পৃথক রাজ্যের দাবি আদায়ে কেএলও-র জীবন সিংহের সংগঠনের সঙ্গে হাত মেলালেন গুরুং
শনিবার শিলিগুড়ি সংলগ্ন শালবাড়িতে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রধান বিমল গুরুং কেএসডিসি'র সঙ্গে বৈঠক করেন৷

Published : February 28, 2026 at 8:58 PM IST
শিলিগুড়ি, 28 ফেব্রুয়ারি: বিধানসভা নির্বাচনের আগে আরও জোরালো হচ্ছে পৃথক রাজ্যের দাবি। একদিকে, গোর্খাল্যান্ড আর অন্যদিকে, কামতাপুর পৃথক রাজ্যর দাবি ছিলই। পৃথক রাজ্যের দাবিতে সশস্ত্র আন্দোলনের পরেও গোর্খাল্যান্ড আদায় হয়নি। অন্যদিকে, কামতাপুর পৃথক রাজ্যের দাবিও বহুদিনের। কিন্তু আলাদা রাজ্যের দাবি পূরণ না হওয়ায় এবার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও সমতলের ভূমিপুত্রদের স্বার্থে আন্দোলনকারী দলগুলিকে একজোট করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিলের (কেএসডিসি) মাধ্যমে কেএলও প্রধান জীবন সিংহ ওই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যেই শুক্রবার শিলিগুড়ি সংলগ্ন শালবাড়িতে একটি ভবনে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রধান বিমল গুরুংয়ের সঙ্গে কেএসডিসি'র নেতাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আয়োজিত হয়। এই বৈঠকের পর 'সেপারেট স্টেট ডিমান্ড কমিটি' নামে একটি নতুন যৌথ মঞ্চ আত্মপ্রকাশ করে। আগামিদিনে পৃথক রাজ্যের দাবি তুলে আসা অন্যান্য সংগঠনগুলিকে এই ছাতার তলায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আর এই নিয়ে রাজনৈতিকমহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।

কেসিডিএ'র মুখপাত্র রতন বর্মন বলেন, "ভোটের আগে বিক্রি হয়ে যাওয়া সংগঠন নই। নিজের অধিকার কেড়ে নিতে বদ্ধপরিকর। আশা করি, সবাই মিলে একসঙ্গে থাকবে ও দাবি আদায়ে একসঙ্গে কাজ করব।" অন্যদিকে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি বলেন, "ছোট রাজ্য, ছোট সংস্কৃতি, নিজস্ব পরিচয়পত্রের জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে চাই। সেজন্য পাহাড়, সমতলের দুটি সংগঠন আপাতত ঐক্যবদ্ধ হয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করা হল।"

ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গ ও অসমের বেশ কিছু সংগঠন কেএসডিসি’র সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আন্দোলনকারী নেতাদের মতে, প্রতিটি সংগঠন পৃথকভাবে লড়াই করলেও তাদের মূল দাবিগুলি প্রায় এক। তবে কোচবিহার রাজ্য, গোর্খাল্যান্ড কিংবা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মতো ভিন্ন ভিন্ন দাবির কারণে সংগঠনগুলির মধ্যে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য লক্ষ করা যায়। ইতিপূর্বে বিধানসভা নির্বাচনের আগে 'কামতাপুর সেপারেট স্টেট ডিমান্ড ফোরাম' গঠিত হলেও শেষপর্যন্ত তার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

