ভোটের মুখে ইস্কো স্টিল প্ল্যান্টে কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা! আন্দোলনের হুঁশিয়ারি তৃণমূলের
প্রশ্ন উঠছে—আধুনিকীকরণের পথে হাঁটতে গিয়ে কি কর্মী সংখ্যা কমানোই কৌশল ? নাকি নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক চাপ বাড়াতেই এই ইস্যু সামনে আনা হল ?

Published : February 27, 2026 at 9:27 PM IST
আসানসোল, 27 ফেব্রুয়ারি: এসআইআর এর দৌলতে বিধানসভা ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে । তারই মাঝে শিল্পাঞ্চলে নতুন বিতর্ক । ইস্কো কারখানায় প্রায় 20 শতাংশ চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, এমনই দাবি তুলে চিঠি প্রকাশ্যে আনলেন তৃণমূল কাউন্সিলর অশোক রুদ্র । আর তা নিয়েই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর ।
ইস্কো স্টিল প্ল্যান্ট, যা Steel Authority of India Limited (সেইল)-এর অধীনস্থ, সেখানে 35 হাজার কোটি টাকার আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ চলছে । ফলে স্থানীয় মহলে যেখানে নতুন কর্মসংস্থানের আশার আলো জ্বলছে, ঠিক সেই সময় কর্মী ছাঁটাইয়ের সম্ভাবনার খবর শিল্পাঞ্চলে অস্বস্তি বাড়িয়েছে ।
কী উল্লেখ রয়েছে চিঠিতে
তৃণমূল নেতা ও কাউন্সিলর অশোক রুদ্রের দাবি, সেইলের ডিরেক্টর (পার্সোনেল) কে কে সিং গত 12 ফেব্রুয়ারি 2026, ইস্কো স্টিল প্ল্যান্টের ডিরেক্টর ইন-চার্জকে একটি চিঠি পাঠান । অভিযোগ, কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভিন্ন প্ল্যান্টে চুক্তিভিত্তিক কর্মীর সংখ্যা কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।
তৃণমূল নেতার দাবি, চিঠিতে উল্লেখ আছে, 1 এপ্রিল 2025 ইস্কো স্টিল প্ল্যান্টে চুক্তিভিত্তিক কর্মীর সংখ্যা ছিল 5,960 । চলতি বছরের 1 ফেব্রুয়ারি তা কমে হয়েছে 5,379 । লক্ষ্য রাখা হয়েছে 1 এপ্রিল 2026 এর মধ্যে সংখ্যা নামিয়ে আনা হবে 4,768-এ । অর্থাৎ নতুন করে আরও 611 জন কর্মীর কাজ যেতে পারে । পাশাপাশি কুলটি গ্রোথ ওয়ার্কস ইউনিটে কর্মী সংখ্যা 541 থেকে কমিয়ে 432 আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও দাবি।
শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর
তৃণমূল নেতার এই চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই তৃণমূলের 12 জন কাউন্সিলর একজোট হয়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন । অশোক রুদ্রের অভিযোগ, "একদিকে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্প্রসারণ প্রকল্প চলছে, ভবিষ্যতে 10/12 হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে । অন্যদিকে ঠিকা কর্মী কমানোর সিদ্ধান্ত শ্রমিক বিরোধী ।" সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে বৃহত্তর আন্দোলন ও অনশনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি ।

অন্যদিকে, সেইল কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি । তবে তৃণমূল নেতার অভিযোগ ঘিরে শিল্পাঞ্চলে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে । যার জেরে ভোটের মুখে কর্মসংস্থান বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
প্রশ্ন উঠছে, আধুনিকীকরণের পথে হাঁটতে গিয়ে কি কর্মীসংখ্যা কমানোই কৌশল ? নাকি নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক চাপ বাড়াতেই এই ইস্যু সামনে আনা হল ? স্পষ্ট উত্তর এখনও মেলেনি । তবে ভোটের মুখে ইস্কো-কাণ্ড যে শিল্পাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে চলেছে, তা বলাইবাহুল্য ।
আরও পড়ুন:
বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন, দেওয়াল দখলের লড়াই দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল থেকে খনি অঞ্চলে
দুষ্কৃতীদের দাপাদাপিতে 'ত্রস্ত' শিল্পাঞ্চল, কেন সোজা হচ্ছে না 'বাঁকা' ব্যারাকপুর !

