দিনভর বুথে বুথে নজরদারিতে বিকাশ-কলতানরা, আবেগে ভাসালেন তামান্না-জননী সাবিনা
উপনির্বাচনের হিংসায় কন্যা-হারা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, গতবার মেয়ের হাত ধরে ভোট দিতে গিয়েছিলাম, আজ ও নেই । ওর স্মৃতিটুকু নিয়েই লড়াই করছি ।

Published : April 29, 2026 at 7:07 PM IST
কলকাতা, 29 এপ্রিল: দ্বিতীয় দফার ভোটে সকাল থেকেই একদিকে বুথে বুথে প্রযুক্তিগত সমস্যার অভিযোগ, অন্যদিকে প্রার্থীদের সক্রিয় উপস্থিতি - এই দুইয়ের টানাপোড়েনেই এগোল ভোটের দিন । পানিহাটি বিধানসভার 14 নম্বর ওয়ার্ড-সহ একাধিক বুথে ইভিএম বিকলের অভিযোগে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন ভোটাররা । অনেকেই জানান, সকাল সকাল ভোট দিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। যদিও অভিযোগ পেতেই নির্বাচন কমিশনের তরফে বিকল্প ইভিএম এনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
এই আবহেই মাঠে সক্রিয় সিপিএম প্রার্থীরা । পানিহাটিতে প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত সকাল থেকেই 11, 12 ও 13 নম্বর ওয়ার্ডের একাধিক বুথ ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন । ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন তিনি। অন্যদিকে, যাদবপুর কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যও সকাল থেকেই বুথে বুথে ঘুরে দেখছেন ভোটের চিত্র । সম্মিলনী মহাবিদ্যালয়-সহ 109 নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন বুথে গিয়ে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি । সিপিএম সূত্রে দাবি, সব বুথেই তাঁদের এজেন্ট রয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত বড় কোনও অনিয়মের খবর মেলেনি ।
খিদিরপুরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম । ভোটের দিন দলীয় নেতৃত্বের এই সক্রিয় উপস্থিতি কর্মীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ জুগিয়েছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের ।
তবে দিনের আবেগঘন মুহূর্ত ধরা পড়ে কালীগঞ্জে । উপনির্বাচনের হিংসায় কন্যা তামান্নাকে হারানো সাবিনা ইয়াসমিন, যাঁকে সিপিএম 'শহিদ জননী' বলেই উল্লেখ করে, এ দিন নিজেই প্রার্থী হিসেবে ভোট দিলেন । বুথ থেকে বেরিয়ে কালি মাখা আঙুল তুলতেই আবেগে ভেঙে পড়েন তিনি । কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে তাঁর, "গতবার মেয়ের হাত ধরে ভোট দিতে গিয়েছিলাম, আজ ও নেই । ওর স্মৃতিটুকু নিয়েই লড়াই করছি ।"
2024 সালের 23 জুনের সেই ভয়াবহ দিন এখনও তাড়া করে ফেরে তাঁকে । তবু ব্যক্তিগত শোক সরিয়ে রেখে জয়ের লক্ষ্যে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন সাবিনা । এ দিন দমদম উত্তরের সিপিএম প্রার্থী দীপ্সিতা ধর ভোট দিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন নিজের ছবি । তাঁর বার্তা, "ভোট দিন বাঁচতে, তারা হাতুড়ি কাস্তে ।"
এদিকে দুপুর 3টে পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় ভোটদানের হার পৌঁছয় 78.68 শতাংশে, যা প্রথম দফার (78.77 শতাংশের) প্রায় সমান । জেলা অনুযায়ী সর্বাধিক ভোট পড়েছে পূর্ব বর্ধমানে, আর সর্বনিম্ন কলকাতা দক্ষিণে । যা উল্লেখ করে কলতান বলেন, "ভোটদানে বিপুল মানুষের উপস্থিতি থেকে স্পষ্ট আমরা অতীতের চেয়ে অনেক ভাল ফল করব ৷" কলতানদের আশা পূরণ হল কিনা, তা অবশ্য জানা যাবে 4 মে ভোট গণনার পরই ৷

