ETV Bharat / politics

9 দিনের ব্যবধানে 2 তৃণমূল নেতা খুন, ভোট আসার আগেই উত্তপ্ত বীরভূম

তৃণমূল কংগ্রেস এই নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে৷ বিরোধীরা এই নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দাগছে৷

Political Murder in Birbhum
ভোট আসার আগেই উত্তপ্ত বীরভূম (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : December 15, 2025 at 7:48 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

বীরভূম, 15 ডিসেম্বর: প্রতিবার ভোট এলেই উত্তেজনা ছড়ায় বীরভূমে৷ প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে৷ এবার ভোট আসার কয়েকমাস আগেই রক্তাক্ত হল বীরভূম৷ ডিসেম্বরেই ন’দিনের ব্যবধানে নিহত হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের দুই নেতা৷ দু’টি ঘটনাতেই রাজনীতির রং লেগেছে৷ তবে এক্ষেত্রে বিরোধীদের দিকে আঙুল উঠছে না৷ বরং দু’টি খুনের ঘটনাতেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে বলে অভিযোগ৷ তাই এই নিয়ে বিরোধীরা তোপ দাগতে শুরু করেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে৷ আর এই নিয়ে তৃণমূলের নেতারা মুখে কুলুপ এঁটেছেন৷

উল্লেখ্য, গত 5 ডিসেম্বর বীরভূমের নানুর থানার থুপসরা গ্রাম পঞ্চায়েতের পাতিসরা গ্রামে বুথ সভাপতি রাজবিহারী সর্দার ওরফে দোদন (50)-কে শাবল-বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে খুন করা হয়৷ দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই খুন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে৷ পুলিশ চারজন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতারও করে৷

গতকাল, রবিবার (14 নভেম্বর) তৃণমূলের প্রাক্তন বুথ সভাপতি মদন লোহারের (50) দেহ মেলে। তিনি শান্তিনিকেতন থানার কংকালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের ধোলটেকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন৷ গত কয়েকদিন ধরে তিনি নিখোঁজ ছিলেন৷ তাঁকে খুন করার হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের৷

মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে বীরভূমে দু’জন তৃণমূল নেতা খুন৷ যা নিয়ে বিরোধীরা তোপ দেগেছে শাসক দলের বিরুদ্ধে৷ সিপিআইএমের জেলা সম্পাদক গৌতম ঘোষ বলেন, "তৃণমূলের শাসনকালে দুর্নীতির আঁতুড়ঘর বীরভূম। বালি, কয়লা, পাথর, কাটমানির ভাগের লড়াই৷ ভোট যত এগিয়ে আসবে, প্রতিবারের মতো নিজেদের মধ্যেই হানাহানি শুরু হয়৷ গণতন্ত্র বলে কিছুই থাকে না।"

বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, "নিজেদের মধ্যেই টাকার ভাগের লড়াই চলে৷ পঞ্চায়েতের একটা সামান্য রাস্তা হলেও সেখান থেকে টাকা মারে৷ আর এই ভাবেই তিনটি টার্ম কাটালো দুর্নীতিগ্রস্ত একটা দল৷ ভোটের সময় দেখবেন সব এক হয়ে গিয়ে বিরোধীদের মারছে। আবার লুটেপুটে খেতে হবে তো তাই।"

কংগ্রেসের জেলা সভাপতি মিলটন রশিদ বলেন, "তৃণমূল নেতারা নিজেদের মধ্যেই লড়াই করে ধ্বংস হবে৷ কে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত এটাই ওদের প্রতিযোগিতা। বিরোধীরা এই নিয়ে সরব হলে, তখন আবার তাঁদের কণ্ঠরোধ করা হয় প্রশাসনকে ব্যবহার করে৷ সামনে ভোট, তার আগে আখের গোছাতে ব্যস্ত ওরা। আর সেই জন্যই এই হানাহানি।"

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বীরভূমে এতদিন শাসক দলের দাপটে বিরোধীদের কোণঠাসা হতে দেখা গিয়েছে৷ বিশেষ করে 2011 সালের পর থেকে এই জেলার রাজনীতি কার্যত অনুব্রত মণ্ডলের অঙ্গুলিহেলনেই চলত৷ কখনও তিনি পুলিশকে ধমকাতেন৷ আবার কখনও বিরোধীদের হুঁশিয়ারি দিতেন৷ যা নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধত৷ তৃণমূলে তাঁর বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর নাম শোনা গেলেও সেভাবে উপস্থিতি চোখে পড়ত না৷

কিন্তু তিনি গরুপাচার মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর দীর্ঘদিন জেলার রাজনীতিতে অনুপস্থিত ছিলেন৷ এই সময়ের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর নেতারা বীরভূমে রাজনৈতিক জমি তৈরি করেছেন৷ বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ অনুব্রতর বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর লোক বলেই পরিচিত৷ অনুব্রত জামিন পেয়ে জেলায় ফেরার পর থেকে তাঁদের একমঞ্চে দেখাই যায় না প্রায়৷ শীর্ষ নেতৃত্ব অনেক চেষ্টা করেও তাঁদের ‘ঐক্যবদ্ধ’ করতে পারেননি৷

ফলে সেই লড়াইয়ের জের কি হানাহানির পর্যায়ে চলে যাচ্ছে? ভোট এলে কি তা বৃদ্ধি পেতে শুরু করবে? উঠছে প্রশ্ন৷

আরও পড়ুন -

  1. বীরভূমে খুন তৃণমূল নেতা ! মাঠে পড়ে নিথর দেহ
  2. রক্তাক্ত নানুর ! বীরভূমে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষে মৃত 1, আহত 10