অনুব্রত মণ্ডলের কার্যালয়ে তালা ঝোলাল বিজেপি, দর্শক পুলিশ
পুলিশকে বিজেপি নেতা-কর্মীদের বাধা দিতে দেখা যায়নি ৷ এদিন কার্যালয়ে তালা দেওয়ার সময় নিচুপট্টিতে নিজের বাড়িতেই ছিলেন কেষ্ট ৷

Published : July 7, 2026 at 2:58 PM IST
বোলপুর, 7 জুলাই: অনুব্রত মণ্ডলের কার্যালয়ে চড়াও হয়ে তালা ঝুলিয়ে দিলেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা । দলীয় কার্যালয় থেকে তৃণমূল কর্মীদের বের করে 'জয় শ্রীরাম' স্লোগান দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় ৷ চাবি নিয়ে চলে যান বিজেপি নেতা অরুণ দাস । যদিও, বোলপুর থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে তৃণমূলের এই কার্যালয় ৷ তাও পুলিশকে বিজেপি নেতা-কর্মীদের বাধা দিতে দেখা যায়নি ৷ একদা বোলপুরের এই কার্যালয় থেকে বীরভূম জেলা পরিচালনা করতেন দোর্দণ্ডপ্রতাপ অনুব্রত মণ্ডল । এদিন কার্যালয়ে তালা দেওয়ার সময় নিচুপট্টিতে নিজের বাড়িতেই ছিলেন কেষ্ট ৷
বোলপুর পুরসভা থেকে উন্নয়মূলক পরিষেবা মিলছে না ৷ এই অভিযোগে পুরসভায় এসে কথা বলেন বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল ৷ সেই সময় পুরসভার বাইরে জড়ো হয়েছিলেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা । পুরসভার অদূরেই তৃণমূল-কংগ্রেসের কার্যালয়, যা মূলত অনুব্রত মণ্ডলের কার্যালয় হিসাবেই পরিচিত । বিজেপি নেতা-কর্মীরা চড়াও হন সেই কার্যালয়ে । তৃণমূল কর্মীদের বের করে দিয়ে দুটি গেটেই তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় ৷ তবে এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে ৷ বোলপুর থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে অনুব্রত মণ্ডলের এই দলীয় কার্যালয় । তাও বিজেপি কর্মীদের তালা ঝোলাতে বাধা দিতে দেখা যায়নি পুলিশকে ৷
উল্লেখ্য, একদা বোলপুরের এই তৃণমূল-কংগ্রেসের কার্যালয় থেকে বীরভূম জেলা পরিচালনা করা হত ৷ গুঞ্জন রয়েছে, এই কার্যালয় থেকেই বকলমে ঠিক করা হত কে কোন থানার ওসি হবেন, কোন ঠিকাদার কি টেন্ডার পাবেন ৷ এমনকী ঠিক হতো নানা প্রশাসনিক কাজকর্মও ৷ যা নিয়ে একাধিকবার বিতর্কও হয়েছে বিগত 15 বছরে ।

রাজ্যে পালাবদলের পর এই কার্যালয়ে তৃণমূল কর্মীদের যাতায়াত কমলেও বিকেলে নিয়ম করে কার্যালয়ে বসতেন অনুব্রত মণ্ডল । সেই কার্যালয়ে এবার ঝুলল তালা ৷ বিজেপি নেতা অরুণ দাসের নেতৃত্বে এদিন তালা ঝুলিয়ে দিয়ে চাবি নিয়ে চলে যাওয়া হয় ৷ অথচ, ডাবল ইঞ্জিন সরকার আসার পর বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন, কোথাও কোনও তৃণমূল কার্যালয় দখল করা যাবে না ৷ দলের শীর্ষ নেতার নির্দেশকে কার্যত অমান্য করেই অনুব্রত মণ্ডলের কার্যালয় দখল করে নেওয়া হল ৷

বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক অরুণ দাস বলেন, "আমরা বোলপুর পুরসভায় এসেছিলাম, কারণ সাধারণ মানুষ পরিষেবা পাচ্ছিল না । তখন এসে জানতে পারি এখনও এই পুরসভা চলছে অনুব্রত মণ্ডলের কার্যালয় থেকে । তাই আমরা কেষ্ট-চন্দ্রনাথের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছি । দিনের পর দিন অন্যায় হয়েছে এই কার্যালয়ের নির্দেশে । মানুষ কোনও সুযোগ-সুবিধা পায়নি । সবার ক্ষোভ রয়েছে । বোলপুর যুব মোর্চার পক্ষ থেকে তালা ঝোলানো হল তৃণমূল পার্টি অফিসে ।"

বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, "আমি খোঁজ নিয়ে দেখব ৷ তবে তৃণমূল কি কারও পার্টি অফিসে কখনও তালা দেয়নি নাকি ! কম অত্যাচার তো ওরা করেনি ! তখন আপনারা কী করতে পেরেছিলেন ! তবে আমি খোঁজ নিয়ে দেখব, যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেব ।"


