ETV Bharat / politics

গুজরাত থেকে আসা মোটা ভাই বা দাড়িওয়ালাদের বাংলা মানবে না: ফিরহাদ হাকিম

তৃণমূলের সংহতি দিবসের মঞ্চ থেকে বিজেপিকে নিশানা সায়নী ঘোষের ৷ মোদি-শাহকে দিল্লি সামলানোর পরামর্শ সাংসদের ৷

TMC SANHATI DIWAS
ফরিহাদ হাকিম ৷ (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : December 6, 2025 at 9:04 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 6 ডিসেম্বর: তৃণমূলের 'সংহতি দিবস'-এর মঞ্চ থেকে নাম না-করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কটাক্ষ করলেন ফিরহাদ হাকিম ৷ গুজরাত থেকে আসা কোনও 'মোটা ভাই' বা 'দাড়িওয়ালা'র কথা বাংলা মানবে না-বলে দাবি করলেন তিনি ৷ সেই সঙ্গে পরোক্ষে বেলডাঙায় 'বাবরি' মসজিদের শিলান্যাস প্রসঙ্গে নাম না-করে হুমায়ুন কবীরকে 'গদ্দার' বলে নিশানা করেন ফিরহাদ ৷

1992 সালের 6 ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনকে 'সংহতি দিবস' হিসেবে পালন করে তৃণমূল ৷ মেয়ো রোডে তৃণমূলের এই কর্মসূচিতে দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থাকতে পারেন বলে শোনা গিয়েছিল ৷ তবে, তাঁদের এ দিন মঞ্চে দেখা যায়নি ৷

তবে, শাসকদলের মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম 'সংহতি দিবস' মঞ্চ থেকে বলেন, "বাংলা গুজরাত থেকে আসা নেতাদের নির্দেশ বা আদর্শে চলবে না, বাংলা চলবে তার নিজস্ব মনীষীদের দেখানো পথেই ৷ এই বাংলা ওই গুজরাত থেকে আসা মোটা ভাই কিংবা সেই দাড়িওয়ালা, তাঁদের ব্যাপারে নয় ৷" রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, 'মোটা ভাই' এবং 'দাড়িওয়ালা' সম্বোধনে তিনি অমিত শাহ এবং নরেন্দ্র মোদিকে পরোক্ষভাবে কটাক্ষ করেছেন ৷

ফিরহাদ বলেন, "বাংলার মানুষ ধর্মান্ধতায় বিশ্বাস করে না ৷ বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব এবং স্বামী বিবেকানন্দের অবদান অপরিসীম ৷ তাঁরা সকলেই আজীবন সংহতি এবং ঐক্যের কথা বলে গিয়েছেন ৷"

অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় হুমায়ুন কবীর এ দিন নতুন 'বাবরি' মসজিদের শিলান্যাস করলেন ৷ সেই নিয়ে ফিরহাদ পরোক্ষে হুমায়ুনকে গদ্দার বলে নিশানা করলেন ৷ তিনি বলেন, "বিজেপির এই বিভাজনের রাজনীতিতে সহায়তা করছে কিছু ঘরের শত্রু ৷ এই গদ্দাররা ব্যক্তিগত স্বার্থে বা ভয়ে, বিজেপির সাম্প্রদায়িক এজেন্ডাকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করছে ৷"

অন্যদিকে, তৃণমূল যুবর সভানেত্রী তথা সাংসদ সায়নী ঘোষের নিশানাতেও ছিল বিজেপি ৷ বাংলা নয়, বরং দিল্লির গদি সামলানোর পরামর্শ দিলেন তিনি ৷ সায়নী বলেন, "বিজেপি নেতারা দাবি করছেন ‘কাল লড়কে লেঙ্গে বঙ্গাল’ ৷ কিন্তু, তাঁদের উচিত আগে দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান বা উত্তরপ্রদেশ সামলানো, তারপর বাংলার দিকে তাকানো ৷ বিজেপি নিজেদের ‘দলের গুঁতোগুঁতি’ সামলাক আগে ৷ বড়-বড় কথা বলে বা ভাঁওতা দিয়ে বাংলার মানুষের মন জয় করা সম্ভব নয় ৷"

TMC Sanhati Diwas
তৃণমূলের সংহতি দিবসের মঞ্চে সায়নী ঘোষ ৷ (নিজস্ব ছবি)

মমতা এবং অভিষেকের নেতৃত্বে তৃণমূল চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় আসবে এমনটাও দাবি করলেন সায়নী ৷ তিনি বলেন, "আসন্ন লড়াইয়ের জন্য দল সম্পূর্ণ প্রস্তুত ৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোড়া তৈরি করেছেন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেনা তৈরি করেছেন ৷ এই সেনা আগামী দিনে লড়াইকে বৃহত্তর পরিসরে নিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি ৷ নির্বাচনের আগে 500 লিডার, হেলিকপ্টার বা প্রাইভেট জেটে করে নেতারা এলেও, নবান্নর সিঁড়ি বাইবে না কোন সুটবুট পরা নেতা ৷ বরং সেখানে থাকবে শুধুই হাওয়াই চটি ৷"