'বিজেপি-তৃণমূলের কাঠের পুতুল হুমায়ুন !' বাবরি মসজিদ ইস্যু ছাব্বিশে কতটা প্রভাব ফেলবে
হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে কী বলছে বিরোধীরা ? শাসকদলেরই বা কী অভিমত ? অনুসন্ধান ইটিভি ভারতের ৷

Published : December 9, 2025 at 7:33 PM IST
মালদা, 9 ডিসেম্বর: গাছের শিকড় মাটির নীচে ছড়িয়ে পড়ে বহুদূর পর্যন্ত ৷ কোন শিকড় থেকে গাছ কতটা রস সংগ্রহ করে উপর থেকে বোঝা অসম্ভব ৷ বাংলার রাজনীতিতে প্রায় একই অবস্থান তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের ৷ কখন কোন দল করেছেন, কোন দল থেকে কতখানি সুবিধে পেয়েছেন, তা জানতে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদেরও মাথার ঘাম পায়ে পড়ে যেতে পারে ৷ বর্তমানে তাঁর বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণায় তপ্ত বাংলার রাজনীতি ৷ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের অভিমুখ নির্ধারণে এই ইস্যু কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েই চর্চা চলছে সর্বত্র ৷
এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে হুমায়ুনই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ৷ গত শনিবার রেজিনগরে 'বাবরি' মসজিদের শিলান্যাস করে রাজ্য রাজনীতিতে ঝড় তুলেছেন তিনি ৷ একইসঙ্গে, হুমকি দিয়ে রেখেছেন, নতুন দল গঠন করে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ময়দানে নামার ৷ শুধু তিনি একা নন, তাঁর দলের হয়ে অনেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৷ জোট গঠনের জন্য ইতিমধ্যে এআইএমআইএম-এর সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে ৷
তার সঙ্গেই জানিয়ে রেখেছেন, তিনি এবং তাঁর দলের প্রার্থীরা দুটি কেন্দ্রে জয় পেলেই দিদি (তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) জামাই আদরে তাঁকে দলে ফিরিয়ে নেবেন ৷ তাঁর এসব মন্তব্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, রেজিনগরে বাবরি মসজিদের শিলান্যাস ছাব্বিশের নির্বাচনে পাশের জেলা মালদা-সহ গোটা রাজ্যে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে ? হুমায়ুনের এই নীল নকশার পিছনে আদপে কার মাথা ? এনিয়ে কী বলছে বিরোধীরা ? রাজ্যের শাসকদলেরই বা বক্তব্য কী ? এসবেরই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করল ইটিভি ভারত ৷
মোগল যুগের পর কে এই হুমায়ুন ? 2011 সালের বিধানসভা নির্বাচনে হুমায়ুন কবীর কংগ্রেসের টিকিটে লড়াই করে জিতেছিলেন ৷ ভোটে জেতার পরপরই তিনি ঘাসফুল শিবিরে যোগ দেন ৷ এরপর তিনি নির্দল হয়ে যান ৷ পরে আবারও তৃণমূলে যোগ দেন ৷ 2019 সালে মুকুল রায় তৃণমূল ভাঙিয়ে তাঁকে বিজেপিতে নিয়ে যান ৷ বিজেপির হয়ে লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেন ৷ ভোটে হেরে পরের বছর ফের ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখান ৷ একুশের নির্বাচনে ঘাসফুলের প্রার্থী হয়ে ভোটেও জেতেন ৷

তাই রাজনৈতিক মহল বলছে, রং বদলের খেলায় হুমায়ুনের জুড়ি মেলা ভার ৷ তবে তাঁর বাবরি মসজিদের শিলান্যাস, 22 ডিসেম্বর নতুন দল গড়া, ভোটে লড়া, মিমের সঙ্গে হাত মেলানোর কৌশল নিয়ে দুই ফুল একে অন্যের দিকে আঙুল তুলছে ৷ কিন্তু এই কৌশলে হুমায়ুন কার ক্ষতি করবেন, কাকেই বা লাভের অংশ দেবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয় ৷
