ETV Bharat / politics

ছাব্বিশে বাংলায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সরকার গড়বে বিজেপি, আত্মবিশ্বাসী শাহ

বাংলায় পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলির ট্র্যাক রেকর্ড তুলে ধরে অমিত শাহ বলেন, কয়েক বছরে বিরাট গতিতে ভোট বেড়েছে বিজেপির ৷

ETV BHARAT
সাংবাদিক সম্মেলনে অমিত শাহ (চিত্র: সোশাল মিডিয়া)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : December 30, 2025 at 1:06 PM IST

5 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 30 ডিসেম্বর: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বঙ্গে পরিবর্তন আসছে ৷ তৃণমূল সরকারের পতন ঘটিয়ে বিজেপির সরকারই ক্ষমতায় আসবে ৷ বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে আত্মবিশ্বাসী সুর অমিত শাহের ৷ শুধু ক্ষমতা দখলই নয়, তাঁর এটাও দাবি, আসন্ন নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বঙ্গে সরকার গড়বে পদ্ম শিবির ৷

সল্টলেকে মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "এবার বাংলায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিজেপিই সরকার গড়বে, এটা মজবুত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে বলছি ৷" বাংলায় পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলির ট্র্যাক রেকর্ড তুলে ধরে অমিত শাহ বলেন, কয়েক বছরে বিরাট গতিতে ভোট বেড়েছে বিজেপির ৷

বঙ্গ জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী শাহ (ভিডিয়ো: সোশাল মিডিয়া)

তাঁর কথায়, "2014 সালে লোকসভায় 17 শতাংশ ভোট পেয়েছে বিজেপি, আসন পেয়েছি 2টি, 2019 লোকসভায় এসেছে 41 শতাংশ ভোট, আসন 18টি ৷ আর 2021 সালের বিধানসভায় এসেছে 38 শতাংশ ভোট ৷ আসন বেড়ে হয়েছে 77 ৷" বিজেপির উত্থানে বাংলায় কংগ্রেস বিগ জিরোতে পরিণত হয়েছে এবং 34 বছর ক্ষমতায় থাকা বামফ্রন্টও মুছে গিয়েছে বলে দাবি করেন শাহ ৷

অমিত শাহের দাবি, বাংলার মানুষ ভেবেছিল কমিউনিস্টদের সরকার চলে গেলে হিংসার পরিবেশ থেকে মুক্তি মিলবে ৷ তবে তৃণমূলের সরকারেও এখন মানুষ ভীত, চিন্তিত ও আশঙ্কিত ৷ বিজেপি করলে মার খেতে হচ্ছে ৷ শাহের কথায়, "বাংলার জনতাকে আশ্বাস দিতে চাই, মোদিজির নেতৃত্বে বাংলার ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করব, উন্নয়ন চলবে ৷ গরিবদের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে ৷"

বাংলার জনতার কাছে তাঁর আবেদন, "কংগ্রেসকে সুযোগ দিয়েছেন । বামেদের সুযোগ দিয়েছেন । তৃণমূলকে সুযোগ দিয়েছেন ৷ আর তারা দুর্নীতি এবং অনুপ্রবেশকে মদত দিচ্ছে । তাই আমাদের এবার সুযোগ দিন । আমরা বাংলায় ভয়, দুর্নীতি আর অনুপ্রবেশের জায়গায় বিকাশ ও গরিবদের কল্যাণের জন্য কাজ করব ।"

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে একহাত নিয়ে শাহের দাবি, "সরকারের উন্নয়ন চলে গিয়েছে সিন্ডিকেটের কবলে । বিজেপি সরকার গঠন করার পর বাংলায় গৌরব ও সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ ঘটাব । আমরা স্বামী বিবেকানন্দ, বঙ্কিমবাবু, গুরুদেব ও শ‍্যামাপ্রসাদের স্বপ্নের বাংলা বানাব ।"

এদিন দুর্নীতি, তোলাবাজি, তুষ্টিকরণ-সহ একাধিক অভিযোগে তৃণমূলের সরকারকে বিদ্ধ করেন অমিত শাহ ৷ পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, কুণাল ঘোষ-সহ তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের নাম তুলে ধরে সরকারকে নিশানা করেন তিনি ৷ তবে তাঁর আক্রমণ সবচেয়ে বেশি ঝাঁঝাল ছিল অনুপ্রবেশ নিয়ে ৷ এই নিয়ে বাংলার শাসকদল বিএসএফ-এর দিকে আঙুল তুললেও, তার পালটা জবাব দিয়েছেন অমিত শাহ ৷

