ETV Bharat / politics

কংগ্রেসের 'অপারেশন ধুলিয়ান' ভেস্তে দিল তৃণমূল ! অনাস্থায় অপসারিত চেয়ারম্যান ইনজামুল

ধুলিয়ান পুরসভায় মোট কাউন্সিলর 21 জন । অনাস্থা ভোটে উপস্থিত ছিলেন 15 জন কাউন্সিলর । প্রত্যেকেই চেয়ারম্যান ইনজামুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভোট দেন ।

Dhuliyan Municipality
ধুলিয়ান পুরসভা (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : September 1, 2026 at 7:46 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

সামশেরগঞ্জ, 1 সেপ্টেম্বর: টানা এক মাসের রাজনৈতিক টানাপোড়েন, দলবদল, কংগ্রেসের অন্দরের দ্বন্দ্ব- সব নাটকের শেষে ধুলিয়ান পুরসভায় শেষ হাসি হাসল তৃণমূল । কংগ্রেসের পুরবোর্ড দখলের পরিকল্পনা কার্যত ভেস্তে দিয়ে নিজেদেরই চেয়ারম্যান ইনজামুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবে জয়ী হল ঘাসফুল । মঙ্গলবার কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে অনুষ্ঠিত আস্থা ভোটে 15-0 ভোটে চেয়ারম্যান পদ হারালেন ইনজামুল । ফলে ধুলিয়ান পুরসভার দখল অক্ষত রাখল তৃণমূল কংগ্রেস ।

ধুলিয়ান পুরসভায় মোট কাউন্সিলর 21 জন । অনাস্থা ভোটে উপস্থিত ছিলেন 15 জন কাউন্সিলর । প্রত্যেকেই চেয়ারম্যান ইনজামুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভোট দেন । উল্লেখযোগ্য, যাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা, সেই ইনজামুল ইসলাম নিজেই ভোটাভুটিতে অনুপস্থিত ছিলেন । তাঁর সঙ্গে আরও পাঁচ কাউন্সিলরও সভায় হাজির হননি ।

কংগ্রেসের 'অপারেশন ধুলিয়ান' ভেস্তে দিল তৃণমূল ! (ইটিভি ভারত)

তৃণমূল ছেড়ে ইনজামুল ইসলাম সম্প্রতি প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর হাত ধরে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন । তাঁর সঙ্গে আরও পাঁচ তৃণমূল কাউন্সিলরও কংগ্রেসের পতাকা হাতে নেন । সেই যোগদানের জোরে ধুলিয়ান পুরসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের আশা দেখছিল কংগ্রেস ।

কিন্তু সেই সমীকরণে জল ঢেলে দেয় কংগ্রেসের অন্দরের মতভেদ । পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত কংগ্রেস নেতা প্রকাশ যোশী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সামশেরগঞ্জের ওই যোগদান বৈধ নয় । জেলা কংগ্রেসকে না জানিয়ে এই ধরনের যোগদান গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন । এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অধীর চৌধুরী এবং প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে ।

তবে কংগ্রেসের অন্দরের টানাপোড়েনের অনেক আগেই ইনজামুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনাস্থার ভিত গড়ে তুলেছিল তৃণমূলেরই একাংশ । গত 4 আগস্ট সামশেরগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক নূর আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে 13 জন কাউন্সিলর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন । অভিযোগ ছিল, পুরসভায় দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে এই অনাস্থা আনা হয়েছে ।

নির্ধারিত সময়ে অনাস্থা সভা না ডাকায় বিষয়টি নিয়ে আইনি জটিলতাও তৈরি হয় । পরে তলবি সভা ডেকে মঙ্গলবার আস্থা ভোটের আয়োজন করা হয় । সকাল থেকেই ধুলিয়ান পুরসভা চত্বরে ছিল কড়া পুলিশি নিরাপত্তা । পুরসভার বাইরে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক নূর আলম চৌধুরী এবং তৃণমূল নেতা আনারুল হক বিপ্লব ।

Dhuliyan Municipality
পুরসভার দখল রইল তৃণমূলের হাতেই (ইটিভি ভারত)

ভোটের ফল প্রকাশের পর নূর আলম বলেন, "দল বদল করে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে কেউ রেহাই পাবে না । ধুলিয়ানের মানুষ দুর্নীতিমুক্ত পুরসভা চান ।" তৃণমূল কাউন্সিলর পারভেজ আলম ও সাজাহান মহলদারেরও দাবি, "পুরসভাকে দুর্নীতিমুক্ত করতেই অনাস্থা আনা হয়েছিল ।"

তবে অনাস্থা ভোটে চেয়ারম্যান অপসারিত হওয়ার পর থেকেই, নতুন চেয়ারম্যান কে হবেন, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে ধুলিয়ানে ৷ তৃণমূলের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও নাম ঘোষণা হয়নি । দলীয় সূত্রের খবর, খুব দ্রুত নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য ফের কাউন্সিলরদের সভা ডাকা হবে ।

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই মুর্শিদাবাদে পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং পুরসভাগুলিকে ঘিরে অনাস্থার রাজনীতি জোরদার হয়েছে । একাধিক ক্ষেত্রে বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ বদলেছে । সেই প্রেক্ষাপটে ধুলিয়ান ছিল সবচেয়ে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর পুরসভা । মঙ্গলবারের আস্থা ভোটে সেই লড়াইয়ের নিষ্পত্তি হল, চেয়ারম্যান গেলেন, কিন্তু পুরসভা রইল তৃণমূলের হাতেই !

খাড়গের 'শুদ্ধিকরণ' নিয়ে রাহুলের বিরুদ্ধে এফআইআর ! দেশজুড়ে পথে নামছে কংগ্রেস

ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে বিলবোর্ড খোলা: শেক্সপিয়ার সরণি থানায় হাজিরা অভিষেকের