যে, আজ না হোক কাল, বাংলার এই দাবি আদায় হবেই ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, "একদিন তো আপনারা ক্ষমতা থেকে চলে যাবেন, তখন কিন্তু আমরা বাংলার এই নামটা ঠিকই আদায় করে নিয়ে আসব ।" কেরলের নাম বদলকে হাতিয়ার করে মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণ পশ্চিমবঙ্গ এবং জাতীয় রাজনীতির আঙিনায় এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিল ।

