বাংলাকে কেন্দ্র করে সারা ভারতে সমস্যা হচ্ছে, অনুপ্রবেশ নিয়ে মমতাকে তোপ নিতিনের
বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় যোগ দিতে রবিবার উত্তরবঙ্গে এসেছেন বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন৷

Published : March 2, 2026 at 5:44 PM IST
শিলিগুড়ি (দার্জিলিং), 2 মার্চ: অনুপ্রবেশ ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন৷ তাঁর দাবি, অনুপ্রবেশের জন্য বাংলাকে কেন্দ্র করে সারা ভারতে সমস্যা হচ্ছে৷
বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় যোগ দিতে গতকাল রবিবার উত্তরবঙ্গে এসেছেন নিতিন নবীন৷ সোমবার তাঁর উত্তরবঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিন ছিল৷ এদিন শিলিগুড়ি সংলগ্ন সুকনার এক হোটেলে একাধিক বৈঠক করেন তিনি। সেখানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন বিজেপির জাতীয় সভাপতি৷
নিতিন নবীন বলেন, ‘‘বাংলাদেশ থেকে মানুষ নিয়ে এসে এখানে বসাচ্ছে। এই কাজ করছে বাংলার সরকার। এই মানুষগুলোকে কে বসাল, তাদের কাজ কে দিল, এগুলো চিন্তার বিষয়। অনুপ্রবেশকারী নিয়ে কথা বললে মানুষ অন্যভাবে দেখছে৷ ভারতের হিন্দু হোক আর মুসলমান হোক সবাই নিজেদের অধিকার পাবে। কিন্তু দেশের মানুষের অধিকার কাড়তে দেব না। তার জন্য লড়াই করতে হলে করব।’’
এর পর তাঁর সংযোজন, ‘‘এবারের বিধানসভা নির্বাচন বাংলার জন্য নির্বাচন নয়৷ দেশের জন্য এই নির্বাচন। বাংলাকে কেন্দ্র করে সারা ভারতে সমস্যা হচ্ছে৷ অনুপ্রবেশকারীদের জন্য মমতা দিদি কালো কোর্ট পড়ে দিল্লি গিয়েছিল। বাংলাকে সুরক্ষিত করার জন্য এই নির্বাচন৷ সীমান্ত সুরক্ষার জন্য সামান্য জমি দেয়নি। মুখ্যমন্ত্রীকে আমার প্রশ্ন আপনি কাদের৷’’
সেখানে অনুন্নয়নের অভিযোগ তুলেও তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন বিজেপির জাতীয় সভাপতি৷ তিনি বলেন, ‘‘বাংলায় যে ধরনের উন্নয়ন দরকার ছিল, সেই উন্নয়ন আজও হয়নি। বাংলার উন্নয়ন ছাড়া ভারতের উন্নয়ন সম্ভব নয়। দার্জিলিংয়ের চা গোটা বিশ্বে পরিচিত। 170 বছরের ইতিহাসে ছেদ পড়েছে। উৎপাদনে চা আজ নিন্মগামী। যে চায়ে পরিচিতি, সেই চা নিয়েও এই সরকার ছেলেখেলা করছে। সেমি কন্ডাক্টরের হাব যেখানে হচ্ছে, সেখানে বাংলায় সামান্য ইন্ডাস্ট্রি আসছে না।’’

এদিন শিলিগুড়িতে শঙ্কর ঘোষ, নীরজ জিম্বা, দুর্গা মুর্মু, আনন্দময় বর্মন-সহ বিজেপির একাধিক বিধায়কের সঙ্গে বৈঠক করেন নিতিন নবীন৷ এছাড়াও বৈঠক করেন পাহাড়ের জনজাতিদের প্রতিনিধি, পাহাড়-তরাই-ডুয়ার্সের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের সঙ্গেও।
সূত্রের খবর, বৈঠকের মাঝে উঠে আসে গোর্খাল্যান্ডের দাবি। আলাদা রাজ্য না-হলে অন্তত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরি দাবি বলে বৈঠক সূত্রে জানা যায়। শুধু তাই নয়, পৃথক রাজ্যের দাবি ছাড়াও পাহাড়ের 11টি জনজাতিকে ষষ্ঠ তফসিল উপজাতির স্বীকৃতির দাবি জানানো হয়েছে নিতিন নবীনের কাছে বলে জানা গিয়েছে।
দার্জিলিংয়ের বিধায়ক নীরজ জিম্বা বলেন, "আমাদের সঙ্গে খুব ভালো বৈঠক হয়েছে। পাহাড়ের মানুষের যা সমস্যা, তা তুলে ধরা হয়েছে৷ স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান, জনজাতির স্বীকৃতি, রোজগারের সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে গোর্খারা আছে, সেখানে গোর্খাল্যান্ডের দাবি উঠবেই। আর এদিনের বৈঠকে উঠেছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার পদক্ষেপ করবে।"
সাংসদ রাজু বিস্তা বলেন, "কেন্দ্রীয় সরকার পাহাড়, তরাই, ডুয়ার্সের সমস্যা নিয়ে অবগত। আর কেন্দ্রীয় সরকার এখানকার সমস্যা নিয়ে কাজ করছে। সেজন্য মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করা হয়েছে। আর আমি পাহাড় ও পাহাড়বাসীর সমস্যা নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাব।"

