ETV Bharat / politics

SIR : 'ধমকে-চমকে কী লাভ হল? সেই তো 1.2 কোটি নাম বাদ গেল!' দিলীপের নিশানায় মমতা

ফেব্রুয়ারির শেষেও ঘুন কুয়াশা । শুক্রবার ভূমিকম্পও হয়েছে । এই দু’টি প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দিলীপের টিপ্পনি, এপ্রিল-মে মাসে বাংলায় রাজনৈতিক ভূমিকম্প অপেক্ষা করছে !

Dilip Ghosh
দিলীপ ঘোষ (নিজস্ব চিত্র৷)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : February 28, 2026 at 7:40 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 28 ফেব্রুয়ারি : বহুদিনের জল্পনা, চাপানউতোর ও রাজনৈতিক হুঙ্কারের পর অবশেষে প্রকাশিত হয়েছে এসআইআর-পরবর্তী চূড়ান্ত ভোটার তালিকা । সেই সূত্রে প্রত্যাশিতভাবেই চড়ল বঙ্গ রাজনীতির তাপমাত্রা । শাসকদলকে আক্রমণের কেন্দ্রে রেখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ ।

দিলীপের সোজাসাপটা প্রশ্ন, "তিন মাস ধরে হুমকি-ভয় দেখানো হল । শেষ পর্যন্ত মানতেই হল এক কোটি কুড়ি লক্ষ নাম বাদ যাবে ! আমরা তো আগে থেকেই বলছিলাম— তা হলে এতদিন পরে স্বীকারোক্তি কেন ?" তাঁর দাবি, ভোটার তালিকা নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে । হুঁশিয়ারির সুরে যোগ করেন, "রাজনীতি করে ভয় দেখানো যায়, কিন্তু তথ্য চেপে রাখা যায় না ৷"

: 'ধমকে-চমকে কী লাভ হল? সেই তো 1.2 কোটি নাম বাদ গেল!' দিলীপের নিশানায় মমতা (ইটিভি ভারত)

এই প্রসঙ্গে পুরনো রাজনৈতিক স্মৃতি উস্কে আক্রমণ সুর আরও চড়িয়েছেন বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি । 2005 সালে সংসদে অনুপ্রবেশ নিয়ে মমতার বক্তব্যের উল্লেখ করে দিলীপের প্রশ্ন, "তখন বলেছিলেন বাংলা অনুপ্রবেশকারীতে ভরে যাচ্ছে । কুড়ি বছরে একজনকেও কি বার করতে পেরেছেন ? তখন নাটক করেছিলেন, না এখন করছেন ?"

এখানেই না থেমে দিলীপের আরও অভিযোগ, যাঁদের এক সময় 'বিপদ' বলা হয়েছিল, তাঁরাই পরে তৃণমূলের রাজনৈতিক 'সম্পদ'-এ পরিণত হয়েছেন । তবে এবারে আর অতীতের পুনরাবৃত্তি হবে না দাবি করে দিলীপ বলেন, "তাদের নিয়েই তিনবার সরকার গড়েছেন । কিন্তু এবার আর সেই অঙ্ক মিলবে না ৷"

ভুয়ো ভোটার ইস্যুতেও সরব মেদিনীপুরের প্রাক্তন সাংসদ । তাঁর সাফ বক্তব্য, "ভুয়ো ভোটের দরকার যাঁদের, তাঁরা সরকারে থাকে বলেই এমনটা হয় ।" প্রশাসনের 'নিরপেক্ষতা' নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, রাজ্যে 'পক্ষপাতদুষ্ট সংস্কৃতি' গড়ে উঠেছে । ইঙ্গিতপূর্ণ সুরে একাধিক শীর্ষ আধিকারিকের ভূমিকাও টেনে আনেন তিনি ।

রাজ্যসভায় তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণাকে 'দলের সিদ্ধান্ত' বললেও খোঁচা দিতে ভোলেননি দিলীপ। টিপ্পনির সুরে বললেন, "আগেও অন্য রাজ্যের লোককে পাঠানো হয়েছে । তাতে কি তৃণমূল সারা দেশে বিস্তার লাভ করেছে ! পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এতদিন বোঝা বইছেন । এবারে ভোটেই মানুষ তার জবাব দেবেন ।"

এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে অশান্তির অভিযোগ তুলে দিলীপ বলেন, নির্বাচন কমিশন ও আদালতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ— বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা। বিজেপি নেতার পর্যবেক্ষণ, "আদালত দেখছে পশ্চিমবঙ্গে কী চলছে । সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও মানা হয়নি ৷ মনে রাখবেন এ বিষয়টি আন্তর্জাতিক মঞ্চে উঠলেও এই সরকার আর রক্ষা পাবে না ।"

এ দিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে রূপক ব্যবহারেও পিছপা হননি তিনি। নিজস্ব ভঙ্গিমায় দিলীপ বলেন, "ফেব্রুয়ারির শেষ দিন । কুয়াশা এত ঘন যে রাস্তা দেখা যাচ্ছে না । শুক্রবার ভূমিকম্পও হয়েছে । আমার মনে হয় এপ্রিল-মে মাসে বাংলায় রাজনৈতিক ভূমিকম্প অপেক্ষা করছে !" রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, আসন্ন নির্বাচনকেই ইঙ্গিত করেছেন বিজেপি নেতা ।

এসআইআর পর্বে তৃণমূল নেতাদের 'রক্ত গঙ্গা বইয়ে দেব' মন্তব্যকে 'ফাঁকা ডায়লগ' বলে উড়িয়ে দিয়ে দিলীপের বক্তব্য, "কটা গুন্ডা আর চামচা পুলিশ নিয়ে নির্বাচন জেতা যায় না ।" তাঁর দাবি, পরিবর্তনের হাওয়া ইতিমধ্যেই বইতে শুরু করেছে গ্রামে-গঞ্জে। উৎসব ভাতা ঘোষণাকেও 'ভোটের আগে মন গলানোর কৌশল' বলে কটাক্ষ করেন তিনি । "গত 15 বছরের হিসাব মানুষ ভোলেনি," মন্তব্য তাঁর । বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা প্রসঙ্গে দিলীপের দাবি", গ্রামে ঘুরে দেখছি মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন ।"

হাওড়ার পিলখানা কাণ্ডে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ প্রসঙ্গে তাঁর কটাক্ষ, "সিআইডি মানেই তদন্ত চেপে দেওয়া ।" অতীতের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তাঁর অভিযোগ, দোষীদের আড়াল করা হয়েছে বলেই সাধারণ মানুষের মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি জোরদার হয়েছে ।

সব মিলিয়ে এসআইআর তালিকা প্রকাশের দিনেই স্পষ্ট— নির্বাচন যত এগোবে, সংঘাতের সুরও ততই চড়বে । সেই সূত্রে দিলীপের ছুড়ে দেওয়া রূপক 'কুয়াশার আড়ালে সত্যিই কি ভূমিকম্প অপেক্ষা করছে?' নিয়েও জনমানসে চর্চা শুরু হয়েছে ৷