তিনি বলেন, "মমতাজি, আপনাকে প্রশ্ন করছি, কোন সরকার বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য জমি দেয় না ? আমিই বলে দিচ্ছি ৷ আপনার সরকার জমি দেয় না বলেই অনুপ্রবেশ ঘটছে ৷ আপনাদের থানা কী করছে ! কেন ওদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে না ৷ কীভাবে ওরা জাল নথি জোগাড় করছে ! অসম, ত্রিপুরা, গুজরাত, রাজস্থান, কাশ্মীরে কেন অনুপ্রবেশ হয় না ! বাংলার ডেমোগ্রাফি চেঞ্জ করে আপনি ভোটব্যংক তৈরি করেন ৷"

ফের তুষ্টিকরণ নিয়ে আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন বিজেপির নাম্বার টু ৷ রাজ্যে মন্দির-মসজিদের রাজনীতি কতটা গ্রহণযোগ্য এই নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শাহ বলেন, "মন্দির বানাচ্ছে তৃণমূল আর মসজিদ বানাচ্ছে তৃণমূল থেকেই বেরনো আরেকজন ৷ এবার মলম লাগানোর চেষ্টা হচ্ছে ৷ তবে বাংলার হিন্দুদের হৃদয়ে এত গভীর ক্ষত হয়েছে যে, এবার আপনাদের যাওয়ার সময় এসে গিয়েছে ৷ সবাই অপেক্ষায় আছে, কবে এই নিষ্কর্মা সরকারকে সরাতে ভোটদান করবে ৷"

তৃণমূলের সরকার বাংলার গতিকে রুদ্ধ করছে বলে অভিযোগ করে এদিন অমিত শাহ ফের টেনে আনেন আয়ুষ্মান ভারতের মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিকে রাজ্যে বাস্তবায়িত না-করার প্রসঙ্গ ৷ তাঁর কথায়, "কোনও বাঙালি ভারতের কোথাও গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে চিকিৎসা করাতে পারবে না ৷ আসলে মোদিকে ভয় পান আপনারা ৷ কারণ মোদির জনপ্রিয়তা দিনদিন বাড়ছে ৷"

ভারত সরকারের কর্মিবর্গ প্রশিক্ষণ দফতরের বিধি রাজ্যে বিকৃত করার অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, "এরা অবসরের পর প্রক্সি সিএস বসায় ৷ সংবিধানের স্পিরিটকে খর্ব করছে ৷ সিন্ডিকেট, তোলাবাজি, কাটমানি, ভাইপো ছাড়া আর কারও এখানে আয় করার অধিকার নেই ৷"

রাজ্যের নারী সুরক্ষা পরিস্থিতি নিয়েও এদিন উদ্বেগ প্রকাশ করেন অমিত শাহ ৷ তিনি টেনে আনেন আরজি কর, দক্ষিণ কলকাতা আইন কলেজ, দুর্গাপুর ও সন্দেশখালির প্রসঙ্গ ৷ মমতাকে বিঁধে তাঁর প্রশ্ন, "সন্ধ্যা সাতটার পরে মহিলাদের ঘর থেকে না-বেরোনোর পরামর্শ দিচ্ছেন ৷ কোন জমানায় রয়েছি আমরা ? এটা মোগল যুগ নাকি ?"

এসআইআর আবহে অমিত শাহের বঙ্গ সফরে মতুয়াদের নিয়ে তিনি কী বলেন সেদিকে নজর ছিল ৷ তাঁর বক্তব্যে এদিন মতুয়া প্রসঙ্গ না-এলেও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়ে দেন, মতুয়াদের ভয় পাওয়ার দরকার নেই ৷ তাঁর কথায়, "শরণার্থীদের কোনও লোকসান কেউ করতে পারবে না ৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পারবেন না ৷"

এমনই নানা রকম আশ্বাসবাণী শুনিয়ে নতুন বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখালেন বিজেপির 'চাণক্য' ৷ তিনি জোর দিয়ে বললেন, বিজেপি যে সব কাজ করার ঘোষণা করবে, সেগুলি বাস্তবায়িত করে দেখাবে ৷ পাশাপাশি 'সেটিং' তত্ত্ব খারিজ করে দিয়ে তিনি দাবি করেছেন, আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূলকে হারিয়েই ক্ষমতায় আসবে বিজেপি ৷