সবুজ আবির বাঁচিয়ে রাখুন ! রং খেলে ভোট-বার্তা কুণালের
কুণাল বলেন, 'বিরোধী দলের নেতারা সাতসকালে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির কাছে গিয়ে হিন্দু জাগরণের নামে রাজনীতি করছেন । উৎসবের দিন অন্তত রাজনীতিটা দূরে রাখা উচিত ।'

Published : March 3, 2026 at 6:09 PM IST
কলকাতা, 3 মার্চ: রাজনীতির চেনা ময়দান থেকে একেবারে পাড়ার গলিতে । পরনে সাদা পোশাক, মাথায় ফেট্টি, মুখে আবির আর হাতে ক্রিকেট ব্যাট । দোল পূর্ণিমার সকালে এমনই মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ । শুকিয়া স্ট্রিট সংলগ্ন রামমোহন রায় রোডে পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে চুটিয়ে খেললেন গলি ক্রিকেট । সদ্য ভাঙা পা জোড়া লেগেছে, চিকিৎসকের কড়া বারণ রয়েছে দৌড়োদৌড়িতে । তবে উৎসবের দিনে চিকিৎসকের নির্দেশ মেনেই ব্যাট হাঁকালেন কুণাল । এই উৎসব থেকে সম্প্রীতির বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি নাম না-করে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তিনি ৷
এদিন নিজের এক্স হ্যান্ডেলে বিরোধীদের বার্তা দিয়ে দোলের শুভেচ্ছা জানান কুণাল ঘোষ ৷ তিনি লেখেন, "নীল, লাল, হলুদে দোল খেলুন । সবুজ আবির বাঁচিয়ে রাখুন । ভোটের ফলপ্রকাশের দিন বাংলাজুড়ে বিপুল পরিমাণে লাগবে ।"
নীল, লাল, হলুদে দোল খেলুন। সবুজ আবীর বাঁচিয়ে রাখুন। ভোটের ফলপ্রকাশের দিন বাংলাজুড়ে বিপুল পরিমাণে লাগবে। pic.twitter.com/eYLhKYhnN5
— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain) March 3, 2026
দোল মানেই রামমোহন রায় রোড এলাকায় এক আলাদা উন্মাদনা । কুণাল ঘোষ বরাবরই পাড়ার ছেলে হিসেবে পরিচিত । রাজনীতির শত ব্যস্ততার মাঝেও পাড়ার যে কোনও অনুষ্ঠানে তাঁকে স্বমহিমায় দেখা যায় । দোলের দিনের সকালটাও তার ব্যতিক্রম হল না । রামমোহন সম্মিলনী এবং তরুণ সংঘের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত পাড়া ক্রিকেটে এদিন মূল আকর্ষণ ছিলেন কুণাল ঘোষ নিজেই । কিন্তু তাঁর তো পা ভেঙেছিল দিনকয়েক আগেই ৷

সেই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুণাল হাসিমুখে জানান, "ভাঙা পা সবে জুড়েছে । কিন্তু পাড়ার এমন একটা দিনে কি আর ঘরে বসে থাকা যায় ! আমার চিকিৎসক ডা. সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে বলে দিয়েছেন যে, আমি ব্যাট বা বল করতে পারি ঠিকই, কিন্তু কোনওভাবেই রান নেওয়ার জন্য দৌড়াতে বা ফিল্ডিং করতে পারব না ।" চিকিৎসকের সেই পরামর্শ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন তিনি । রান নেওয়ার জন্য দৌড়াননি, তবে ব্যাট হাতে খেলেছেন একের পর এক বল ৷

রঙের উৎসব দোল বা হোলি আসলে মিলনের উৎসব । আর সেই মিলনের এক অনন্য ছবি এদিন দেখা গেল কুণাল ঘোষের পাড়ায় । বর্তমানে রমজান মাস চলছে । ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা রোজা রাখছেন । এই আবহে পাড়ার এক মুসলিম যুবক ফিরোজের কথা তুলে ধরেন কুণাল । তিনি বলেন, "আমাদের পাড়ার ছেলে ফিরোজ রোজা রেখেছে । ও নিজে সারাদিন জল পর্যন্ত খাবে না । কিন্তু সকালবেলা ও নিজের হাতে করে আমাদের সবার জন্য মিষ্টি নিয়ে এসেছে । এটাই তো আমাদের আসল সমাজ, আসল বাংলা । এখানে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে থাকে ।" উৎসবের দিনে এমন একটি উদাহরণ তুলে ধরে কুণাল যেন গোটা দেশকেই এক সম্প্রীতির বার্তা দিলেন ।

কিন্তু উৎসবের এই সুন্দর আবহের মাঝেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে তীব্র আক্রমণ করতে ছাড়েননি কুণাল ঘোষ । এদিন সকালেই ভবানীপুর এলাকায় দোল উৎসবের মধ্যে 'হিন্দু জাগরণ'-এর বার্তা দিতে দেখা গিয়েছিল বিরোধী শিবিরের এক শীর্ষ নেতাকে। এই প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন । তিনি বলেন, "দোল বা হোলি একটা আনন্দ উৎসব । এখানে মানুষে মানুষে মিলন হয় । কিন্তু বিরোধী দলের নেতারা সাতসকালে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির কাছে গিয়ে হিন্দু জাগরণের নামে রাজনীতি করছেন । উৎসবের দিন অন্তত রাজনীতিটা দূরে রাখা উচিত ।"
যাঁরা তৃণমূলকে 'হিন্দু বিরোধী' বলে তকমা দেওয়ার চেষ্টা করেন, তাঁদেরও এদিন কড়া জবাব দেন কুণাল ঘোষ । তিনি মনে করিয়ে দেন যে, তিনি নিজে সনাতন ধর্ম প্রচারিণী সভা এবং শ্রী শ্রী নগেন্দ্র মঠ ও মিশনের সহ-সভাপতি। তিনি বলেন, "আমরা মঠ-মিশন চালাই, পাড়ার সমস্ত মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে থাকি । কার ধর্ম কী, সেটা উৎসবের দিনে বিবেচ্য হতে পারে না । আমরা যেমন দোল খেলছি, তেমনই মুসলিম ভাইরাও রোজা রাখছেন এবং আমাদের উৎসবে সামিল হচ্ছেন । ধর্ম যার যার, উৎসব সবার - এটাই বাংলার আসল সংস্কৃতি ।"

