তৃণমূলের অবস্থা একেবারে ফলতার মতো হয়ে গিয়েছে, কটাক্ষ শুভেন্দুর
মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের ধরনা মঞ্চে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷

Published : June 2, 2026 at 8:17 PM IST
তারকেশ্বর ও কলকাতা: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এক মাস কাটতে না কাটতেই রাজপথের রাজনীতি ও আকচা-আকচি এক নতুন মাত্রা পেল। মঙ্গলবার ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং দল ভাঙানোর রাজনীতির প্রতিবাদে ধরনায় বসেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু খাতায়-কলমে 78 জন বিধায়ক থাকা সত্ত্বেও এদিনের ধরনা মঞ্চে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত নগণ্য। আর এই বিষয়টিকে হাতিয়ার করেই হুগলির তারকেশ্বর থেকে তৃণমূল নেতৃত্ব ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ শানালেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
উপস্থিতির এই করুণ হারের নজির টেনে তৃণমূলের বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থাকে দক্ষিণ 24 পরগনার 'ফলতা'-র সঙ্গে তুলনা করে পরিহাস করেন তিনি। একই সঙ্গে তৃণমূলের ভাঙন রুখতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মরিয়া চেষ্টা নিয়েও নজিরবিহীন তির্যক মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তারকেশ্বরে আয়োজিত একটি কর্মসূচি থেকে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নে ওয়াই চ্যানেলের ধরনা মঞ্চের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র খোঁচা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলের এই করুণ দশাকে উপহাস করে তিনি বলেন, "এত দূরবস্থা! শুনলাম তিনজন সাংসদ আর ছ’জন বিধায়ক গিয়েছেন। দলটার অবস্থা একেবারে ফলতার মতো হয়ে গিয়েছে।" রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দু অধিকারী তাঁর এই মন্তব্যের মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন যে তৃণমূলের রাজনৈতিক রাশ এবং প্রভাব এখন অত্যন্ত সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
এখানেই শেষ নয়, দলের অন্দরে ভাঙন ঠেকাতে এবং বিধায়কদের ধরে রাখতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ক্রমাগত ফোন করছেন বলে যে খবর চাউর হয়েছে, তা নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হাসির ছলে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "উনি তো শুনলাম অসুস্থ! স্যালাইন নিচ্ছেন। অসুস্থ হলে কি এত ফোন করা যায় নাকি!" মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণাত্মক মন্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
প্রকৃতপক্ষে মঙ্গলবারের এই কর্মসূচিটি ঘুরপথে তৃণমূলের একটি বড়সড় শক্তি পরীক্ষা ছিল বলেই মনে করা হচ্ছিল। নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করে আসছিলেন যে তিনি হারেননি, বরং চক্রান্ত করে তাঁদের হারানো হয়েছে। দলের নেতা-কর্মীদের ওপর ভরসা রেখেই তিনি ফের ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনের পর কয়েক দিন পেরোতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে তৃণমূলের চেনা সংগঠন।
তৃণমূলের দীর্ঘদিনের অনেক হেভিওয়েট নেতা, যাঁরা একসময় মমতা বা অভিষেকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বৃত্তে ছিলেন, তাঁরা এখন প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করছেন। এই দলবদলের আবহেই গত রবিবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে জয়ী বিধায়কদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক মহলে জল্পনা সত্যি করে সেই বৈঠকে 20 জন বিধায়কও উপস্থিত হননি, যার জেরে শেষ পর্যন্ত চরম বিড়ম্বনায় পড়ে বৈঠকটি বাতিল করতে বাধ্য হয় তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
রবিবারের সেই ধাক্কার পর মঙ্গলবার ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলের ধর্নামঞ্চেও সেই চেনা জনস্রোত বা দলীয় নেতৃত্বের ভিড় স্পষ্টভাবেই উধাও ছিল। বিগত বছরগুলিতে মমতা বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের অভ্যন্তরে যে তারুণ্যের ওপর জোর দিয়েছিলেন এবং তরুণ মুখদের প্রার্থী করেছিলেন, এদিনের মঞ্চে তাঁদের কাউকেই দেখা যায়নি। দুর্দিনে নেত্রীর পাশে কেবল আদি তৃণমূলের কয়েকজন প্রবীণ নেতাই উপস্থিত ছিলেন।
বিধায়কদের মধ্যে কেবল নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র, ফিরহাদ হাকিম, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, অশোক দেব এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে দেখা যায়। অন্যদিকে সাংসদদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডেরেক ও ব্রায়েন, সামিরুল ইসলাম, দোলা সেন, মালা রায় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অর্থাৎ সাংসদ ও বিধায়ক মিলিয়ে মেরেকেটে 15 জন জনপ্রতিনিধিকেও এদিন পাশে পাননি তৃণমূল সুপ্রিমো৷

