মা তারার দর্শন আর পাব না, বাংলাদেশিরা এখানে রোজগার করবে: বীরভূমে ফড়নবিশ
তিনি বলেন, বাংলার মনীষী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা 'বন্দেমাতরম' গেয়ে মহারাষ্ট্রের বিধানসভা অধিবেশন শুরু হয় ।

Published : March 2, 2026 at 6:58 PM IST
তারাপীঠ, 2 মার্চ: বঙ্গ সফরে এসে বিভিন্ন ইস্যুতে মহারাষ্ট্রের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের তুলনা টেনে খড়গহস্ত হলেন দেবেন্দ্র ফড়নবিশ ৷ রাজ্যের 'বেকারত্ব' ও 'তোষণ' নিয়ে তোপ দেগে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, 'বাংলাদেশিরা এখানে এসে রোজগার করুক এটাই চায় মমতা দিদি ৷' তিনি আরও বলেন, বাংলার মনীষী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা 'বন্দেমাতরম' গেয়ে মহারাষ্ট্রের বিধানসভা অধিবেশন শুরু হয় । কটাক্ষের সুরে বলেন, 'বাংলায় আর বিদেশি লগ্নি আসে না, সব মহারাষ্ট্রে যায় ।'
সোমবার বীরভূমের তারাপীঠে 'পরিবর্তন যাত্রা'র সূচনা করেন দেবেন্দ্র ফড়নবিশ ও অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী ৷ রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে প্রচারে ব্যাপক জোর দিয়েছে বিজেপি ৷ ইতিমধ্যের 'পরিবর্তন যাত্রা' কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে সর্বভারতীয় বিজেপির তরফে ৷ একদিনে রাজ্যের পাঁচ জায়গায় হেভিওয়েট বিজেপি নেতাদের সভা ৷ সন্দেশখালিতে কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান, মথুয়াপুর ও রায়দিঘিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, ইসলামপুরে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, আমতায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও বীরভূমের তারাপীঠে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ পরিবর্তন যাত্রায় অংশ নেন ৷
প্রথমে শক্তিপীঠ তারাপীঠ মন্দিরে পুজো দেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী । এই প্রথম তিনি বীরভূম জেলায় এসেছেন ৷ পুজো দিয়ে তারাপীঠের তারাপুর মাঠে জনসভা করেন দেবেন্দ্র ফড়নবিশ । ছিলেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী, বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতি জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-সহ অন্যান্য নেতৃত্ব ।
সভা মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেকারত্ব, তোষণ, দুর্নীতি, এসআইআর-এর বিরোধিতা প্রভৃতি ইসুতে এক হাতে নেন ফড়নবিশ । তিনি বলেন, "রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুভাষচন্দ্র বসু, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ভূমি এই বাংলা । এই ভূমি থেকে বন্দেমাতরম শুনেছে দেশ ৷ কংগ্রেস সেই বন্দেমাতরম ছোট করে দিয়েছিল ৷ কিন্তু, মোদিজি সেই বন্দেমাতরম পুরোটা গাওয়ার নিয়ম শুরু করেছেন ৷ আমরা মহারাষ্ট্রে বন্দেমাতরম গেয়ে বিধানসভার অধিবেশন শুরু করেছি । মহারাষ্ট্র ও বাংলা মহানায়কের ভূমি । ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে এই দুই রাজ্য ভূমিকা রেখেছে ৷ এদিকে ক্ষুদিরাম বসু, ওদিকে বীর সাভারকার ।"

তিনি আরও বলেন, "আগে ভারতের আর্থিক রাজধানী মুম্বাই ছিল না, কলকাতা ছিল । এখন দুঃখ হয়, ভারতের আর্থিক রাজধানী মুম্বই হয়ে গিয়েছে । বাংলার আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়েছে । শিল্পপতিরা লগ্নি করছে না ৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলায় লগ্নি করতে ভয় পান । তাই এত বেকারত্ব বাড়ছে ৷ সব রাজ্য এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলার হাল বেহাল হচ্ছে । বিদেশি লগ্নি বাংলায় আসতো সবচেয়ে বেশি ৷ এখন আসে না, এখন মহারাষ্ট্রে আসে ৷"

এসআইআর ও বেকারত্ব সমস্যা নিয়ে কটাক্ষ করে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ বলেন, "বাংলা থেকে মুম্বাইয়ে গিয়ে কাজ করছে যুবকরা ৷ চিন্তা নেই, মুম্বইয়ে আমরা তাদের সুরক্ষিত রাখব ৷ তবে আমি চাই বাংলাতেই কাজ পাক যুবকেরা ৷ তবে বাংলাদেশি এসে এখানে রোজগার করুক, এটা চায় মমতা দিদি । তাই এবার যদি পরিবর্তন না হয়, আমি জানি না এর পর তারা মায়ের দর্শন করতে পারব কি না ৷ এই পরিণতি হবে ৷ মহাভারতে কৌরবদের শতপুত্র ছিল, এখানে তো এসআইআর-এ দেখা যাচ্ছে এই বাংলায় একজনের দুশো সন্তান । মহাভারতের কৌরবদের রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে ৷"

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, "আদিবাসীদের জন্য স্কুলে শিক্ষক পর্যন্ত নেই ৷ অথচ মাদ্রাসার জন্য 5 হাজার 713 কোটি টাকা দিয়েছেন ৷ আর 50 হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নেই ৷" তিনি আরও বলেন, "আমাদের কোনও দেশ নেই, তাই জানপ্রাণ দিয়ে লড়তে হবে ৷ এই নির্বাচন জিততেই হবে ৷"