গত শনিবার হুমায়ুনের প্রস্তাবিত মসজিদের শিলান্যাসে মালদার অনেক মানুষকেও মাথায় ইট বয়ে নিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে ৷ শুধু মালদাই বা কেন, সেদিন রাজ্যের বিভিন্ন জেলার সংখ্যালঘু মানুষজন রেজিনগরে উপস্থিত ছিলেন ৷ এতে পরিষ্কার বোঝা যায়, অযোধ্যার বাবরি মসজিদের কতটা প্রভাব রাজ্যের সংখ্যালঘু মানুষের মনের গভীরে থেকে গিয়েছে ? সংখ্যালঘু সমাজের অনেকে এমনও বলছেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী দিঘায় জগন্নাথ মন্দির তৈরি করেছেন ৷ উত্তরবঙ্গে মহাকাল মন্দির তৈরি করছেন ৷ তাঁর গলায় এখন রাম মন্দির নির্মাণের কথাও শোনা যাচ্ছে ৷ কিন্তু নিজেকে সব ধর্মের রক্ষাকর্ত্রী দাবি করলেও এখনও তিনি রাজ্যে বাবরি মসজিদ তৈরির ঘোষণা করেননি কেন ? ঠিক সেই জায়গাতে ঘা দিয়েই সংখ্যালঘুদের পূর্ণ সমর্থন পাওয়ার কৌশল নিয়েছেন হুমায়ুন ৷
মুর্শিদাবাদের ঠিক পাশের জেলা মালদা ৷ দুই জেলার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলও অনেকাংশে এক ৷ দুই জেলাই মুসলিম অধ্যুষিত ৷ সেক্ষেত্রে হুমায়ুনের এই নকশা আসন্ন নির্বাচনে মালদায় কতটা প্রভাব ফেলতে পারে ৷ রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও কি এর কোনও প্রভাব পড়বে ? এনিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিজেপির দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলছেন, "এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম থেকেই চেষ্টা ছিল ৷ সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী, ফিরহাদ হাকিমদের কাছ থেকে সেই ব্যাটন এবার নিয়েছেন মুর্শিদাবাদের এই মুসলিম নেতা ৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখেই এসব করার চেষ্টা করছেন হুমায়ুন ৷ দিঘায় মন্দির, এখানে এটা, ওখানে সেটা করা, এসব তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই শুরু করেছেন ৷ দিঘায় যখন তিনি মন্দির করেছিলেন তখন সবাই বলেছিল, মন্দির হলে মসজিদ কেন করা হবে না ৷ তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কৌশল করে নিজে না-করে হুমায়ুন কবীরকে দিয়ে মসজিদ করার পরিকল্পনা করেছেন ৷"
তিনি আরও বলেন, "এতদিন হুমায়ুন যা যা বাজে কথা বলেছেন, তা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও ব্যবস্থা নেননি ৷ বিহার নির্বাচনের পর কালিয়াচক-সুজাপুরের মানুষও এখন বিজেপিকে সমর্থন করতে শুরু করেছেন ৷ সংখ্যালঘু মানুষজন এখন বলতে শুরু করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এতদিন তাঁদের বিজেপির জুজু দেখিয়ে ভুল বুঝিয়ে এসেছেন ৷ এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কানে গিয়েছে ৷ তিনি জানেন, হিন্দু ভোট তিনি পাবেন না ৷ এখন মুসলমানরাও বুঝে ফেলেছেন, তাঁদের প্রকৃত কোনও কাজে মমতা আসেননি ৷ আর হুমায়ুন বলেই দিয়েছেন, দুটো আসনে জিতে দিদির কাছে গেলে দিদি তাঁকে ভালোবেসে দলে নিয়ে নেবেন ৷ অর্থাৎ দিদির সঙ্গে বসেই তিনি সম্পূর্ণ সেট আপ করেছেন ৷ এভাবে মুসলিম ভোট একত্রীকরণ করে ভোটের মুখে এই হুমায়ুন কবীর ফের পালটি খাবেন ৷ পালটি খাওয়াই তাঁর কাজ ৷ মমতার মতো হুমায়ুনও মুসলিম সমাজকে বোকা বানিয়ে মুর্শিদাবাদে নিজের ব্যবসা চালাচ্ছেন ৷ কিছু বুদ্ধিজীবী মুসলমান বিষয়টি ধরে ফেলেছেন ৷ কিন্তু এসব করে কিছু লাভ হবে না ৷"
কংগ্রেসের জেলা সহসভাপতি মোত্তাকিন আলমের বক্তব্য, "হুমায়ুন কবীর নির্দল হিসেবে রাজনীতিতে এসেছে ৷ এরপর তৃণমূলে গিয়েছে ৷ তৃণমূল থেকে কংগ্রেসে গিয়েছে ৷ কংগ্রেস থেকে আবার তৃণমূলে গিয়েছে ৷ তৃণমূল থেকে বেরিয়ে আবার বিজেপিতে গিয়েছে ৷ সেই ব্যক্তি বাবরি মসজিদ নির্মাণ করবেন বলছেন ৷ মন্দির, মসজিদ, গির্জা তৈরি যে কেউ করতে পারেন ৷ যার যা ধর্মবিশ্বাস তা করতে কোনও বাধা নেই ৷ প্রশ্নটা হল, এটা নির্বাচনের আগে কেন ? একদিকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মন্দির তৈরি করছেন ৷ আরেকদিকে বিজেপি সরকার তারা মন্দির তৈরি করছে ৷ এখন হুমায়ুন কবীর বাবরি মসজিদ তৈরি করছেন ৷ এই সবকিছু 2026-এর আগেই কেন ?"

