ETV Bharat / politics

জঙ্গলে নেহরুর মূর্তি ! দুর্গাপুরের ঘটনায় 'ইতিহাসের অবমাননা', সরব শুভঙ্কর

শুভঙ্করের কথায়, "রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীকে অপমান করার অধিকার কারও নেই ।"

Congress
সাংবাদিক বৈঠকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 30, 2026 at 5:26 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

দুর্গাপুর ও কলকাতা, 30 অগস্ট: দুর্গাপুরে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর মূর্তি উপড়ে জঙ্গলের মধ্যে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ল । ঘটনার তীব্র নিন্দা করে অবিলম্বে মূর্তি পূর্বের জায়গায় পুনঃস্থাপন এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানাল পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস । দলের রাজ্য সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এই ঘটনাকে শুধু একটি মূর্তির অবমাননা হিসেবে দেখতে নারাজ । তাঁর বক্তব্য, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য এবং আধুনিক ভারত নির্মাণের ইতিহাস ।

অভিযোগ, দুর্গাপুরের হর্ষবর্ধন প্রাথমিক স্কুল সংলগ্ন একটি মেডিটেশন সেন্টারের সামনে দীর্ঘ দিন ধরে থাকা নেহরুর মূর্তিটি ক্রেনের সাহায্যে তুলে সরিয়ে দেওয়া হয় । পরে সেটিকে পাশের জঙ্গলের মধ্যে ফেলে রাখা হয় বলে কংগ্রেসের অভিযোগ । ঘটনাটি সামনে আসতেই স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়ায় । প্রতিবাদে জেলা কংগ্রেস নেতৃত্ব বিক্ষোভ দেখায় এবং প্রশাসনের কাছে মূর্তিটি যথাস্থানে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানায় ।

জঙ্গলে নেহরুর মূর্তি ! দুর্গাপুরের ঘটনায় 'ইতিহাসের অবমাননা' (ইটিভি ভারত)

জেলা কংগ্রেস সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তীর অভিযোগ, বিজেপিই পরিকল্পিতভাবে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর মূর্তিকে অবমাননা করেছে ৷ তাঁর বক্তব্য, "এটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম, আমাদের ইতিহাস এবং দেশের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের প্রতি চরম অসম্মান ।" তাঁর প্রশ্ন, রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরোধিতা থাকতেই পারে, কিন্তু সেই বিরোধিতার প্রকাশ কি দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের মূর্তি ভাঙা বা সরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে হতে পারে ?

সরব প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্করও। তাঁর কথায়, "পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু শুধু কংগ্রেসের নেতা ছিলেন না । তিনি ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী, ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং আধুনিক ভারত নির্মাণের অন্যতম প্রধান স্থপতি ।" তাঁর অভিযোগ, নেহরুর মূর্তি উপড়ে জঙ্গলে ফেলে দেওয়া কোনও ভাবেই নিছক একটি মূর্তি সরানোর ঘটনা হতে পারে না ।

তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, নেহরুকে ঘিরে রাজনৈতিক মতপার্থক্য নতুন নয় । স্বাধীনতার পর দেশের নীতি নির্ধারণ থেকে অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, শিল্পায়ন- বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে । কিন্তু সেই রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং সাংবিধানিক গণতন্ত্রে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রশ্নটি রয়েছে বলেই মনে করছে কংগ্রেস।

শুভঙ্করের বক্তব্যেও সেই সুর। তাঁর কথায়, "রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীকে অপমান করার অধিকার কারও নেই ।" তাঁর অভিযোগ, ইতিহাসকে মুছে ফেলার চেষ্টা হলে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে প্রশাসন ও পুলিশের কাছে মূলত দু’টি দাবি জানানো হয়েছে, প্রথমত, নেহরুর মূর্তি অবিলম্বে যথাযথ সম্মানের সঙ্গে পূর্বের স্থানে পুনঃস্থাপন । দ্বিতীয়ত, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার ।

কংগ্রেসের হুঁশিয়ারি, এই দাবি পূরণ না হলে বিষয়টি নিয়ে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নামতে পারে দল । যদিও পুরো ঘটনার নেপথ্যে কংগ্রেসের গোষ্ঠীকোন্দল দেখছেন দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ তিনি বলেন, "মূর্তি সরানোর সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই ৷ এই ধরনের কাজকে বিজেপি সমর্থনও করে না ৷" তাঁর দাবি, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূলের অনেকে কংগ্রেসে ঢুকে ইস্যু তৈরি করে নিজেদের প্রাসঙ্গিক করতে চাইছেন ৷ এখন দেখার, পুলিশি তদন্তে কী উঠে আসে ৷

লম্বা ছুটি ! সেপ্টেম্বরের শুরুতেই টানা তিন দিন বন্ধ রাজ্যের সরকারি অফিস

E20 জ্বালানির দাপটে স্ক্র্যাপের মুখে 3 লক্ষ গাড়ি ! দ্রুত বদলাচ্ছে পুরনো গাড়ির হাট