বিজেপি সাংসদের সম্পত্তির পরিমাণ জানতে RTI বামপন্থী শিক্ষকের
জগন্নাথ সরকারের সম্পত্তির পরিমাণ জানতে নদিয়ার জেলাশাসকের কাছে এই আবেদন করেছেন শান্তিপুর পুরসভার বাসিন্দা শ্যামলকুমার সাউ৷

Published : December 31, 2025 at 3:28 PM IST
কলকাতা, 31 ডিসেম্বর: বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারের সম্পত্তির পরিমাণ জানতে চেয়ে তথ্যের অধিকার আইনে (আরটিআই) আবেদন করলেন এক শিক্ষক৷ এক সময় সিপিআইএম-এর হয়ে ভোটের ময়দানে নামা ওই ব্যক্তির দাবি, 2024 সালের লোকসভা ভোটের পর থেকে এখনও পর্যন্ত অস্বাভাবিক ভাবে বেড়েছে জগন্নাথ সরকারের সম্পত্তি৷ তাই তিনি চান বিষয়টি সকলের সামনে আসুক৷
শ্যামলকুমার সাউ নামে ওই ব্যক্তির এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস৷ তাদের প্রশ্ন জগন্নাথ সরকারের সম্পত্তির হিসেব দেখাতে সমস্যা কোথায়? অন্যদিকে এই বিষয়টিকে রাজনৈতিক চক্রান্ত হিসেবেই দেখছেন বিজেপির এই সাংসদ৷
রানাঘাট লোকসভা আসন থেকে 2019 সালে প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বিজেপির জগন্নাথ সরকার৷ প্রথমবারই তিনি জয়ী হন৷ 2024 সালে তিনি সেই জয়ের ধারা অব্যাহত রাখেন৷ এর মাঝে 2021 সালের বিধানসভা নির্বাচনে শান্তিপুর থেকে জিতে বিধায়ক হন৷ পরে অবশ্য সেই পদ থেকে ইস্তফা দেন৷ নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবারই তিনি মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সম্পত্তির হিসেব-নিকেশ জমা দিয়েছেন হলফনামায়৷
শেষবার জমা দিয়েছেন 2024 সালে৷ কিন্তু শ্যামলকুমার সাউয়ের অভিযোগ, পরবর্তী দেড় বছরে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে জগন্নাথ সরকারের সম্পত্তি৷ তাই তিনি জানতে চান, বর্তমানে জগন্নাথ সরকারের সম্পত্তির পরিমাণ ঠিক কত৷ সেই কারণে সম্প্রতি নদিয়ার জেলাশাসকের দফতরে দশ পাতার একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন৷ তথ্যের অধিকার আইনেই তিনি এই আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন৷ সেখানে জগন্নাথ সরকারের পাশাপাশি সাংসদের আত্মীয়দেরও সম্পত্তির হিসেব চেয়েছেন তিনি৷
তিনি বলেন, ‘‘তিনি (জগন্নাথ সরকার) লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের কাছে যে হিসেব দিয়েছিলেন, তার থেকে তাঁর সম্পত্তি অনেক পরিমাণে বেশি। পাশাপাশি লোক মারফত এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমেও আমার বিষয়টি সন্দেহ হয়। সেই কারণে একজন নাগরিক হিসাবে আমার অধিকার আছে, একজন জনপ্রতিনিধির সম্পত্তি পরিমাণ কত সেটা জানার। সেই তাগিদে আমি একটি আবেদনপত্র জমা দিই।’’

শ্যামলকুমার সাউ আরও বলেন, ‘‘তবে এর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই। আমি আরও জানতে পারি বিভিন্ন জেলায় তাঁর নামে এবং বেনামে সম্পত্তি থাকতে পারে। আমি পরবর্তীকালে সেই সমস্ত জেলাগুলিতেও আরটিআই করব।’’ শ্যামল সাউ বিষয়টির সঙ্গে রাজনীতির যোগ নেই বলে জানালেও, তিনি জড়িয়ে রয়েছেন রাজনীতির সঙ্গেই৷ তিনি শান্তিপুর পুরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা৷ পেশায় শিক্ষক এই ব্যক্তি গত পুরসভা ভোটে ওই ওয়ার্ড থেকে সিপিআইএম-এর প্রার্থী হয়েছিলেন৷
ফলে এই বিষয়টির মধ্যে রাজনীতি রয়েছে বলেই মনে করছেন জগন্নাথ সরকার৷ তিনি বলেন, ‘‘এটা খুব ভালো খবর। আমার সম্পত্তির পরিমাণ কেউ জানতেই পারে। আমার যেটুকু সম্পত্তি রয়েছে, সেটুকু সম্পূর্ণ পৈত্রিক ভিটা। আমি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হওয়ার পর আমার সম্পত্তির পরিমাণ বাড়েনি। শুধুমাত্র ট্রাস্টের মাধ্যমে আমি অল্প একটু জমি কিনেছি।’’ নির্বাচনের আগে এই আবেদনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে মনে করছেন।
যিনি আবেদন করেছেন, তিনি বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত৷ যাঁর সম্পত্তির হিসাব সামনে আনার দাবিতে এই আরটিআই, তিনি বিজেপির সাংসদ৷ কিন্তু এই নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস৷ শাসক দলের নেতা সুব্রত সরকার বলেন, ‘‘বিজেপি আসলে একটা ফ্যাসিস্ট দল। এদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু করতে গেলে তাদের বিরোধী তকমা দিয়ে দেয়। সম্পত্তি জানার অধিকার একটি ভারতীয় সংবিধানের আইন রয়েছে। তাহলে আরটিআই আইনটি তুলে দিক দেশের সরকার। একজন জনপ্রতিনিধির কত সম্পদ রয়েছে, সেটা সাধারণ মানুষের জানার অধিকার রয়েছে।’’

