ETV Bharat / politics

তৃণমূলে নজিরবিহীন দুর্নীতি, মমতার ব্যবহারে মর্মাহত হয়েই দলবদল: বারাসতে বিস্ফোরক কাকলি

এক সময়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের চাপ বাড়তে থাকায় দৃশ্যতই অস্বস্তিতে পড়েন কাকলি । একের পর এক প্রশ্নের মুখে আচমকাই সাংবাদিক বৈঠক ছেড়ে উঠে যান তিনি ।

Kakoli Ghosh Dastidar
রাখি বন্ধন অনুষ্ঠানে বারাসতের সাংসদ (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 29, 2026 at 3:02 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

বারাসত, 29 অগস্ট: দিল্লির পর এবার বারাসত ৷ দলবদলের পর এই প্রথম নিজের নির্বাচনী এলাকায় সাংবাদিক বৈঠক থেকে পুরনো দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার৷ বললেন, "তৃণমূলের মতো দুর্নীতি ভারতবর্ষের কোথাও হয়নি ।" কয়লা, গরু, সোনা পাচার থেকে আবাস যোজনা- সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামেও টাকা তোলার অভিযোগ তুললেন তিনি । শুধু দল নয়, সরাসরি প্রাক্তন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও আক্রমণ শানালেন কাকলি । বললেন, গত পাঁচ-সাত বছরে মমতার 'ব্যবহার' তাঁকে মর্মাহত করেছে । সেই কারণেই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত ।

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর গত 14 জুন দল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছিলেন কাকলি । দলবদলের পর দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে এবং বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে তাঁকে দেখা গেলেও নিজের বারাসত লোকসভা এলাকায় প্রকাশ্যে দেখা যায়নি । সামাজিক মাধ্যমে অবশ্য তাঁর এবং তাঁর ছেলে বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারের বিভিন্ন পোস্ট ঘিরে কম জলঘোলা হয়নি । কাকলির অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে সামাজিক মাধ্যমে অশালীন ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছে । এ নিয়ে বারাসতের পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগও করেছিলেন তিনি ।

সেই পর্বের প্রায় তিন মাস পরে শুক্রবার বারাসতে বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে রাখিবন্ধন উৎসবের আয়োজন করেছিলেন তিনি । সেখানেই দল ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাঁর অভিযোগ, "বিগত কয়েক বছর ধরে তৃণমূল আইনের তোয়াক্কা করেনি । তৃণমূলের মতো গরু, কয়লা, সোনা পাচার, আবাস যোজনায় কাটমানি নেওয়ার মতো এত বড় দুর্নীতি ভারতবর্ষের কোথাও হয়নি ।" তাঁর আরও দাবি, নিচুতলার কর্মী থেকে দলের সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত 'টাকা তোলার সিন্ডিকেট' চলেছে ।

কাকলির অভিযোগের নিশানায় শুধু বড় মাপের দুর্নীতির কথিত কারবার নয় । গরিব মানুষের জন্য তৈরি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিয়েও দলের স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি । তাঁর দাবি, "গরিব মানুষকে আবাস যোজনা বা লক্ষ্মীর ভান্ডার দিতে গিয়েও দলের নেতারা টাকা নিয়েছেন । সাধারণ মানুষ সে সব উপলব্ধি করেই তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছে ।"

তবে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণের মধ্যেই মমতার সঙ্গে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেছেন কাকলি । তাঁর কথায়, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার নেত্রী ছিলেন । ছোটবেলা থেকে তাঁকে দেখে আমি রাজনীতি শুরু করেছি ।" কিন্তু সেই শ্রদ্ধার জায়গাতেই পরবর্তী সময়ে ধাক্কা লাগে বলে দাবি তাঁর । কাকলির বক্তব্য, "পরে তাঁর অধঃপতন মেনে নিতে পারিনি । গত পাঁচ-সাত বছরে তাঁর ব্যবহারে আমি মর্মাহত হয়ে দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছি ।"

এখানেই থামেননি বারাসতের সাংসদ । তৃণমূলে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনারও জবাব দিয়েছেন তিনি । তাঁর দাবি, যাঁরা তৃণমূল ছেড়েছেন, তাঁরা স্বেচ্ছায় দল ছেড়েছেন এবং তাঁদের কেউই ফেরার পথে নেই । তবে দলবদল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের প্রসঙ্গ উঠতেই খানিকটা সতর্ক হন তিনি । জানান, বিষয়টি এখন বিচারাধীন । তাঁর বক্তব্য, "আদালত লোকসভার অধ্যক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে । আমরা সবাই লিখিত ভাবে অধ্যক্ষের কাছেই দলবদলের যুক্তি জমা দেব । বিষয়টি পুরোপুরি আদালতের বিচারাধীন । তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলব না ।"

এর পরেই মমতার বিরুদ্ধে তাঁর পুরনো রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে আক্রমণ করেন কাকলি । তাঁর যুক্তি, 1984 সালে ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পরে লোকসভা ভোটে জেতার পর গত চার দশকে মমতাও একাধিক বার দলবদল করেছেন । তাই অন্য নেতাদের দলবদল নিয়ে মমতার প্রশ্ন তোলা 'শোভনীয় নয়' বলেই মন্তব্য তাঁর ।

আক্রমণের তালিকায় বাদ যাননি তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষও । সারদা-কাণ্ডে কুণালের জেলযাত্রার প্রসঙ্গ টেনে কাকলি বলেন, সেই সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে কুণাল অনেক 'কটু কথা' বলেছিলেন । এখন তিনিই তৃণমূলের মুখপাত্র, এই দ্বৈত অবস্থান নিয়েই প্রশ্ন তোলেন কাকলি । এক সময়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের চাপ বাড়তে থাকায় দৃশ্যতই অস্বস্তিতে পড়েন কাকলি । একের পর এক প্রশ্নের মুখে আচমকাই সাংবাদিক বৈঠক ছেড়ে উঠে যান তিনি । তবে, এদিনের সাংবাদিক বৈঠক থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, মমতার নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ, দলবদল নিয়ে অবস্থান এবং কুণাল ঘোষকে নিশানা- একসঙ্গে একাধিক রাজনৈতিক বার্তা দিলেন তিনি । এখন দেখার, কাকলির এই বিস্ফোরক অভিযোগের জবাবে তৃণমূল কী বলে ।

'ভুল প্রচার বন্ধ হোক', যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে সরব পড়ুয়া থেকে অধ্যাপকরা

NIA তদন্তের দাবি, এবার রাজ্যপালের দ্বারস্থ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণপন্থী অধ্যাপক সংগঠন