দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ICU-তে পাঠিয়েছে মোদি সরকার, অভিযোগ কংগ্রেসের
কংগ্রেস ও NSUI-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা কানহাইয়া কুমার শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল সংস্কার করার দাবি জানিয়েছেন৷

By PTI
Published : July 6, 2026 at 6:37 PM IST
নয়াদিল্লি, 6 জুলাই: দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আইসিইউ-তে পাঠিয়ে দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার, সোমবার মোদি সরকারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস৷ পাশাপাশি তারা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তুলেছে৷ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের সঙ্গে তাঁর যোগসাজশের যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস৷ শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল সংস্কারেরও দাবি তুলেছে তারা৷
শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি সারা দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলছেন, এমনই জানিয়েছেন কংগ্রেসের নেতা তথা ওই দলের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কানহাইয়া কুমার৷
সোমবার এনএসইউআই-এর তরফে এক সাংবাদিক বৈঠক করা হয়৷ সেখানে কানহাইয়া ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি বিনোদ জাখর এবং কংগ্রেস নেতা কিরণ মুগাবাসভ, নিশান্ত মণ্ডল ও কে কে শাস্ত্রী৷ সেখানে কানহাইয়া কুমার জানান, শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের উদ্দেশ্য নিয়ে রাহুল গান্ধি কোটায় শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের সামনে একটি উপস্থাপনা দিয়েছিলেন। সেটিকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের কাছ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ সংগ্রহ করা হচ্ছে৷
তিনি বলেন, ‘‘আগামিদিনে আমরা শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে এবং একে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে একটি ‘শিক্ষা সনদ’ তৈরি করব৷ এর পরই কানহাইয়া অভিযোগ করেন, মোদি সরকার ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আইসিইউ-তে ঠেলে দিয়েছে। তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন৷ তাঁর কথায়, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস মাফিয়ার সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র নিয়ে তদন্ত করা উচিত।
কানহাইয়া বলেন, ‘‘ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার করা উচিত, যার জন্য ইউপিএ সরকার একটি কমিটি গঠন করেছিল, কিন্তু এনডিএ সরকার যথেচ্ছভাবে এনটিএ প্রতিষ্ঠা করে।’’ কংগ্রেসের এই নেতা দেশের যুবকদের জন্য নিয়মিত চাকরির একটি ক্যালেন্ডার ও পরীক্ষাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য একটি অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা উচিত৷
অন্যদিকে এনএসইউআই-এর সভাপতি বিনোদ জাখর দাবি করেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা বিপর্যস্ত এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, ‘‘দেশজুড়ে এক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ছাত্র সংসদের নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে বিজেপি-আরএসএস-এর সহযোগী সংগঠনগুলো কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখছে৷’’ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মেয়াদ কেন বারবার বৃদ্ধি করা হচ্ছে, এই প্রশ্নও তোলেন বিনোদ জাখর৷
তিনি বলেন, ‘‘এখন ক্যাম্পাসে কোনও পড়ুয়া প্রতিবাদ করলেই তাঁদের বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দেওয়া হয়। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নির্দিষ্ট মতাদর্শের অনুসারীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এই কারণেই এনএসইউআই সংগঠনের নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছে৷ নির্বাচনের মাধ্যমেই আমরা প্রতিটি ক্যাম্পাসে আমাদের ইউনিট গঠন করব।" তিনি জানান, এনএসইউআই প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের সরব হওয়ার সুযোগ দেবে।
এছাড়া ওই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত কিরণ মুগাবাসভ জানান, এনএসইউআই-এর দেওয়া তালিকা অনুযায়ী রাজ্যভিত্তিক নির্বাচন ঘোষণা করা হবে। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এনএসইউআই চিহ্নিত রাজ্যগুলোতে সদস্য সংগ্রহের কর্মসূচি চালাবে। এরপর প্রধান নির্বাচন কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট রাজ্য সফর করবেন৷ সাংবাদিক বৈঠক করবেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ঘোষণা করবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি প্রযুক্তি-নির্ভর হবে৷ বিষয়টি অবাধ ও সুষ্ঠু করতে অ্যাপ-ভিত্তিক অনলাইন ব্যবস্থা থাকবে৷
সাংবাদিক বৈঠকে কে কে শাস্ত্রী জানিয়েছেন যে 30 এপ্রিল এনএসইউআই-এর অভ্যন্তরীণ নির্বাচন পরিচালনার জন্য কংগ্রেস নেতৃত্ব একটি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কর্তৃপক্ষ তৈরি করেছে৷ এই কর্তৃপক্ষ সারা দেশজুড়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করবে।

