ETV Bharat / politics

বারুইপুর-এনকাউন্টারকে 'সাজানো নাটক' বলছেন কীর্তি, 'উত্তরপ্রদেশ 2.0' কটাক্ষ মহুয়ার

মহুয়া মৈত্র সোশাল মিডিয়ায় কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিকে উত্তরপ্রদেশের সঙ্গে তুলনা করেছেন ।

ETV BHARAT
বারুইপুর-এনকাউন্টারকে সাজানো নাটক বলছেন কীর্তি, 'উত্তরপ্রদেশ 2.0' কটাক্ষ মহুয়ার (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : July 8, 2026 at 12:33 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা/দিল্লি, 8 জুলাই: রাজ্যে প্রথমবার ধর্ষণ কাণ্ডে পুলিশের এনকাউন্টার । বারুইপুরের 12 বছরের বালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে । মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বারুইপুর থানার অন্তর্গত সূর্যপুরে । সাতসকালে এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে প্রবল তোলপাড় শুরু হয়েছে । বাংলায় এহেন এনকাউন্টারের ঘটনা রীতিমতো নজিরবিহীন । বিরোধী তৃণমূলের সাংসদ মহুয়া মৈত্র পুলিশের এই ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন । সোশাল মিডিয়ায় কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিকে উত্তরপ্রদেশের সঙ্গে তুলনা করেছেন । এই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন কালীঘাট-পন্থী তৃণমূলের আরেক সাংসদ কীর্তি আজাদ ৷

ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্তের এই পরিণতি নিয়ে রাজ্য রাজনীতি এখন উত্তাল । তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র এদিন তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে । তিনি নিজের সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে লেখেন, "বারুইপুরের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল এনকাউন্টারে নিহত ! পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এটা হচ্ছেটা কী ? বাঙালিরা দয়া করে নতুন বেঙ্গল - উত্তরপ্রদেশ 2.0-কে স্বাগত জানান । বিজেপি কোনও সরকার নয় । এটি জঙ্গল রাজ্য ।"

মহুয়ার সুরেই এই ঘটনায় কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূলের আরেক সাংসদ কীর্তি আজাদ ৷ এই এনকাউন্টারকে সাজানো নাটক বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি ৷ সংবাদসংস্থা এএনআই-কে তিনি বলেন, "আপনারা কি জানেন প্রভাষ মণ্ডল কে? তিনি একজন বিজেপি কর্মী । তাদের সম্পর্কে অনেক গোপন তথ্য - তাদের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির খুঁটিনাটি - তাঁর জানা আছে । তিনি যাতে এই অভ্যন্তরীণ গোপন তথ্য ফাঁস করে না-দেন, তা নিশ্চিত করতেই 'এনকাউন্টার'-এর নাটক সাজানো হচ্ছে । আপনাদের হেফাজতে থাকা অবস্থায় কীভাবে এনকাউন্টার হতে পারে? তাঁকে তো নিশ্চয়ই নিয়ন্ত্রণে বা আয়ত্তের মধ্যে রাখা হয়েছিল । তাই, এ সবই নিছক প্রহসন - এর বেশি কিছু নয়...বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে এ ধরনের বহু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে...৷"

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত প্রায় পৌনে একটা নাগাদ বারুইপুর থানার তদন্তকারী আধিকারিক তাঁর দলবল নিয়ে অভিযুক্ত প্রভাসকে নিয়ে সূর্যপুরে যান । অপরাধের পুনর্নির্মাণের জন্যই তাঁকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল । পুলিশের দাবি, অপরাধের পুনর্নির্মাণ শুরু করার ঠিক আগেই আচমকা পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে । সুযোগ বুঝে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল এক পুলিশ কর্মীর হাত থেকে তাঁর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেন । এরপর তিনি পুলিশের দিকে তাকিয়ে এক রাউন্ড গুলি চালান এবং ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করেন ।

আত্মরক্ষার্থে এবং অভিযুক্তকে আটকাতে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায় বলে দাবি । পুলিশের ছোড়া সেই গুলিতেই গুরুতর জখম হন অভিযুক্ত প্রভাস । রাতেই তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় । সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন । পুরো বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ইতিমধ্যে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং নিয়ম অনুযায়ী তদন্তও শুরু হয়েছে ।

গত শনিবার বারুইপুর থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় ওই নাবালিকা । তদন্তে উঠে আসে এই নিখোঁজ রহস্যের শিউরে ওঠা তথ্য । পুলিশ জানতে পারে, এই প্রভাস মণ্ডলই নাবালিকাকে ভুল বুঝিয়ে একটি নির্জন ঝুপড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন । অভিযোগ, ঘটনার দিন আগে থেকেই সেই ঝুপড়িতে উপস্থিত ছিলেন আনন্দ, দিবাকর এবং আরও একজন । অভিযুক্তরা প্রথমে সেখানে বসে একসঙ্গে মাদক সেবন করেন । এরপর ওই নাবালিকার উপর চারজন মিলে অকথ্য শারীরিক নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ । গণধর্ষণের পর নাবালিকার গলায় পা তুলে দিয়ে তাকে নৃশংসভাবে খুন করা হয় । এরপর নাবালিকাকে অচেতন অবস্থায় ঘরের মধ্যে ফেলে রাখে অভিযুক্তরা ।

প্রমাণ লোপাটের চেষ্টাও করেছিলেন তাঁরা । গভীর রাতে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে নাবালিকাকে ফেলার চেষ্টা হয় । কিন্তু বস্তাটি ছিঁড়ে যাওয়ায় তাঁদের পরিকল্পনা ধাক্কা খায় বলে অভিযোগ । শেষমেশ ঘটনাস্থলের কাছেই একটি পুকুরে নাবালিকাকে ফেলে তার উপর ওই বস্তাটি চাপা দিয়ে দেওয়া হয় ।

এদিকে নাবালিকার খোঁজ শুরু হলে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয় । সেখানে প্রভাস মণ্ডলের সঙ্গে ওই নাবালিকাকে হেঁটে যেতে দেখা যায় । গত রবিবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ নির্যাতিতার দেহ উদ্ধার হয় । দেহ উদ্ধারের পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা । তাঁরাই সন্দেহভাজন হিসেবে প্রভাস মণ্ডল এবং আনন্দ সর্দারকে ধরে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যান । পরে এই মামলার মূল অভিযুক্ত হিসেবে আনন্দকে গ্রেফতার করা হয় । পুলিশের জেরার মুখে প্রভাস দাবি করেছিলেন, আনন্দ তাঁকে ওই মেয়েটিকে নিয়ে আসার জন্য দশ হাজার টাকা দেবে বলেছিলেন । টাকার লোভেই নাকি তিনি এই কাজ করেছেন ।