তাঁর কথায়, "অনেকে বাবরি মসজিদ তৈরিতে অনেক টাকা দান করেছেন ৷ বাংলার রাজনীতিতে আমরা দেখছি যে, মন্দির-মসজিদ নিয়ে প্রতিযোগিতা হচ্ছে ৷ স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে, কিন্তু আমরা দেখছি না যে রাজনৈতিক দলগুলো এই নিয়ে দাপাদাপি করছেন ৷ মানুষ পরিষেবা পাচ্ছেন না ৷ বিজেপি ও তৃণমূল এখন সাম্প্রদায়িক শক্তিতে পরিণত হয়েছে ৷ এই দুই শক্তিকে হারানোর জন্য মানুষ একটা রাস্তা খুঁজছেন ৷ এটা পরিষ্কার হয়েছে বাংলার মাটিতে ৷ কংগ্রেস সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে এসেছে ৷ বিভিন্ন দল বাংলায় ঘাঁটি গাড়ার চেষ্টা করছে ৷ সবাইকে বলব, বিজেপি ও তৃণমূল এই দুই চরম শক্তিকে যদি বাংলা থেকে উৎখাত করতে হয়, তাহলে জাতীয় কংগ্রেসের হাত ধরতে হবে ৷"
মালদা জেলা সিপিআইএমের সভাপতি তথা প্রাক্তন সম্পাদক অম্বর মিত্র এবিষয়ে বলেন, "বাবরি মসজিদ ধ্বংস হয়েছিল 1992 সালের 6 ডিসেম্বর ৷ তারপর 33-34 বছর কেটে গিয়েছে ৷ গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে ৷ হুমায়ুন কবীর দল পালটানোতে সিদ্ধহস্ত, কখন তিনি কোন দলে আছেন কেউ জানেন না ৷ সেই হুমায়ুন কবীরকে বাবরি মসজিদ তৈরি করতে এত কোটি কোটি টাকা কে জোগাচ্ছে, এটাও একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন ৷ গত লোকসভা নির্বাচনেও আমরা এই হুমায়ুন কবীরকে দেখেছি ৷ রাজনৈতিক মঞ্চে তাঁর ভূমিকা দেখেছি ৷ আমাদের পরিষ্কার বক্তব্য, এটা ঘৃণ্য রাজনীতি ৷ সংখ্যালঘু মানুষ তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, তারা তৃণমূল ও বিজেপির বোঝাপড়ার রাজনীতি বুঝতে পারছে, সেই কারণেই এই রাজ্যে কোনও মামলারই সঠিক বিচার কেউ দেখতে পান না ৷ আরজি কর, সারদা, নারদা - সব ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলো একটা জায়গা পর্যন্ত পৌঁছে নিজেদের গুটিয়ে নেয় ৷ কোনও তদন্তই আর এগোয় না ৷"

তাঁর দাবি, "এই কারণেই রাজ্যের অধিকাংশ মানুষ বুঝতে পারছেন, বিজেপির সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষ্কার বোঝাপড়া রয়েছে ৷ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে ৷ তাদের রাজনৈতিক চেতনাকে ছোট করে দেখা হচ্ছে ৷ বাংলার মানুষ অনেক সচেতন ৷ তাঁরা বুঝতে পারছেন ৷ কারা পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছেন ৷ একটা অংশের মানুষকে বিভ্রান্ত করা, ভুলপথে চালিত করার জন্য হুমায়ুন কবীরকে পথে নামানো হয়েছে ৷ কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসকদল হুমায়ুন কবীরকে কাঠের পুতুলের মতো নাচাচ্ছে ৷ তিনি নিজেই বলেছেন, বিধানসভা ভোটের পর তিনি আবার তৃণমূলে ফিরে যাবেন ৷ তিনি বিজেপি হয়েছেন, তৃণমূল হয়েছেন, তিনি কংগ্রেস ছিলেন, নির্দল হয়েছেন ৷ এটা তো রাজনৈতিক চৌর্যবৃত্তি ৷ তৃণমূল কংগ্রেস দিশেহারা হয়েই এসব করছে ৷"
