'SIR-এ নাম বাদ গেলে সোজা NRC ডিটেনশন ক্যাম্পে', ভয় দেখানোর অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে
এসআইআর-এ নাম বাদ গেলে এনআরসি-র ডিটেনশন ক্যাম্পে ঢুকিয়ে দেওয়ার ভয় বিএলও-দের কাজে বাধা দিতে বলার অভিযোগ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ৷

Published : November 2, 2025 at 8:35 PM IST
বামনগাছি (উত্তর 24 পরগনা), 2 নভেম্বর: SIR নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক তরজার মাঝেই নয়া বিতর্ক ৷ এবার বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করার নিদান দেওয়ার অভিযোগ বারাসত সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি তাপস দাশগুপ্তর বিরুদ্ধে ৷ ভোটার তালিকায় নাম বাদ গেলে NRC ডিটেনশন ক্যাম্পে ঢুকিয়ে দেওয়া হবে, এমন প্রচার চালানোর নির্দেশ দিলেন ওই তৃণমূল নেতা ৷
রবিবার উত্তর 24 পরগনার বামনগাছিতে এক রক্তদান শিবিরে থেকে দলের মহিলা কর্মীদের এমনই বার্তা দিয়েছেন এই আইএনটিটিইউসি নেতা ৷ শুধু বাড়ি-বাড়ি গিয়ে মহিলাদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়ার নিদান নয় ! ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (SIR)-তে যুক্ত বিএলও-দের কাজ করতে না-দেওয়ার কথাও বলতে শোনা যায় তাঁকে ৷ মঞ্চে দাঁড়িয়ে SIR চালুর আবহে তাঁর এই 'ভয়ের নিদান' ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক ৷ পাল্টা গেরুয়া শিবির SIR নিয়ে সুর চড়িয়েছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ৷
রক্তদান শিবিরের মঞ্চ থেকে SIR নিয়ে নেতিবাচক প্রচার আইএনটিটিইউসি নেতার !
তাপস দাশগুপ্তকে বলতে শোনা যায়, "আগামী 4 নভেম্বর থেকে শুরু হতে চলেছে SIR-র কাজ ৷ এখানে দলের যে সমস্ত মহিলা কর্মীরা এসেছেন তাঁদের বলব, SIR নিয়ে যদি আপনাদের কোথাও বুঝতে অসুবিধে হয় তাহলে আইএনটিটিইউসি অথবা তৃণমূল কংগ্রেস করে এমন নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন ৷ ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ গেলে আপনাকে কিন্তু NRC-র নামে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হবে ৷ সেটা যাতে না-হয়, দেখতে হবে দলের মহিলা কর্মীদের ৷ আগ বাড়িয়ে নিজে থেকে কোনও সময় ফর্ম ফিলাপ করবেন না ৷ ফর্ম ফিলাপ করার আগে দলের সঙ্গে আলোচনা করে নেবেন ৷ এখানে কোনও এনআরসি হবে না ৷ আপনি ভারতের নাগরিক কি না, সেটাও প্রমাণ করতে হবে না ৷ আমরা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে ভোটার লিস্টে নাম তুলব ৷ বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেসের থেকে সাবধানে থাকবেন ৷ এই তিন দলই একে অপরের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে ৷"

এর পরেই দলের মহিলা নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে এই আইএনটিটিইউসি নেতার নিদান, "যত পারবেন মহিলাদের নিয়ে বাড়ি-বাড়ি যান ৷ শুধু দেখে নেবেন সেই সময় বাড়িতে পরিবারের মহিলা সদস্য আছেন কি না ৷ থাকলে বাড়ির রান্নাঘরে ঢুকে গিয়ে গল্পের ছলে ভোটার তালিকার প্রসঙ্গ তুলবেন ৷ বলবেন বিজেপি ভোটার লিস্ট থেকে আপনার নাম বাদ দিয়ে এনআরসি নামে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে ৷ এই দায়িত্ব মহিলা কর্মীদেরই নিতে হবে ৷ পুরুষদের দিয়ে এই কাজ সম্ভব নয় ৷ যদি একবার বাড়ির মহিলাদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দিতে পারেন, তাহলেই দেখবেন আতঙ্কে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিচ্ছেন ওই মহিলা ৷"
বিএলওদে'র হুঁশিয়ারি দিয়ে বারাসত সাংগঠনিক জেলার আইএনটিটিইউসি সভাপতি তাপস দাশগুপ্ত বলেন, "ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধনী (SIR)-র কাজে যুক্ত বিএলওদে'র পিছনে লাগতে হবে ৷ তাঁরা যদি নিরপেক্ষভাবে কাজ করেন তাহলে ভালো কথা ৷ তা না-হলে তাঁদের কাজ করতে দেওয়া হবে না ৷"
আইএনটিটিইউসি নেতার এই বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে যথারীতি শোরগোল পড়ে গিয়েছে জেলার রাজনৈতিকমহলে ৷ বিরোধীরা এক সুরে শাসক শিবিরকে পাল্টা কটাক্ষ করেছে ৷ বিশেষ করে গেরুয়া শিবির SIR-আতঙ্ক নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে ৷
এই বিষয়ে বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য তাপস মিত্র বলেন, "তাপস দাশগুপ্ত'র মন্তব্য থেকে স্পষ্ট SIR আতঙ্কে ভুগছেন তৃণমূলের প্রথম সারির নেতা থেকে নিচু তলার নেতারা ৷ তাঁরা বুঝে গিয়েছে 26-র বিধানসভা ভোটে আর ভুয়ো ভোটার দিয়ে ক্ষমতায় আসা যাবে না ৷ সেই কারণে এই ধরনের উল্টোপাল্টা কথাবার্তা বলে মানুষের মধ্যে ভয়ভীতি তৈরি করার চেষ্টা চলছে ৷ আমি সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন করব, যাঁরা বৈধ নাগরিক তাঁদের একজনের নামও SIR তালিকা থেকে বাদ যাবে না ৷ এ নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হবেন না ৷ তৃণমূলের অপ্রচারে কান দেবেন না কেউ ৷"
যদিও, নিজের বক্তব্যে অনড় আইএনটিটিইউসি নেতা তাপস দাশগুপ্ত ৷ তিনি পরে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "SIR নিয়ে মানুষ আতঙ্কে রয়েছে ৷ বিশেষ করে মহিলারা ভীষণ আতঙ্কিত ৷ তাই বাড়ি-বাড়ি গিয়ে দলের মহিলা কর্মীদের পাশে থাকার নিদান দিয়েছি ৷ আমরা সব সময় আতঙ্কিত পরিবারের পাশে আছি ৷ বিএলও-রা নিরপেক্ষভাবে কাজ করুক কোনও সমস্যা নেই ৷ কিন্তু, দলবাজি করলেই বাংলায় রক্ত গঙ্গা বইবে ৷"
অন্যদিকে,এদিনই বারাসতের হৃদয়পুর স্টেশন চত্বরে বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু শরণার্থীদের সাহায্যে সিএএ ক্যাম্প করে গেরুয়া শিবির ৷ যার বিরোধিতায় পথে নামে তৃণমূল কংগ্রেস ৷ ক্যাম্পের সামনেই টোটো-তে মাইক বেঁধে বিজেপির CAA ক্যাম্পে না-যাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানায় শাসকদল ৷ এই ঘটনাকে ঘিরে রবিবার সরগরম হয়ে ওঠে হৃদয়পুর স্টেশন চত্বর ৷

