বগটুই-কাণ্ডে ভাইপো অভিষেককে বাঁচাতেই পদ থেকে ইস্তফা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের : বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপোর নামও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । রামপুরহাটের বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহার দাবি, ইস্তফা দিয়েও ভাইপোকে বাঁচাতে পারবেন না আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ৷

Published : June 2, 2026 at 9:31 PM IST
বোলপুর, 2 জুন: বিধানসভা নির্বাচনের ধাক্কা কাটার আগেই বীরভূমে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্বস্তি আরও বাড়াল পর পর ইস্তফা । লাভপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ ওরফে রানার পদত্যাগের কয়েক দিনের মধ্যেই এবার জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান পদ এবং জেলা কোর কমিটির সদস্যপদ ছাড়লেন পাঁচবারের বিধায়ক ডঃ আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় । ফলে একদা অনুব্রত মণ্ডলের গড় বলে পরিচিত বীরভূমে দলের সাংগঠনিক কাঠামো ও নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ।
নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আজ আমি বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি । অভিজিৎ সিংহ যে কারণে ইস্তফা দিয়েছে, আমিও একই কারণে পদত্যাগ করেছি । দলের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবেই কাজ করব ।"
গত 30 মে জেলা কোর কমিটির সদস্যপদ ছেড়েছিলেন অভিজিৎ সিংহ । তাঁর অভিযোগ ছিল, কোর কমিটির কার্যত কোনও অস্তিত্বই নেই । ভোটের আগে যেমন কমিটি সক্রিয় ছিল না, তেমনই ভোটের ফল ঘোষণার পরও কোনও বৈঠক ডাকা হয়নি । সংগঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও কোর কমিটির কোনও ভূমিকা নেই বলেই দাবি করেছিলেন তিনি ।
বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল । গরু পাচার ও আর্থিক তছরুপ সংক্রান্ত মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর দীর্ঘ সময় তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকেন । সেই সময় জেলার সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলাতে কোর কমিটি গঠন করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । পরে অনুব্রত মণ্ডল ফিরে এলে তাঁকেও ওই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয় ।

তবে কোর কমিটির অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই মতপার্থক্যের কথা শোনা যাচ্ছিল । বিশেষ করে জেলা পরিষদের সভাধিপতি ফায়জুল হক ওরফে কাজল শেখের সঙ্গে বিভিন্ন সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে একাধিকবার মতবিরোধ সামনে এসেছে । রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সেই অস্বস্তির ছায়াও বর্তমান পরিস্থিতির নেপথ্যে থাকতে পারে । আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে একাধিকবার কাজল শেখের ঘনিষ্ঠ বলেই দেখা গিয়েছে ।
2026 সালের বিধানসভা নির্বাচনে রামপুরহাট কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী ধ্রুব সাহার কাছে প্রায় 25 হাজার ভোটে পরাজিত হন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় । সেই পরাজয়ের পর থেকেই তিনি সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন বলে জল্পনা ছিল । অবশেষে সেই জল্পনাই সত্যি হল । যদিও এই ইস্তফার নেপথ্যে অন্য কারণ দেখছে বীরভূম বিজেপি । বিজেপির রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহার দাবি, ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাঁচাতে দল থেকে দুরত্ব তৈরি করতে চাইছেন কাকা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ।
প্রসঙ্গত, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপোর নামও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । তিনি পেশায় একজন আইনজীবি । রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা বলেন "আসলে বিজেপি সরকার আসার পর থেকে যেভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত নেতারা গ্রেফতার হচ্ছে তাই নিজের ভাইপোকে বাঁচাতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আশিসবাবু । বগটুই হত্যাকাণ্ডে নিজের ভাইপোকে বাঁচিয়ে দিয়ে ব্লক সভাপতিকে ফাঁসিয়েছেন আশিসবাবু । এবার বিধানসভা ভোটে ওনার সঙ্গে কেউ ছিল না । ভাইপোকে নিয়ে ভোট প্রচার করেছেন, হেরেওছেন । তবে ইস্তফা দিয়ে লাভ হবে না । সব দুর্নীতির হিসাব হবে ।"
তৃণমূল অবশ্য এখনও পর্যন্ত এই ইস্তফা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি । তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর বীরভূমে একের পর এক নেতার পদত্যাগ জেলা সংগঠনের অন্দরের অস্বস্তিকেই সামনে এনে দিচ্ছে । বর্তমানে 10 সদস্যের কোর কমিটি থেকে দুই সদস্য সরে যাওয়ায় সদস্য সংখ্যা নেমে এসেছে আটে । আগামী দিনে এই পদত্যাগের প্রভাব জেলা তৃণমূলের সাংগঠনিক সমীকরণে কতটা পড়ে, সেটাই এখন দেখার ।

