ETV Bharat / politics

'দু-কান কাটার দল' বিজেপি, কমিশন আমাকে 'ঘেঁচু' করবে ! মিছিলের পর SIR-বাণ মমতার

যাদবপুরের এইটবি বাস স্ট্যান্ড থেকে হাজরা পর্যন্ত মিছিল করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ তাঁর পাশে মিছিলে ছিলেন দেব, সোহম, রচনা, সায়নীর মতো তারকা নেতা-নেত্রীরা ৷

ETV BHARAT
কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী (চিত্র: সোশাল মিডিয়া)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : January 9, 2026 at 6:37 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 9 জানুয়ারি: ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর নামে সাধারণ মানুষকে অহেতুক হেনস্তা করা হচ্ছে, এই অভিযোগে ফের কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার অবদান - একাধিক ইস্যুতে এদিন কেন্দ্রকে একহাত নেন তিনি । বিশেষত নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে তাঁর ‘ঘেঁচু’ মন্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে । মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, কমিশন তাঁকে নিয়ে কী ভাবল বা কী ব্যবস্থা নিল, তাতে তিনি বিন্দুমাত্র বিচলিত নন ।

শহরের বুকে মিছিল করার পর জনসভায় এদিন মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, এসআইআর সেন্টারে সাধারণ মানুষকে ডেকে পাঠানো হচ্ছে, অথচ তাঁদের জমা দেওয়া নথির কোনও প্রাপ্তি স্বীকার বা রিসিট দেওয়া হচ্ছে না । উলটে কাগজপত্রে ‘নট ফাউন্ড’ (Not Found) বা অদ্ভুত সব কারণ লিখে মানুষকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে । তাঁর প্রশ্ন, বিএলএ-1 এবং বিএলও-2রা যখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা করেছেন, তখন তাঁরা সব যাচাই করেছিলেন । তাঁরা পোলিং বুথেও থাকেন । তাহলে এখন নতুন করে মানুষকে কেন দৌড় করানো হচ্ছে ?

ETV BHARAT
শহরে মিছিল তৃণমূল নেত্রীর (নিজস্ব চিত্র)

এই প্রক্রিয়ায় মানবিকতার লেশমাত্র নেই বলে দাবি করে তিনি বলেন, 90 বছরের বৃদ্ধা, যাঁদের নাকে নল লাগানো বা অক্সিজেন চলছে, তাঁদেরও ডেকে পাঠানো হচ্ছে । অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের তিনতলায় উঠতে বাধ্য করা হচ্ছে । প্রশাসনের একাংশের এই ভূমিকায় তিনি লজ্জিত ও ক্ষুব্ধ । আমজনতার হয়রানির প্রসঙ্গ তুলে এদিন সরাসরি রাজনৈতিক আক্রমণে যান মমতা । কেন্দ্রীয় শাসকদলকে 'জুমলা পার্টি', 'ঝামেলার পার্টি' এবং 'হামলাকারী পার্টি' বলে তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি ।

তাঁর কথায়, "এরা অত্যাচারী, অনাচারী, দুরাচারী এবং স্বৈরাচারী ।" বিজেপিকে 'কানকাটা' ও 'দু-কানকাটার দল' বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, এমন রাজনৈতিক দল তিনি আগে কখনও দেখেননি । তাঁর মতে, স্বাধীনতার সময় যাঁদের জন্ম হয়নি, তাঁরাই আজ মহাত্মা গান্ধি, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরা বা আম্বেদকরের মতো মনীষীদের ভুলিয়ে দিতে চাইছে । স্বাধীনতা আন্দোলনে ফাঁসি হওয়া 600 জনের মধ্যে 590 জনই যে বাংলার, সেই পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, আজ বাংলা ভাষায় কথা বললেই মানুষকে বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে ।

ETV BHARAT
হাজরার সভায় মুখ্যমন্ত্রী (নিজস্ব চিত্র)

বাংলায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের অভিযোগ প্রসঙ্গেও এদিন পালটা যুক্তি ও ভূগোলের পাঠ দেন তৃণমূল সুপ্রিমো । তাঁর প্রশ্ন, মায়ানমার থেকে রোহিঙ্গারা যদি আসে, তবে তারা মণিপুর, নাগাল্যান্ড ও অসম হয়ে বাংলায় ঢোকে । তাহলে অসমে কেন এসআইআর হল না ? বাংলাদেশের বর্ডার তো অসমের সঙ্গেও রয়েছে । বাংলার উপরেই কেন এই বেছে বেছে হামলা ? তিনি দাবি করেন, এসবের একমাত্র উদ্দেশ্য হল বাংলার মানুষকে হেনস্তা করা এবং জোর করে ভোটযন্ত্র দখল করা । বিজেপি চব্বিশের নির্বাচনে কী করে জিতল, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং তাদের নৈতিক কারণে পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী ।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ শানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । ভোট চুরির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, "পরিষ্কার বলছি, নির্বাচন কমিশন আমাকে কী করবে ? ঘেঁচু করবে । ঘেঁচু মানে কী খুঁজে নিন । আমি নিজেও জানি না, ঘেঁচুর ইংরেজি করতে বললে পারব না ।"

অতীতের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আগেরবার তাঁকে 24 ঘণ্টা প্রচার করতে দেওয়া হয়নি, যার প্রতিবাদে তিনি গান্ধিমূর্তির পাদদেশে বসে ছবি এঁকেছিলেন । হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, তাঁকে একদিন আটকালে তিনি 100 দিনের রাজনৈতিক ফসল তুলে নেবেন । লোকসভা ভোটের পরবর্তী সময়ে এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই আগ্রাসী মনোভাব রাজ্য রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়াবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা ।

আরও পড়ুন: