শিলিগুড়িতে প্রকাশ্যে বিজেপির কোন্দল ! মূর্তি সাফাইয়ের কর্মসূচিতে 'হাতাহাতি'
প্রকাশ্য কর্মসূচিতে দুই নেতার এই সংঘাতের ছবি ও অভিযোগ দলের অন্দরের বিরোধকে আরও প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে । এখন দেখার জেলা নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ করে ৷

Published : September 1, 2026 at 10:43 PM IST
শিলিগুড়ি, 1 সেপ্টেম্বর: সিধু-কানহুর মূর্তি পরিষ্কার করার কর্মসূচি । অথচ সেই কর্মসূচিই শেষ পর্যন্ত পরিণত হল বিজেপির অন্দরের কোন্দলের প্রকাশ্য মঞ্চে ! সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে দলের দুই নেতার বচসা থেকে হাতাহাতির অভিযোগ ঘিরে মঙ্গলবার শিলিগুড়ির 12 নম্বর ওয়ার্ডে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল । অভিযোগের কেন্দ্রে বিজেপির প্রবীণ নেতা তথা দলের সাধারণ সম্পাদক নান্টু পাল । তাঁর সঙ্গে বিজেপির ওবিসি মোর্চার সভাপতি প্রলয় ঘোষের প্রকাশ্য বাদানুবাদ এবং ধস্তাধস্তির ঘটনায় অস্বস্তিতে নেতৃত্ব ।
ঘটনার সূত্রপাত এদিন সকালে । 12 নম্বর ওয়ার্ডে সিধু-কানহুর মূর্তি পরিষ্কার এবং মাল্যদানের কর্মসূচি নিয়েছিল বিজেপি । সেখানে নান্টু পাল ছাড়াও দলের স্থানীয় নেতা-কর্মী এবং সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন । কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার সময় আচমকাই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে । অভিযোগ, ক্যামেরার সামনে কে কোথায় দাঁড়াবেন এবং দলের নির্দিষ্ট কর্মসূচিতে কার ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েই নান্টু পালের সঙ্গে ওবিসি মোর্চার সভাপতি প্রলয় ঘোষের বচসা শুরু হয় ।
বচসা দ্রুত চড়া সুর নেয় । অভিযোগ, এক সময় তা ধাক্কাধাক্কি এবং হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছে যায় । ঘটনাস্থলে থাকা বিজেপির অন্য কর্মী-সমর্থকরা ছুটে এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন । প্রকাশ্য কর্মসূচিতে দলের দুই নেতার এই আচরণে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে বিজেপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিয়েও ।
স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের একাংশের দাবি, 12 নম্বর ওয়ার্ডে এর আগে নান্টু পালের তেমন সক্রিয় উপস্থিতি দেখা যায়নি । তাঁদের অভিযোগ, হঠাৎ করে ওই ওয়ার্ডের কর্মসূচিতে এসে তিনি স্থানীয় কর্মীদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করছেন । অন্যদিকে, গোটা ঘটনাকে 'বড় করে দেখা হচ্ছে' বলে দাবি করেছেন নান্টু পাল । তাঁর বক্তব্য, 12 নম্বর ওয়ার্ডে তিনি কো-অর্ডিনেটর হিসাবে মূর্তি পরিষ্কার এবং মাল্যদানের কর্মসূচিতে ছিলেন । তাঁর কথায়, বুথ সভাপতি রাজকুমার পণ্ডিত এবং রীনা ঠাকুর-সহ স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করেই কর্মসূচি হয়েছিল ।
নান্টুর দাবি, সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়ানোর সময় দলের বুথ নেতৃত্বের এক জনকে সরিয়ে দিয়ে ওবিসি মোর্চার সভাপতি বিশৃঙ্খলা তৈরি করেন । তাঁর অভিযোগ, "রাজকুমার পণ্ডিতকে সরিয়ে মোর্চার প্রেসিডেন্ট প্রলয় ঘোষ জোর করে বিশৃঙ্খলা করে ।" নান্টুর বক্তব্য, "আমাদের দলের একটা শৃঙ্খলা আছে । বিজেপির হায়ার অথরিটি ঠিক করবে কী ভাবে কী হবে ।"

তাঁর আরও দাবি, কোনও নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা দলের নেতৃত্বকে জানানো উচিত, প্রকাশ্য কর্মসূচিতে বা সংবাদমাধ্যমের সামনে বিশৃঙ্খলা করা নয় । ঘটনার পর দলের জেলা নেতৃত্ব এবং ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেছেন নান্টু । তাঁর কথায়, "নিচুতলায় কর্মীর সামনে, মিডিয়ার সামনে বিজেপির বিশৃঙ্খলা মানায় না ।" অন্যদিকে প্রলয় ঘোষের অভিযোগ, " অতীতে তৃণমূলে থাকাকালীন বিজেপি কর্মীদের ওপর অত্যাচার করেছেন নান্টু ৷ ফের বিজেপিতে এসে তিনি সেই কালচার শুরু করতে চাইছেন ৷"
ফলে সিধু-কানহুর মূর্তি পরিষ্কারের কর্মসূচি ঘিরে যে প্রশ্নটি এখন বড় হয়ে উঠেছে, তা শুধু হাতাহাতির অভিযোগ নয়, বিজেপির স্থানীয় সংগঠনে নেতৃত্বের টানাপড়েন কতটা গভীরে, সেটাই । প্রকাশ্য কর্মসূচিতে দুই নেতার এই সংঘাতের ছবি ও অভিযোগ দলের অন্দরের বিরোধকে আরও প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে । এখন জেলা নেতৃত্ব কী ভাবে এই ঘটনার মোকাবিলা করে এবং অভিযুক্ত দুই পক্ষের বিরুদ্ধে কোনও সাংগঠনিক পদক্ষেপ হয় কি না, সে দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের ।

