ETV Bharat / politics

দিল্লিতে সার্কাস, বিজেপির সাজানো নাটক! ঋতব্রতদের বৈঠক নিয়ে কমিশনকে তোপ কুণালের

বিধানসভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন তিনি ।

ETV BHARAT
দিল্লিতে ঋতব্রতদের বৈঠক নিয়ে কমিশনকে তোপ কুণালের (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : July 2, 2026 at 6:17 PM IST

5 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 2 জুলাই: ​দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়ে নিজেদের 'আসল তৃণমূল' বলে দাবি করেছেন দলের 10 জন বিদ্রোহী বিধায়ক । আর এই ঘটনাকে বিজেপির সাজানো 'নাটক' এবং 'সার্কাস' বলে তীব্র কটাক্ষ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা কুণাল ঘোষ । মঙ্গলবার বিধানসভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন তিনি ।

কুণালের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিভ্রান্তি তৈরি করার জন্য কেন্দ্রীয় শাসকদলের মদতে এই গোটা প্রক্রিয়ার চিত্রনাট্য লেখা হয়েছে । জাতীয় নির্বাচন কমিশন এই নাটকে বিজেপির হয়ে কাজ করছে বলে দাবি তাঁর । কুণাল বলেন, "দিল্লিতে যে সার্কাসটা দেখা গেছে, তা সম্পূর্ণভাবে আমাদের প্রতিপক্ষ কেন্দ্রীয় শাসক দলের স্পনসর্ড একটা নাটক । নির্বাচন কমিশন এবং জ্ঞানেশ কুমার বাংলা ও তৃণমূল কংগ্রেসকে টার্গেট করে এই নজিরবিহীন কাজ করেছেন ।" যে কোনও সাধারণ মানুষকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে কমিশন বৈঠক করছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি ।

বিদ্রোহী বিধায়কদের দাবিকে নস্যাৎ করে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব নিয়মকানুনের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন কুণাল ঘোষ । তাঁর মতে, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী একমাত্র দলের অনুমোদিত প্রতিনিধিরাই কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করার অধিকার রাখেন । অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এমন কোনও বৈঠকের আবেদন করাই হয়নি । তাহলে কীসের ভিত্তিতে ওই 10 জন বিধায়ককে সময় দিল কমিশন, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তিনি ।

বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে সহজবোধ্য করতে তিনি বাড়িওয়ালা এবং ভাড়াটের উদাহরণ টানেন । কুণাল বলেন, "বাড়িওয়ালার যেমন নির্দিষ্ট অধিকার আছে, তেমনই ভাড়াটেরও কিছু অধিকার থাকে । কিন্তু ভাড়াটে তো কখনও নিজেকে আসল বাড়িওয়ালা বলতে পারে না । যে 10 জন দিল্লিতে গেছেন, তাঁদের তৃণমূলের বিধায়ক হওয়ার অধিকারটাই তো দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । তাঁদের সই করা ফর্ম এ এবং ফর্ম বি না-থাকলে তো এঁরা বিধায়কই হতে পারতেন না ।" দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদন ছাড়া কয়েকজন বিধায়ক কখনওই নিজেদের আসল দল বলে দাবি করতে পারেন না বলে তিনি জানিয়ে দেন ।

​মাত্র কয়েক মাস আগে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে জিতে এখন দলের বিরুদ্ধে যাওয়া এই বিধায়কদের 'গদ্দার' এবং 'বেইমান' বলে আক্রমণ করেছেন কুণাল ঘোষ । তাঁর অভিযোগ, এদের মধ্যে অনেকেই খুন বা বেআইনি সম্পত্তির মতো গুরুতর অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত । মুখ্যমন্ত্রীর কাছে খুনে নিহতের স্ত্রী যখন বিচার চাইছেন, তখন অভিযুক্ত নিজে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে বিজেপির ছাতার তলায় আশ্রয় নিচ্ছেন । এলাকায় আশি-নব্বইটি বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ থাকলেও পুলিশি পদক্ষেপ এড়াতে অনেকে শিবির বদল করছেন ।

কুণালের দাবি, "যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে কোটি কোটি মানুষ সাড়া দিয়েছেন, এত শহীদ, এত কর্মীর আবেগের ওপর ভর করে জিতে এই বেইমানরা এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিঠেই ছুরি মারতে নেমেছে । শুধুমাত্র বিজেপির হাতে তামাক খেয়ে ইলেকশন কমিশনের অপব্যবহার করা হচ্ছে ।" ভয় দেখিয়ে এবং প্রশাসনকে অপব্যবহার করে এই বিধায়কদের দলবদল করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও তাঁর দাবি ।

​দলত্যাগীদের একাংশের রাজনৈতিক অতীত টেনেও এদিন তীব্র সমালোচনা করেন কুণাল ঘোষ । বিশেষ করে একসময়ের সিপিএম নেতার 21 জুলাইয়ের শহীদ দিবস পালনের ঘোষণাকে তিনি চরম পাগলামি বলে আখ্যা দিয়েছেন । 1993 সালের 21 জুলাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মহাকরণ অভিযানে পুলিশের গুলিতে বেশ কয়েকজন যুব কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল । কুণাল স্মৃতিচারণা করে জানান, সেদিন আহত ও অচেতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি নিজে এবং সৌগত রায় গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন ।

সেই সময়ের কথা স্মরণ করিয়ে কুণাল বলেন, "চারদিন আগে সিপিএম করা লোক, যে দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লাঞ্ছিত করেছে, সে বলছে শহীদ দিবস পালন করবে ! এ তো পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে পায়ে ধরে তৃণমূলে এসেছিল । রাজনীতিটা আর কত নর্দমায় যাবে এই সুবিধাবাদীদের হাতে পড়ে ।" এই ধরনের সুবিধাবাদী নেতাদের আসল তৃণমূল দাবি করার কোনও নৈতিক অধিকার নেই বলেই মনে করেন তিনি ।

​দলের তহবিল বাজেয়াপ্ত করা এবং কিছু নেতার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও এদিন মুখ খোলেন কুণাল । 1998 সাল থেকে প্রতিষ্ঠিত তৃণমূলের মতো একটি সর্বভারতীয় দলের নিজস্ব তহবিল থাকাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক বলে তিনি উল্লেখ করেন । নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া সেই তহবিল আটকে দেওয়াকে তৃণমূলকে আর্থিকভাবে পঙ্গু করার বৃহত্তর চক্রান্তের অংশ বলেই মনে করছে দল । অন্যদিকে, দেবরাজ চক্রবর্তীর বিপুল সম্পত্তির অভিযোগ প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এর দায় সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ।

তিনি বলেন, "কেউ যদি বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি করে থাকে, তবে সেই সম্পত্তি কোথা থেকে এল তা তদন্তকারী সংস্থাকে জাস্টিফাই করার দায়িত্ব তাঁর নিজের । যে বিষয়ের সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই, তা নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না ।" অর্থাৎ, ব্যক্তি পর্যায়ের দুর্নীতির দায় দল যে কোনওভাবেই নেবে না, তা এদিন কুণাল ঘোষের কড়া বক্তব্যে অত্যন্ত পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে ।