শুভেন্দুর জেলায় বিজেপি কর্মীদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধের অভিযোগ
পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার ঘটনা৷ বিজেপি তোপ দেগেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে৷ শাসক দলের দাবি, এর নেপথ্যে কোনও রাজনীতি নেই৷ সপ্তাহখানেকের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে৷

Published : November 8, 2025 at 8:09 PM IST
ময়না (পূর্ব মেদিনীপুর), 7 নভেম্বর: বিজেপির মহিলা কর্মীদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল৷ পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নায় প্রায় 12 হাজার উপভোক্তার এই কারণে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ৷ স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় অভিযোগের তির তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে৷ এই নিয়ে শাসক দলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিজেপি৷ তবে তৃণমূলের দাবি, এর নেপথ্যে কোনও রাজনীতি নেই৷
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়না বিধানসভার ময়না ব্লকের বাকচা গ্রাম পঞ্চায়েত ও গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে রয়েছে৷ সেখানকার প্রায় 12 হাজার উপভোক্তা তিন মাস লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ৷ এই নিয়ে সরব হয়েছেন স্থানীয় মহিলারা৷ তাঁরা প্রত্যেকেই জানাচ্ছেন যে বিজেপির সমর্থক হওয়ায় তাঁদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা আসা বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷
কয়েকমাস পরই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন৷ তার আগে এখন রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর চলছে৷ তার মধ্যেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার না-পাওয়া নিয়ে অভিযোগ ঘিরে নতুন করে হইচই শুরু হয়েছে৷ এই নিয়ে বিক্ষোভের পরিকল্পনা চলছে বলে জানা গিয়েছে৷

পাশাপাশি এই নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি-ও৷ বাকচার বিজেপি নেতা তথা পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পারিষদের সদস্য উত্তম সিংহ বলেন, ‘‘বাকচা ও গোজিনা দু’টি গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে থাকার কারণে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির তরফে ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করা হয়েছে। শুধু মাত্র দু’টি গ্রাম পঞ্চায়েত ছাড়াও আরও নয়টি গ্রাম পঞ্চায়েতের আরও তিন হাজার উপভোক্তার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ রয়েছে। আমরা বিডিও সাহেবের কাছে গিয়েছিলাম। উনি আসলে নতুন এসেছেন। উনি বলেছেন যে খুব শীঘ্রই এর ব্যবস্থা নেবেন।’’

বিজেপির অভিযোগ যে সত্যি, তা কার্যত মেনে নিয়েছেন ময়না পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তৃণমূলের শাজাহান আলি৷ তবে তিনি এই ঘটনার পিছনে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে বলে মানতে চাননি৷ শাজাহান আলি বলেন, ‘‘দু’টি গ্রাম পঞ্চায়েত তিন মাস ও অন্যান্য গ্রাম পঞ্চায়েতের বেশ কিছু লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ আছে। ময়নার বিডিও মারফত জেলাশাসক দফতরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করা যায়, এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’’

যদিও এই নিয়ে প্রশাসনের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি৷ তবে সামনে ভোট৷ তার আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না-হলে এই নিয়ে রাজনীতির ময়দান উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে৷