মালদা জেলা তৃণমূল সহসভাপতি শুভময় বসু বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন ভোটের প্যাটার্ন, যেমন লোকসভা, বিধানসভা ও স্থানীয় ভোটে সবসময়ই আলাদা ৷ হুমায়ুন কবীরকে নিয়ে কোনও কথা বলতে চাই না ৷ তাঁর মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের যদি ট্র্যাক দেখেন, তাহলে দেখবেন, সেটা খুব সরল জায়গায় নেই ৷ তিনি কংগ্রেসের বিধায়ক হয়েছিলেন ৷ অধীর চৌধুরীর ডানহাত ছিলেন ৷ শোনা যায়, অধীরের হয়ে ব্যবসাটা উনিই দেখতেন ৷ 2013 সালে তিনি কংগ্রেস ত্যাগ করে তৃণমূল মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হলেন, পদত্যাগ করে ভোটে দাঁড়ালেন আবার হারলেন ৷ তারপর কিছুদিন তৃণমূল করে আবার বিজেপিতে চলে গিয়েছিলেন ৷ তারপর লোকসভায় লড়লেন ৷ বিজেপিতে থাকতে থাকতে আবার তিনি তৃণমূলে এলেন ৷ তৃণমূল তাঁকে ভরতপুরের বিধায়ক করল ৷ দীর্ঘদিন ধরে দলের লাইনের বাইরে কথা বলছিলেন, দল তাঁকে অনেক সুযোগ দিয়েছিল ৷ তিনি সুযোগ রক্ষা করেননি ৷"

তাঁর কথায়, "ভোটের আগে তাঁর গোপন এজেন্ডায় তিনি সাময়িক সাকসেস হয়েছেন ৷ অযোধ্যায় যখন এটা হয়েছিল, তখন গোটা ভারতবর্ষ তার নিন্দা করেছিল ৷ ফলে এটা স্বাভাবিক, কিছু ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে একটা ভাবাবেগ থাকবে ৷ সেই ভাবাবেগে আমরা কিছু ছবি দেখেছি ৷ ইট গেছে, টাকা গেছে ৷ আমার মতে, আসন্ন ভোটের দিকে তাকিয়ে বিজেপির এটা গোপন এজেন্ডা ৷ বিজেপি এভাবে হিন্দু ভোট সুসংহত করার একটা চেষ্টা করছে ৷ আর মুসলিম ভোট যেহেতু সরকারের পক্ষে রয়েছে, কারণ আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্র থেকে শুরু করে সর্বত্র আমাদের মুখ্যমন্ত্রী এখানে সবাইকে নিয়ে চলার চেষ্টা করেছেন, তাই এই জায়গাটাতে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা ৷"
একথা বলে তৃণমূল নেতার আবেদন, "কেউ এই ভোটে কালিদাস হতে যাবেন না ৷ কালিদাস হলে ভোট ভাগ হয়ে সাম্প্রদায়িক শক্তি পশ্চিমবাংলায় রাজ করার চেষ্টা করবে ৷ যেভাবে ওরা ঘেরার চেষ্টা করছে গোটা ভারতকে ৷ গীতাপাঠ তো বাড়িতেও করা যেত ৷ 6 তারিখ বাবরি মসজিদের শিলান্যাস মুর্শিদাবাদে, সাত তারিখে ব্রিগেডে গীতাপাঠ করতে হবে লোককে নিয়ে ৷ আবার ফেব্রুয়ারিতে উনি কোরান তেলাওয়াত করবেন রেজিনগরে ৷ এভাবে পলিসি করে একটা উন্নয়নমূলক সরকারকে ফেলে দেওয়ার একটা চক্রান্ত ৷ SIR নিয়েও অমিত শাহ ভেবেছিল, বাধা দিলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করবে ৷ অনেক চক্রান্ত চলছে ৷ পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্বের কারবার করা খুবই কঠিন হবে ৷ এখানে উগ্রবাদ করে হিন্দু বা মুসলিম কোনও ভোটই ভাগ করা যাবে না ৷"

