'বিজেপিকে 50-এর নীচে নামান, দিল্লির মসনদও টলবে!' নজরুল মঞ্চে অভিষেক
খাওয়া-ঘুম-স্নান ছাড়া আগামী দু’মাস বাকি সময়টা বাংলা মায়ের জন্য দিন, কর্মীদের আহ্বান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের ৷

Published : March 2, 2026 at 5:13 PM IST
কলকাতা, 2 মার্চ: ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে রাজনৈতিক পারদ চড়ল আরও এক দফা । কলকাতার নজরুল মঞ্চ সোমবার পরিণত হল কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে । তৃণমূল কংগ্রেসের 'তপশিলির সংলাপ' কর্মসূচির সূচনা মঞ্চ থেকেই সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বার্তা, "বাংলায় বিজেপিকে 50 আসনের নীচে নামাতে পারলে 2029 পর্যন্ত দিল্লিতে বিজেপির সরকার টিকবে না ।"
শুধু রাজ্য রাজনীতির অঙ্ক নয়, অভিষেকের ভাষণে বারবার উঠে এল জাতীয় সমীকরণ । কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর কড়া নির্দেশ, "এমনভাবে লড়াই করতে হবে যাতে এদের 50-এর নীচে নামানো যায় । 2026-এ যদি বিজেপি বাংলায় ধাক্কা খায়, তার অভিঘাত দিল্লিতেও পড়বে ।" রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যে রাজ্য ভোটকে জাতীয় পরিসরে টেনে নিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে ।
তৃণমূলের কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু 84টি এসসি ও এসটি সংরক্ষিত আসন । অভিষেক বলেন, " এই 84টি আসনের দায় আপনাদের নিতে হবে । তফশিলি ভাই-বোনেরা একবুক আশা নিয়ে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁরা দেখুন বিজেপি তাঁদের কীভাবে অপমান করেছে ।" ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি স্মরণ করান বাবাসাহেব আম্বেদকর-এর সংগ্রামের কথা । একই সঙ্গে অভিযোগ তোলেন, বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আম্বেদকরের নামকেই 'ফ্যাশন' বানিয়েছে।
দলিত ও আদিবাসী নির্যাতনের প্রশ্নে তিনি তুলে ধরেন ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো-র তথ্য। অভিষেকের দাবি, তফশিলি সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচারের ঘটনায় বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিই শীর্ষে । রাম মন্দির উদ্বোধন প্রসঙ্গও এ দিন তাঁর বক্তৃতায় উঠে আসে । দেশের রাষ্ট্রপতি— যিনি একজন এসটি মহিলা— তাঁকে আমন্ত্রণ না জানানোর অভিযোগ তুলে বিজেপির সাংস্কৃতিক রাজনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন অভিষেক ।
সংবিধান বদলের আশঙ্কা তুলে অভিষেক বলেন, " যে দল 240 সাংসদ নিয়ে সংবিধান পাল্টাতে চায়, তারা আবার ক্ষমতায় এলে এসসি-এসটিদের অধিকার খর্ব হবে ৷"
বিজেপির রথযাত্রা নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, "রথযাত্রা আষাঢ়-শ্রাবণে হয় শুনেছি, ফেব্রুয়ারি-মার্চে রথ দেখলাম প্রথম !" তিনি আরও বলেন, "মানুষ যাঁদের নির্বাচিত করেছে, তাঁদের পা যদি মাটিতে না পড়ে, রথে বসে ভাষণ দেয়, তাহলে ক্ষমতায় থাকলে কীসে চড়ত ?" খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বিজেপির হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে তাঁর কটাক্ষ, " কে চিকেন প্যাটিস বিক্রি করবে, কে ভেজ রোল— তা দিল্লি ঠিক করবে না ।"
কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রসঙ্গেও সরব অভিষেক। তাঁর দাবি, গত সাত বছরে বাংলা থেকে কর বাবদ 7 লক্ষ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে কেন্দ্র । 100 দিনের কাজ ও আবাস যোজনার অর্থপ্রদান নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি বলেন, "গত পাঁচ বছরে বাংলায় বাড়ির জন্য কিংবা 100 দিনের কাজে 5 বা 10 পয়সা দিয়েছে দেখাতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব ।" একই সঙ্গে পালটা হিসেবে রাজ্যের প্রকল্পের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন— তপশিলি মা-বোনেরা 1700 টাকা করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন বলেও জানান ।
এসআইআর এর 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন' প্রসঙ্গ তুলে তাঁর অভিযোগ, “60 লক্ষ মানুষকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে । ভোটে বাংলার মানুষই এর জবাব দেবেন ।" এখানেই না থেমে ভাষণের শেষে কার্যত যুদ্ধের ডাক তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের, "খাওয়া-ঘুম-স্নান ছাড়া আগামী দু’মাস বাকি সময়টা বাংলা মায়ের জন্য দিন ।" সঙ্গে দৃঢ় ঘোষণা, যত দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন, "বাংলার মানুষকে কেউ ভাতে মারতে পারবে না ।"
আরও পড়ুন:
তফশিলি ভোট পেতে নজরে 'সংরক্ষিত' 84 আসন, নয়া জনসংযোগ কর্মসূচির সূচনা অভিষেকের
শুভেন্দু-শান্তনুর টার্গেট পূরণ করছে কমিশন ! 1.25 কোটি নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত, দাবি অভিষেকের

