ভারতের বিশ্বকাপ ট্রফিটাও কি 'বিচারাধীন' ? ভোটার তালিকায় রিচার নাম না-থাকায় প্রশ্ন অভিষেকের
অভিষেকের প্রশ্ন , "21 ফেব্রুয়ারি ইআরও পোর্টাল ফ্রিজ হওয়ার আগে অমীমাংসিত কেস ছিল 14 লক্ষ । এক সপ্তাহে তা 60 লক্ষ হল কোন জাদুকাঠিতে ?"

Published : March 1, 2026 at 6:04 PM IST
কলকাতা, 1 মার্চ: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হতেই রাজনৈতিক পারদ চড়ল এক লাফে । নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধংদেহী ভঙ্গিতে সরব হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । রবিবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে রাজ্যে চলছে 'চূড়ান্ত অনিয়ম', যেখানে লক্ষ লক্ষ জীবিত মানুষের নাম 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন'-এ ফেলে রাখা হয়েছে, বহু ক্ষেত্রে আবার রাতারাতি মৃত দেখানো হয়েছে ।
অভিষেকের দাবি, তালিকার এই সংশয় শুধু সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে নয়, নোবেলজয়ী থেকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদ, এমনকি রাজ্যের প্রশাসনিক শীর্ষকর্তার নামও রয়েছে ওই তালিকায় । কমিশনকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, "ভারতের জন্য বিশ্বকাপ এনেছে দেশের মহিলা ক্রিকেট দল। বাংলার রিচা ঘোষকে যদি আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন-এ রাখা হয়, তা হলে বিশ্বকাপ ট্রফিটাও তো আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন!"
এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। তাঁর প্রশ্ন, "অমর্ত্য সেন-কে যদি হিয়ারিং নোটিস পাঠানো হয়, তা হলে নোবেল প্রাইজও কি ঝুলে থাকবে ? মহম্মদ শামিকে নোটিস গেলে তাঁর অবদানে জেতা বিশ্বকাপও কি সংশয়ের ?" পাশাপাশি রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা ও মুখ্যসচিবের নাম যেভাবে 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন' তালিকায় রাখা হয়েছে, তারও তীব্র নিন্দা করেন অভিষেক ৷
সাধারণ মানুষের হয়রানির প্রসঙ্গ টেনে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে নিশানা করেন অভিষেক । তাঁর অভিযোগ, “কারও নাম বাদ গেলে বা মৃত দেখানো হলে ওঁদের কাছে তা ছোটখাটো ব্যাপার । এসআইআর পর্বে 160 জন মারা গেছেন— সেটাও ছোটখাটো ! অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড় করানো, 85 বছরের বৃদ্ধাকে স্ট্রেচারে করে শুনানিতে আনা— সবই নাকি ছোটখাটো !" শনিবার রাত থেকে 'এক ডাকে অভিষেক'-এ 243 জন ফোন করে জানিয়েছেন, জীবিত থাকা সত্ত্বেও তাঁদের মৃত দেখানো হয়েছে বলেও দাবি তাঁর ।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন, অর্থাৎ ফর্ম-7 নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক । তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, 19 জানুয়ারি সন্ধ্যা 7টা 6 মিনিটে সিইও-র বুলেটিনে ফর্ম-7 জমার সংখ্যা ছিল 41 হাজার 961। অথচ চূড়ান্ত তালিকায় বাতিল 5 লক্ষ 46 হাজার 53 জনের নাম । অভিষেকের প্রশ্ন, " এই অতিরিক্ত পাঁচ লক্ষ এল কোথা থেকে ?" তাঁর অভিযোগ, সময়সীমা বেআইনিভাবে চার দিন বাড়িয়ে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি' নামে নতুন ক্যাটাগরি নিয়েও আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর সময় এমন কোনও বিভাগ ছিল না । শুধু বাংলার ক্ষেত্রে এই ক্যাটাগরি তৈরি করে 1 কোটি 20 লক্ষ মানুষকে তার আওতায় আনা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর । সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী অমীমাংসিত কেস জুডিশিয়াল অফিসারের কাছে যাওয়ার কথা ছিল বলেও দাবি করেন অভিষেক । অভিষেকের প্রশ্ন , "21 ফেব্রুয়ারি ইআরও পোর্টাল ফ্রিজ হওয়ার আগে অমীমাংসিত কেস ছিল 14 লক্ষ । অথচ এক সপ্তাহে তা 60 লক্ষ হল কী করে? কোন জাদুকাঠিতে ?"
এ ব্যাপারে রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট করে দেন অভিষেক । তাঁর অভিযোগ, "যারা দশকের পর দশক ধরে বাংলায় আছেন, শুধু বিজেপিকে ভোট দেননি বলেই তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে ।" সরাসরি তিনি প্রশ্ন তোলেন, "ভোটারের অধিকার ঠিক করবে কে? নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ না জ্ঞানেশ কুমার?"
তৃণমূলের বার্তা পরিষ্কার— তথ্যপ্রমাণ নিয়ে মানুষের দরজায় যাওয়া হবে, পাশাপাশি ধাপে ধাপে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবে দল । ভোটের আগে তালিকা ঘিরে এই সংঘাত যে আরও তীব্র হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
আরও পড়ুন:
রাজ্যের অর্ধেকেরও বেশি বুথ সংবেদনশীল, কোন জেলায় কত কেন্দ্রীয় বাহিনী
SIR: চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরও ঝুলে রইল 60 লাখের বেশি নাম !

