তৃণমূল সরকারে থাকলে বিজেপির সমস্যা হবে না, অমিত শাহকে পালটা জবাব বাম-কংগ্রেসের
মঙ্গলবার কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করেন অমিত শাহ৷ সেখানে বাম ও কংগ্রেসের সমালোচনা করেন তিনি৷

Published : December 30, 2025 at 9:27 PM IST
কলকাতা, 30 ডিসেম্বর: মঙ্গলবারের সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপির সেকেন্ড ইন কমান্ড অমিত শাহ দাবি করেছেন, আসন্ন নির্বাচনে বাংলার ক্ষমতায় আসছেন তাঁরা৷ এদিন তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়েই এবার ভোটের ময়দানে নামছে তাঁর দল৷ এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি কংগ্রেস ও বাম শাসন নিয়েও ওই দুই দলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন শাহ৷ তাঁর মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে বাম-কংগ্রেস নেতৃত্বের গলায়৷
এদিন শাহ 2014 থেকে 2024 সাল পর্যন্ত রাজ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনে বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ও আসন সংখ্যার হিসাবে তুলে ধরেন। বলেন, “শুরুতে মাত্র 17 শতাংশ ভোট এবং দুটি আসন পেয়েছিলাম৷ 2016 সালে 10 শতাংশ ভোট ও তিনটি আসন মেলে। 2019 সালে 41 শতাংশ ভোট পেয়েছে বিজেপি৷ পেয়েছে 16 আসন। 2021 সালে 38 শতাংশ ভোট পেয়ে 77 আসনে জয়লাভ করে। 10 বছরে বিজেপি এখানে তিন থেকে সাতাত্তরে এসেছে৷ অন্যদিকে, জাতীয় কংগ্রেস এই রাজ্যে শূন্য। বামেরা 34 বছর শাসন করলেও একটিও আসন পায়নি।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘2024 সালে বিজেপি 39 শতাংশ ভোট পেয়ে 12টি আসন পেয়েছে। 2026 সালের এপ্রিলে রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়বে। কংগ্রেস ও কমিউনস্টদের দীর্ঘ শাসনকালে কেউ ভাবেনি মসনদে বদল হবে৷ কিন্তু হয়েছে। উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টি ক্ষমতাচ্যুত হয়ছে। এখানেও তণমূল ক্ষমতাচ্যুত হবে। কমিউনিস্ট শাসন শেষ করে মানুষ ভেবেছিলেন সুশাসন পাবেন। কিন্তু তৃণমূলের লাগামহীন অত্যাচার, দুর্নীতি, সিন্ডিকেটরাজ কমিউনিস্ট শাসনকেও হার মানিয়েছে।”
অমিত শাহের মন্তব্যের পালটা জবাব দিতে ছাড়েনি সিপিআইএম-কংগ্রেস। সিপিআইএম-এর কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা শমীক লাহিড়ীর কথায়, “বোঝাপড়া করেই লড়ছে বিজেপি-তৃণমূল। কারণ, তৃণমূল সরকারে থাকলে বিজেপির সমস্যা হবে না। দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে বিজেপি। অমিত শাহের নেতারা মাথায় ইঁট নিয়েছেন রাম মন্দির করতে। জ্যোতি বসু সঠিক বলতেন, বিজেপি একটা বর্বরের দল। প্রতিবার ভোট এলেই রাজ্যের ক্ষমতায় আসছেন বলে দাবি করেন। সেটিং না থাকলে তৃণমূলের এত নেতা-মন্ত্রী জেলে গিয়ে আজ মুক্ত হল কী করে? বাকিরা বাইরে কেন? সেটিং আছে বলেই আবাস যোজনার দুর্নীতির কথা বলেও তারা আইনি পদক্ষেপ করেনি। শুধু তাই নয়, দেশে সংখ্যালঘুদের পিটিয়ে খুন করা হচ্ছে এদের মদতেই।”
প্রদেশ কংগ্রেস নেতা সুমন রায়চৌধুরীর প্রতিক্রিয়া, “এ’রাজ্যের সংস্কৃতির সঙ্গে বিজেপি কখনই খাপ খায় না। মনীষীদের অপমান করে, বাংলাকে ছোট করে তাঁরা বাংলার মানুষের মন জিততে পারবেন না। দেশে ডবল ইঞ্জিন সরকার অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু। সাম্প্রদায়িক হানাহানি চলছে। সেখানে এনকাউন্টারের সরকার চলে। রাজ্যে বদল হবে কি না, জনতা ঠিক করবেন। তবে এটা ঠিক, বিরোধী দল হিসাবে বিজেপি সেই সংখ্যায় আর পৌঁছোবে না।”

