ETV Bharat / politics

শাহী-বৈঠকে হাজির দিলীপ ঘোষ, ভোটের আগে কি ফের সক্রিয় ভূমিকায় প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি

বুধবার বঙ্গ বিজেপির সাংসদ-বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেন অমিত শাহ৷ সেখানেই হাজির ছিলেন দিলীপ ঘোষ৷

DILIP GHOSH
শাহী-বৈঠকে হাজির দিলীপ ঘোষ (নিজস্ব ছবি ও শমীক ভট্টাচার্যের এক্স হ্যান্ডল থেকে নেওয়া ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : December 31, 2025 at 7:51 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 31 ডিসেম্বর: চলতি বছরের এপ্রিলের শেষে দিঘার জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের দিন সেখানে গিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ৷ দেখা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে৷ সেই নিয়ে বিজেপির অন্দরে সমালোচিত হয়েছিলেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি৷ তিনিও পালটা জবাব দেন৷ এর পর যেন বিজেপি থেকে ‘হারিয়ে’ গিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ৷ প্রায় আট মাস পর গেরুয়া শিবিরের কর্মসূচিতে ফের খুঁজে পাওয়া গেল তাঁকে৷ যা জন্ম দিল নতুন রাজনৈতিক প্রশ্নের৷ বিজেপিতে কি আবার সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যাবে দিলীপ ঘোষকে?

গত সোমবার সন্ধ্যায় তিনদিনের সফরে কলকাতায় আসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন জাতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷ এসেই তিনি সল্টলেকে দলীয় দফতরে রাজ্যের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন৷ পরদিন সকালে সল্টলেকের একটি পাঁচতারা হোটেলে সাংবাদিক বৈঠক করেন এবং একাধিক দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন৷ কিন্তু কোনোটিতেই দিলীপ ঘোষ উপস্থিত ছিলেন না৷

উল্লেখ্য, দিঘা-মন্দির কাণ্ডের পরবর্তী সময়ে রাজ্যে একাধিকবার এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ৷ এই সময়কালেই নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য৷ কিন্তু কোনও কর্মসূচিতেই দিলীপকে দেখা যায়নি৷ শমীককে শুভেচ্ছা জানাতে পরে সল্টলেকের দফতরে গিয়েছিলেন দিলীপ৷ কিন্তু তিনি কেন বিজেপির বড় কর্মসূচিগুলিতে ব্রাত্য, সেই প্রশ্ন বারবার উঠছিল৷

এই পরিস্থিতিতে বুধবার সল্টলেকের একটি পাঁচতারা হোটেলে বিজেপির এক বৈঠকে হাজির হলেন দিলীপ ঘোষ৷ যা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে হইচই শুরু হয়েছে৷ আসলে ওই হোটেলে এদিন বিজেপির সাংসদ-বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেন অমিত শাহ৷ সেখানে দলের পর্যবেক্ষকরাও ছিলেন৷ পাশাপাশি প্রাক্তন সাংসদদেরও ডাকা হয়৷ সেই সূত্রেই দিলীপকেও সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল৷ তিনি সেখানে যান৷ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একসঙ্গেই প্রবেশ করেন বৈঠকস্থলে৷

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে সাংসদ-বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক শেষে আলাদা করে একটি বৈঠক করেন অমিত শাহ৷ সেখানে ছিলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং দুই প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ও দিলীপ ঘোষ৷ এর পর সবার সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজও করেন দিলীপ ঘোষ। ঘণ্টা দেড়েকের বৈঠকের পর ওই মধ্যাহ্নভোজ শুরু হয়৷ সেখানেও দিলীপ ঘোষের সঙ্গে অমিত শাহ আলাদাভাবে কথা বলেন৷ সেখানে তাঁকে আরও সক্রিয় হতে বলা হয়েছে৷ তাঁকে কার্যত ভোটের ময়দানে নেমে বিজেপির শক্তিবৃদ্ধির নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন বিজেপির সেকেন্ড-ইন-কমান্ড৷

উল্লেখ্য, দিলীপ ঘোষ যখন বিজেপির সভাপতি হন, তখন বাংলায় বিজেপির দু’জন সাংসদ রয়েছেন৷ 2019 সালে সেই সংখ্যা 18-তে পৌঁছায়৷ 2016 সালে তিনজন বিধায়ক পায় বিজেপি৷ 2021 সালে সেই সংখ্যা পৌঁছায় 77-এ৷ ফলে বিজেপির সফল রাজ্য সভাপতি হিসেবেই তাঁকে গণ্য করা হয়৷ 2021 সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ তাঁকে সভাপতির পদ থেকে সরানো হয়৷ দায়িত্ব নেন সুকান্ত মজুমদার৷

যদিও দিলীপ ঘোষের জনপ্রিয়তা কমেনি৷ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলেন, লড়াকু মেজাজের জন্যই দিলীপ কর্মীদের মধ্যে জনপ্রিয়৷ কিন্তু দিঘার মন্দিরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত ঘিরে বিতর্ক এবং তার পর সমালোচনার জবাব প্রকাশ্যে দেওয়া নিয়ে দিলীপ কার্যত একঘরে পড়েছিলেন বিজেপিতে৷ এই নিয়ে অনেক কর্মী-সমর্থক হতাশাও প্রকাশ করেছেন৷ সেই সব কর্মী-সমর্থকরা এদিন উচ্ছ্বসিত৷

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি এবার বাংলা জয়ে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাচ্ছে৷ তাই দলের সবস্তরে সব নেতা-কর্মীকে একজোট করাই গেরুয়া শিবিরের প্রাথমিক লক্ষ্য৷ সেই কারণেই দিলীপকে আবারও বিজেপির শীর্ষ বৈঠকে যোগ দিতে দেখা গেল৷ তাছাড়া তিনি ময়দানে নামলে নিচুস্তরের কর্মীদের মধ্যেও মানসিক জোর আরও কিছুটা বাড়বে৷

আরও পড়ুন -

  1. ছাব্বিশে অনুপ্রবেশই মূল ইস্যু, বিএসএফ-কে কাঁটাতারের বেড়া দিতে দিচ্ছে না তৃণমূল: শাহ
  2. ছাব্বিশে বাংলায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সরকার গড়বে বিজেপি, আত্মবিশ্বাসী শাহ