ভোট প্রচারে AI, মানুষ মজেছে 'গব্বর সিং'-য়ে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টালিজেন্স (এআই) দিয়ে ভিডিয়ো তৈরি করে সোশাল মিডিয়ায় লড়াই শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল ও বিজেপি৷

Published : February 25, 2026 at 8:44 PM IST
তারক চট্টোপাধ্যায়
আসানসোল, 25 ফেব্রুয়ারি: রাজ্যে এখনও বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি। প্রার্থীর নামও ঘোষণা করেনি কোনও দল। কিন্তু তার মধ্যেই আসানসোলে প্রচার শুরু হয়েছে পুরোদমে। দেওয়াল লিখন তো আছেই, এবার ভোটে নজর কাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। বিশেষ করে পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভায় নরেন-জিতেনের লড়াইয়ে প্রচার মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে ব্যঙ্গার্থক এআই ভিডিয়ো। যাতে ফিরে এসেছে শোলে সিনেমার সেই চিরায়ত চরিত্র গব্বর সিং।
ভোটের দিনক্ষণ কী হবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। প্রার্থী বাছাইও দূরঅস্ত। কিন্তু এরই মধ্যে পাণ্ডবেশ্বর জুড়ে দেখা যাচ্ছে ভোটের উত্তেজনা। শাসক দল ও বিরোধী প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির স্থানীয় কর্মী-সমর্থকরা কার্যত প্রাথী চিহ্নিত করেই ফেলেছেন যেন।
একদিকে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে উন্নয়নমূলক কাজের সূচনা ও জনসংযোগ করছেন পাণ্ডবেশ্বরের বর্তমান বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ও তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূলের স্থানীয় কর্মী-সমর্থকরা যেন ধরেই নিয়েছেন নরেন্দ্রনাথই তৃণমূলের প্রার্থী হচ্ছেন। অন্যদিকে এলাকার নানা অব্যবস্থা তুলে ধরে বিধায়ককে আক্রমণ করছেন বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারি। তিনিও বিজেপির প্রার্থী হচ্ছেন, স্থানীয় নেতাকর্মীরা তা ধরেই নিয়েছেন। আর চির-প্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই নেতার লড়াই বেশ জমে উঠেছে ভোটের ময়দানে।
কয়েকদিন ধরে ভোটের সেই 'যুদ্ধ' কার্যত সোশাল মিডিয়ায় আছড়ে পড়েছে। এআই-এর সাহায্য নিয়ে দুই শিবিরই একে অপরকে আক্রমণ করছে। তবে, মজার ভিডিয়ো দেখে হাসি চেপে রাখতে পারছেন না পাণ্ডবেশ্বরের বাসিন্দারাও। ভোটের আগে শিল্পাঞ্চলের এই বিধানসভা এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে৷


ভোট প্রচারে ব্যঙ্গাত্মক এই এআই ভিডিয়োর অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে গব্বর সিং। যদিও তৃণমূলই বেশী পারদর্শী হয়ে উঠেছে এই এআই দ্বারা নির্মিত ভোট প্রচারে। তাঁরা বেশ কয়েকটি ভিডিয়োতে জিতেন্দ্র তেওয়ারিকে গব্বর সিং বানিয়ে সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছে। তা নিয়ে রীতিমতো হইচই পড়েছে।
পাশাপাশি এই রকম এআই ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, বেশ কয়েকটি কুকুর বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারিকে ধাওয়া করেছে। তিনি ভয়ে পালাচ্ছেন। কোথাও আবার দেখা যায়, টিকিট পেতে দলীয় নেতাদের পায়ে কান্নায় লুটিয়ে পড়ছেন জিতেন্দ্র। কোথাও বা জিতেন্দ্র তেওয়ারিকে স্থানীয় গ্রামীণ ভাষায় 'হাবল' নামে ডাক দিয়ে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে।


ব্যঙ্গ করা হয়েছে আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালকেও। তিনি বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে যে রাস্তার নাম জানেন না, ক্লাবের নাম জানেন না, তা নিয়েও তাঁকে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে। তার সঙ্গে গান জুড়ে দেওয়া হচ্ছে ‘দিদিভাইয়ের দেখা নাই’।
পিছিয়ে নেই বিজেপি সমর্থকরাও৷ তাঁরাও পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে গব্বর সিং সাজানো থেকে শুরু করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বন্ধ করে দেবেন, এমন হুমকি দেওয়া বিধায়ক সাজিয়েছেন। তবে এআই-এ হাত পাকানোতে তৃণমূল কংগ্রেসই এগিয়ে আছে একথা বলাই বাহুল্য।


তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, "গব্বর সিং শোলেতে একজন শোষক, অত্যাচারী, মানুষের শান্তি লুণ্ঠনকারী ডাকাত সরদার। তার বিরুদ্ধেই জয়-বিরুর লড়াই। অর্থাৎ সত্যের লড়াই। সেই কারণেই অশুভ মানুষজনদের প্রতিকী হিসেবে গব্বর সিংয়ের রূপ দেওয়া হয়েছে। আর এটা এআই প্রযুক্তির যুগ। প্রযুক্তির সঙ্গে এগিয়ে চলতে হবে। সেই কারণেই তৃণমূল প্রযুক্তির সঙ্গে এগিয়ে চলেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন প্রতিটি ব্লকে ডিজিটাল যোদ্ধা তৈরি করেছেন, তেমন ভাবেই আমাদের কর্মী সমর্থকরাও এআই শিখে, তা দিয়ে ভোট প্রচারে নেমে পড়েছে। এটা তো এগিয়ে থাকারই বার্তা।"


যদিও জিতেন্দ্র তেওয়ারি বলেন, ''আমরা এই ধরনের কোনও এআই দিয়ে প্রচার বানাচ্ছি না। কাউকে নির্দেশও দেওয়া হয়নি। তবে আমাদের দলের কর্মী-সমর্থকরা কেউ বানালে, তাদের উপর তো পুরো আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। কিন্তু আমি আমার নিজস্ব ব্যক্তিগত পেজ থেকে কখনোই নরেন চক্রবর্তীর ছবি পোস্ট করব না। এতটা দুর্দিন আমার আসেনি। নরেন চক্রবর্তীর মতো একজন অত্যাচারী, বালি কয়লা চোর মানুষের এআই ভিডিয়ো বানানোর মতো খারাপ সময় আমার আসেনি।''


এআই দিয়ে ভোট প্রচারে পুরনো কমিকের যুগ যেন ফিরে এসেছে বলেই মনে করছেন এলাকাবাসী৷ ভোট প্রচারের মাঝে কটাক্ষ করা কার্টুন দেখতেও মন্দ লাগছে না। তবে সাধারণ মানুষের দাবি, এই এআই প্রচার কখনোই যেন নিম্নরুচির না-হয়ে যায়।


