বিজেপির BLA তৃণমূল কর্মী ! আজব-কাণ্ড জগদ্দলে, তুঙ্গে রাজনৈতিক চর্চা
তৃণমূল কর্মীর অবশ্য দাবি, তিনি বুঝেই উঠতে পারছেন না তাঁর নাম কী করে বিজেপির বিএলএ হিসাবে গেল ।

Published : November 8, 2025 at 6:52 PM IST
জগদ্দল, 8 নভেম্বর: পশ্চিমবঙ্গে পুরোদস্তুর শুরু হয়ে গিয়েছে ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধনী অর্থাৎ এসআইআর প্রক্রিয়ার কাজ । বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এন্যুমারেশন ফর্মও বিলি করা শুরু করেছেন । এসআইআর নিয়ে যখন তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে সমানে সমানে টক্কর চলছে । তখন ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের জগদ্দল থেকে উঠে এসেছে আজব-কাণ্ড ।
অভিযোগ, সেখানে তৃণমূল কর্মীই বিজেপির বিএলএ হয়ে গিয়েছেন ৷ জগদ্দল বিধানসভার 124 নম্বর পার্টের তৃণমূল কর্মী নিখিল দাসের নাম বিজেপির বিএলএ হিসাবে পাঠানো হয়েছে কমিশনের কাছে । এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায় । এই নিয়ে শাসক ও গেরুয়া শিবির রীতিমতো একে অপরকে নিশানা করতে ছাড়ছে না । যা ঘিরে তুঙ্গে উঠেছে রাজনীতিও ৷
জানা গিয়েছে, নিখিল দাস জগদ্দলের আতপুরের বাসিন্দা । তিনি এলাকায় একজন সক্রিয় তৃণমূল কর্মী হিসেবেই পরিচিত । অভিযোগ, তাঁকেই কিনা এসআইআর-এর কাজে বিজেপির বিএলএ হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে ৷ যা নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে । তবে, এত কিছুর পরেও নিখিল অবশ্য বিরোধী গেরুয়া শিবিরের বিএলও হিসেবে নিজেকে মানতে পারছেন না । তাঁর দাবি, 2019 সালের আগে তিনি গেরুয়া শিবিরের হয়ে কাজ করতেন । কিন্তু 2019 সালের লোকসভা ভোটের পর জগদ্দল, ভাটপাড়া এলাকায় সন্ত্রাসের আবহে তিনি যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে । তারপর থেকে শাসক দলের একনিষ্ঠ কর্মী হিসাবে সংগঠনের কাজ করে চলেছেন এলাকায় ।
বিজেপির বিএলএ হিসেবে তাঁর নাম নিযুক্ত হওয়ায় কার্যত হতবাক হয়ে গিয়েছেন নিখিল নিজেই । তাঁর কথায়, "স্থানীয় বিএলও ফোন করার পর আমি জানতে পারি বিষয়টি ।" নিখিলের আরও দাবি, আগে বিজেপি দল করলেও বর্তমানে আমি তৃণমূল দলের সঙ্গেই যুক্ত । বিজেপিতে থাকাকালীন কোনোদিন ওদের মিটিং-মিছিলেও যাননি তিনি । শাসকদলের সক্রিয় কর্মী হওয়ার পরেও কেন তাঁর নাম গেরুয়া শিবিরের বিএলএ হিসেবে গেল, তা তিনি বুঝেই উঠতে পারছেন না ।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে বিজেপিকে কটাক্ষ করেছেন জগদ্দল শহর তৃণমূলের সভাপতি বিপ্লব মালো । তাঁর দাবি, "নিখিল দাস বরাবরই তৃণমূলের সঙ্গে জড়িত । বিজেপির বিএলএ হিসেবে ওঁর নাম নিযুক্ত হওয়ায় হতভম্ব হয়ে নিখিল আমাদের কাছে এসে বিষয়টি জানায় । আসলে এটাই বাংলায় বিজেপির চিত্র । রাজ্যের কোনও বুথেই বিজেপির এজেন্ট দেওয়ার ক্ষমতা নেই । লোকবল নেই, সেই কারণে তৃণমূল কর্মীকেই বিজেপি হিসেবে চিহ্নিত করে নাম পাঠিয়ে দিয়েছে ।"
যদিও চুপ করে থাকেনি বিজেপিও । পালটা সুর চড়িয়েছে গেরুয়া শিবিরও । বিজেপির ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি প্রিয়াঙ্কু পাণ্ডে বলেন, "এসব তৃণমূলের চক্রান্ত । আসলে পিছন থেকে ওরাই কলকাঠি নাড়ছে । ওরা ভয় দেখিয়ে চমকিয়ে ওকে তৃণমূল দেখাতে চাইছে । নিখিল দাস নিজে থেকেই ছবি ও সই করে বিএলএ হিসাবে ওর নাম জানিয়েছিল । তার প্রমাণও রয়েছে কমিশনের খাতায় । এখন ভয় পেয়ে ওকে দিয়ে তৃণমূল এসব কথা বলাচ্ছে ।"
সব মিলিয়ে, এসআইআর আবহে বিএলও নিয়ে এক নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে গঙ্গা পাড়ের শিল্পাঞ্চল জগদ্দলে ৷

