মমতাকে হারানোর লক্ষ্যে পরিবর্তন যাত্রায় 5000 কিমি হাঁটবে বিজেপি
শুক্রবার পরিবর্তন যাত্রার টিজার লঞ্চ করা হয়৷ বিজেপির তিন শীর্ষ নেতা শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী ও সুকান্ত মজুমদারের উপস্থিতিতে এই টিজার প্রকাশ্যে আনা হয়৷

Published : February 27, 2026 at 9:12 PM IST
কলকাতা, 27 ফেব্রুয়ারি: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর লক্ষ্য নিয়ে আগামী রবিবার পরিবর্তন যাত্রা শুরু করছে ভারতীয় জনতা পার্টি৷ সেই যাত্রায় পাঁচ হাজার কিলোমিটার হাঁটবেন গেরুয়া শিবিরের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা৷
এই কর্মসূচিতে সকলকে যোগদানের আহ্বান জানিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "এই যুগ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আমরা আপনাদের কাছে সর্বস্তরে পরিবর্তনের লক্ষ্যে এগোচ্ছি। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ, যেকোনও রাজনৈতিক দলের মানুষ এই পরিবর্তন যাত্রায় যোগদান করুন এটাই চাই।"

শুক্রবার কলকাতায় এই পরিবর্তন যাত্রার টিজার লঞ্চ করে বিজেপি৷ সেখানেই এই কথা বলেন শমীক ভট্টাচার্য৷ অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "বদলা নয় বদল চাইয়ের স্লোগান দিলেও রাজ্যে সীমাহীন তোষণ, রাজনৈতিক সন্ত্রাস দেখেছে বাংলার মানুষ। তাই পরিবর্তন হবেই।" আর কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘‘এই যাত্রা পরিবর্তনের গঙ্গাকে ভগীরথের মতো পথ দেখাবে। এই যাত্রায় লক্ষাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করবেন। বাংলার মানুষের মনের ক্ষোভ দেখতে পাবেন।"
এদিনের টিজার লঞ্চের অনুষ্ঠানে গেরুয়া শিবিরের তরফে এই কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়৷ বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, আগামী 1 মার্চ থেকে পরিবর্তন যাত্রা শুরু হবে। 1 মার্চ চারটি বড় জনসভা হবে। 2 মার্চ পাঁচটি বড় জনসভা হবে। এই কর্মসূচিতে জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও প্রাক্তন জাতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্ব উপস্থিত থাকবেন।
বিজেপির তরফে আরও জানানো হয়েছে, 3 ও 4 মার্চ দোলের পর আবার 5 মার্চ ন’টি যাত্রা হবে এবং কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে এই যাত্রা শেষ হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসভা মাধ্যমে। পরিবর্তন যাত্রা উপলক্ষ্যে 64 বড় জনসভা, 300 ছোট সভা হবে এবং 250টি জায়গায় বিভিন্ন সম্প্রদায়, জনগোষ্ঠীর মানুষজন একে স্বাগত জানাবেন। 250টি বিধানসভা দিয়ে এই যাত্রা হবে। বাকি 44টি বিধানসভায় ব্রিগেড অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ভিন্ন কর্মসূচি হবে। প্রতি জায়গায় ট্যাবলো, ধারাবাহিকভাবে পথসভা চলবে।

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘মোট পাঁচ হাজার কিমি রুট ম্যাপ রয়েছে। গৃহ সম্পর্ক অভিযানের পাশপাশি এই রাজ্যে সদস্যতা অভিযানের মাধ্যমে আমরা প্রায় 50 লক্ষ সদস্য সংগ্রহ করতে পেরেছি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগেই পরিবর্তনের মূল সুর বেঁধে দিয়েছিলেন। এবার সেটাকেই পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই এই কর্মসূচি। প্রধানমন্ত্রী নিজে গ্যারান্টি দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনার। এই যাত্রাকে বিজেপি সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া যাবে ও জনগণকে সংযুক্ত করব।’’
অন্যদিকে সুকান্ত মজুমদার এই যাত্রা নিয়ে বলেন, ‘‘এই যাত্রা ঐতিহাসিক যাত্রা হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ পরিবর্তন চাইছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। এমনকি ভবানীপুরেও মানুষ পরিবর্তন চাইছেন। 1000 এর বেশি মণ্ডল, 38টি সাংগঠনিক জেলা, 110 কিমি বেশি রুটে নেতৃত্ব 56টি সভায় রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব উপস্থিত থাকবেন।’’
এদিনের অনুষ্ঠানে টিজার লঞ্চ ছাড়াও পরিবর্তন যাত্রার একটি বিশদ ভিডিয়ো প্রকাশ করা হয়। এই টিজারটি বিজেপির তরফে সোশাল মিডিয়ায় আপলোড করা হবে। এদিন পরিবর্তন যাত্রার পুস্তিকা প্রকাশ করেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। এটি ইংরেজি এবং বাংলায় পাওয়া যাবে।

ওই অনুষ্ঠানে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘দীর্ঘ 34 বছরের নিরবিচ্ছিন্ন বাম শাসনের পর 2011 সালে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য রাজনৈতিক পালাবদল হয়। মানুষ চেয়েছিলেন সার্বিক পরিবর্তন। কিন্তু 2011 সালের পর পশ্চিমবঙ্গের মানুষের প্রাপ্তি কী? একটা একদলীয় শাসকের অবসানের পর আর একটি একদলীয় শাসক ক্ষমতায় এসেছিল। এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে কোনও সরকার নেই। তৃণমূল কংগ্রেস চলে গিয়েছে, যাচ্ছে ও যাবে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘এই লড়াই সাধারণ মানুষের সঙ্গে তৃণমূলের লড়াই। এই লড়াই প্রকৃতির সঙ্গে তৃণমূলের লড়াই। তৃণমূল কোথাও দুর্নীতি ছাড়া এক পা-ও এগোয় না। আজ দুর্নীতি ও তৃণমূল সমার্থক হয়ে গিয়েছে। নির্বাচন আগত। 12টা রাজ্যে এসআইআর হলেও কোথাও পশ্চিমবঙ্গের মতো পরিস্থিতি হয়নি। আজ সর্বস্তরের মানুষ আক্রান্ত।’’
শমীক ভট্টাচার্য আরও বলেন, "পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ঝাড়খণ্ড, বিহারে যেভাবে জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে, যেভাবে মেধা, শ্রম অন্যত্র চলে যাচ্ছে - সেই ধ্বংসকে বাঁচাতে আমরা চাইছি সবার যোগদান। আমরা চাই তৃণমূলের যাঁরা ওই অমৃত রস পান করেননি, কংগ্রেসের জাতীয়তাবাদী, বামেরাও এতে যোগদান করুন। আমাদের আবেদন পশ্চিমবঙ্গকে গভীর অসুখ থেকে বের করে আনতে হবে। তার লক্ষ্যেই এই যাত্রা।"

