সবুজ ফাইল পেলে, দিদি যাবে জেলে; মমতাকে কটাক্ষ দিলীপের
শনিবার ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে সভা করে বিজেপি৷ সেই সভা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেন বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷ ওই সভায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য৷

Published : January 10, 2026 at 9:18 PM IST
শিলিগুড়ি, 10 জানুয়ারি: উত্তরবঙ্গ সফরে নির্বাচনী প্রচারে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একহাত নিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও বিজেপি প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। শমীক ভট্টাচার্য অভিযোগ করলেন যে মমতার আমলে উত্তরবঙ্গ বঞ্চিত৷ অন্যদিকে আইপ্যাক-কাণ্ড নিয়ে মুখ্য়মন্ত্রীর উদ্দেশ্যে দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, ‘‘সবুজ ফাইল পেলে, দিদি যাবে জেলে৷’’
শনিবার ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির ফকদইবাড়িতে ঢাকেশ্বরী কালি মন্দির ময়দানে ‘পরিবর্তন সংকল্প সভা’র আয়োজন করা হয়েছিল। আর ওই সভাতেই যোগ দেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও দিলীপ ঘোষ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায়, বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ, শিখা চট্টোপাধ্যায়-সহ অন্যান্যরা। তবে এদিনের সভাতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও সিপিআইএম-কে একহাত নেন শমীক ভট্টাচার্য ও দিলীপ ঘোষ।
এদিনের সভা থেকে দিলীপ ঘোষ বলেন, "এবার পরিবর্তন হবেই। আর সময় নেই। ছাব্বিশ সাল ডেডলাইন। রাজ্যের অর্ধেকটা আগে হয়েছে। উত্তরবঙ্গে বিজেপির দখলে। এবার গোটাটা হবে। পাশে বাংলাদেশে কী হচ্ছে দেখুন। আচমকা এসে বসে পড়েছে ইউনুস সরকার। সেখানে কোনও আইন নেই। হিন্দু খুন হচ্ছে। ঠিক একই পরিস্থিতি হবে যদি রাজ্যে এবার পরিবর্তন আনতে না পারেন।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীও ইউনুসের মতো সরকার চালাতে চাইছে। তৃণমূল চুরি-ডাকাতি করে। তাদের দলের গুন্ডারা এসব করে আর সুরক্ষা দেয় পুলিশ। কেন্দ্রীয় সংস্থা, কেন্দ্রীয় কর্মীর কোনও সুরক্ষা নেই। আইপ্যাক দালালি করে। সেজন্য স্কুলের মেয়েদের মতো ফাইল নিয়ে গিয়েছেন।’’

দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘বালি চোর, মাটি চোর, চাকরি চোর দেখেছিলাম। এবার ফাইল চোর দেখলাম। আর সেটা সততার প্রতীক মুখ্যমন্ত্রী নিজে করেছেন। ‘সবুজ ফাইল পেলে, দিদি যাবে জেলে’। নিশ্চিত যাবে। সেই ব্যবস্থা হচ্ছে। এই রাজ্যকে পশ্চিম বাংলাদেশ বানানোর চক্রান্ত চলছে। আমরা পিছোতেই থাকব। আরও পাঁচ বছর দিদিকে দিলে আর রাজ্যকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। এখন পরিবর্তন করুন, তা না-হলে পরেরবার আর নির্বাচনই হবে না বলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।"

অন্যদিকে, একইভাবে আক্রমণ শানিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, "সিপিআইএমের আমলে ক্যাডার পোষণ হয়েছে। মানুষের অধিকারকে সুপরিকল্পিতভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একই কাজ করছে তৃণমূল। তৃণমূল দিকে দিকে বিজেপিকে আক্রমণ করছে। প্রত্যেক সভা করতে হাইকোর্টের দরজায় পৌঁছে দিয়েছে আমাদের। তৃণমূলের নির্দেশ যেভাবেই হোক একটা বুথে লিড দিতে হবে। একটা রাজনৈতিক দল এভাবে চলতে পারে না। এই দলটা 15 বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা বাংলার লজ্জা।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীকে তুই বলে সম্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ভাষায় এর আগে কোনও মুখ্যমন্ত্রী আক্রমণ করেনি। রাজনৈতিক ভাষা সন্ত্রাস এসেছে বাংলায়। প্রধানমন্ত্রী আবাস, গ্রামের সড়ক যোজনার টাকা বন্ধ করেছে। এটাকা গরিব মানুষের টাকা। এই সরকারের কেন্দ্রের টাকা নেওয়ার মধ্যে পড়ে৷ কিন্তু হিসাব দেওয়ার মধ্যে পড়ে না। কোচবিহারের পুলিশ ব্যস্ত ছিল গাঁজা চাষে। শিলিগুড়ির পুলিশ ব্যস্ত জমি কবজা করে জমি বিক্রির জন্য। শিল্পপতিরা তোলার কারণে চলে যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন নাকি শিল্প আর কৃষি, হাসি আর খুশি, দুই বোন। পাহাড়ে গিয়ে মোমো বানিয়েছেন, নেচেছেন। কিন্তু উন্নয়ন হয়নি।’’

বিজেপির রাজ্য সভাপতি আরও বলেন, ‘‘বঞ্চিত উত্তরবঙ্গ। উত্তরবঙ্গের চোখের জল মুছতে এগিয়ে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তরকন্যা বানিয়েছিলেন। বরাদ্দ করেছেন। কিন্তু উত্তরবঙ্গের ওই বরাদ্দে জল গরম হয় না। মুখ্যমন্ত্রী মেসির সঙ্গে নেমে পড়েনি আমাদের কপাল ভালো। মুখ্যমন্ত্রী ভালো ড্রিবল করতে পারেন। আমাদের দাবি ভোটার লিস্টে শুদ্ধিকরণ চাই। রোহিঙ্গারা বিলীন হয়ে যাবে ভোটার লিস্টে। এই সরকার নদির গতিপথ বদলে দিয়েছে। অর্কিড লুঠ করেছে। প্রকৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে এই সরকার। রেলের 43টা প্রকল্প বাস্তবায়িত করা যাচ্ছে না রাজ্যের জন্য।"

