ETV Bharat / politics

নির্বাচনে হারের পর মালদায় তৃণমূলের সদর দফতরই হাওয়া, খোঁজ নেই দলীয় বিধায়কদেরও

যে ভবনে রহিম সাহেব দলের জেলা সদর দফতর তৈরি করেছিলেন, ওই ভবনের শাটার এখন তালাবন্ধ ৷ তার উপরে লাগানো বোর্ডে লেখা রয়েছে 'টু লেট'৷

ETV BHARAT
নির্বাচনে হারের পর মালদায় তৃণমূলের সদর দফতরই হাওয়া (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : July 5, 2026 at 1:23 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

মালদা, 5 জুলাই: বাইপাস সংলগ্ন এলাকার দলীয় দফতর কার, তা নিয়ে দড়ি টানাটানি চলছে তৃণমূলের দুই শিবিরের ৷ দলের ঘাসফুল প্রতীক তাঁর হাতে থাকবে কি না তা নিয়ে চিন্তায় খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ গতকাল সোশাল মিডিয়ায় লাইভ সম্প্রচার করে তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজনে ভবিষ্যতে নতুন প্রতীক বুকে ঝুলিয়ে তিনি মা মাটি মানুষের কাছে যাবেন ৷ অর্থাৎ রাজ্যের রাজনীতিতে তৃণমূল এখন জোর চর্চায় ৷ কিন্তু মালদায় সেই দলের পরিস্থিতিটা কী ?

মমতা দলের সমস্ত কমিটি ভেঙে দেওয়ার আগে পর্যন্ত যিনি এই জেলায় তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন, সেই মালতিপুরের বিধায়ক আবদুর রহিম বকসির দেখা নেই ৷ এমনকী ফোনেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায় না ৷ সবচেয়ে বড় বিষয়, এই মুহূর্তে মালদা জেলায় তৃণমূলের কোনও দফতরই নেই ৷ যে ভবনে রহিম সাহেব দলের জেলা সদর দফতর তৈরি করেছিলেন, ওই ভবনের শাটার এখন তালাবন্ধ ৷ তার উপরে লাগানো বোর্ডে লেখা রয়েছে 'টু লেট'৷ শুধু রহিম সাহেবই নন, এই জেলায় তৃণমূলের প্রতীকে জেতা ছ'জন বিধায়কের কাউকেই জেলায় পাওয়া যাচ্ছে না ৷ দলের নেতারাও দ্বিধাবিভক্ত ৷ এই অবস্থায় তাঁরা কী অবস্থান নেবেন, সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না ৷ বেশিরভাগই তাকিয়ে রয়েছেন বিজেপি নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের দিকে ৷ যদি গেরুয়া শিবির তাঁদের দলে নিতে চায়, তবে তাঁরা সেদিকে ঝাঁপাবেন ৷ তা না-হলে কংগ্রেস ৷ আপাতত ঘাসফুল প্রতীকের ভবিষ্যৎ কী হয় সেদিকেই তাকিয়ে তাঁরা ৷

ETV BHARAT
খোঁজ নেই তৃণমূল বিধায়কদের (নিজস্ব চিত্র)

দু’মাস আগেও কিন্তু ছবিটা এমন ছিল না ৷ শহরের রথবাড়ি এলাকায় স্টেশন রোডে থাকা তৃণমূলের জেলা সদর দফতর সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গমগম করত ৷ রহিম বকসির সঙ্গে একবার দেখা করতে ছুটে আসতেন জেলার বিভিন্ন প্রান্তের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা ৷ আসতেন দলের শীর্ষ নেতা-নেত্রীরাও ৷ দফতরের বাইরে থাকত দলীয় ঝান্ডা লাগানো গাড়ির সারি ৷ যানজট মোকাবিলায় ব্যস্ত থাকতেন পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়াররা ৷ কিন্তু এখন সেখানে শুধুই শূন্যতা ৷

বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর দলের এমন পরিস্থিতি কেন ? প্রশ্ন শুনেই ঘাসফুলের অন্যতম নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীর মনে জমে থাকা ক্ষোভের যেন অগ্নুৎপাত ঘটল ৷ বলে উঠলেন, "এখন কেউ আর খরচা করে পার্টি তৈরি করতে চায় না ৷ আজ মনে হল একে এই পদ দিয়ে দেওয়া হল, কাল আবার আরেকজনকে ৷ এভাবে পার্টিকে গ্রাইন্ডিং মেশিনে ফেলে, নিংড়িয়ে শেষ বিন্দু রসটুকু এরা নিয়ে নিয়েছে ৷ ঠিক যেভাবে মাতালরা বোতল শেষ করার পর ঢাকনায় লেগে থাকা শেষ বিন্দুটুকু চুষে নেয় ৷ যেদিন এরা বুঝেছে, গ্রাইন্ডিং মেশিন থেকে আর কিছু পাওয়া যাবে না, সবাই সরে পড়েছে ৷ এখন আর ওরা পার্টি কেন দেখবে ? তবে আগে তৃণমূলের প্রতীক কার হাতে থাকবে সেটা ফাইনাল হওয়া উচিত ৷ তারপর কংগ্রেস তো ময়দানে নেমেই গিয়েছে ৷ মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে লোকে এখন কংগ্রেসের দিকে দৌড়োচ্ছে ৷"

ETV BHARAT
জেলা সদর দফতরে লাগানো 'টু লেট' বোর্ড (নিজস্ব চিত্র)

কিন্তু কংগ্রেসও কি তৃণমূলের সবাইকে দলে আপন করে নেবে ? হাত শিবিরের জেলা সভাপতি ইশা খান চৌধুরী অনেক আগে থেকেই বলে আসছেন, তৃণমূলের যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কলঙ্ক রয়েছে তাঁদের দলে নেওয়া হবে না ৷ বর্তমান পরিস্থিতিতে ইশার প্রতিক্রিয়া, "আমাদের দরজা সবসময়ই খোলা ৷ তবে সেটা ভালো লোকদের জন্য ৷ মালদায় প্রতিটি ব্লকের নেতৃত্বকে নির্দেশ দেওয়া রয়েছে, সবাই যেন যাচাই করে, তদন্ত করে তবেই অন্য দলের লোকজনকে দলে যোগদান করান ৷ সেভাবেই আমাদের দলে যোগদান প্রক্রিয়া চলছে ৷"

বিষয়টি নিয়ে মালদা উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু বলছেন, "আজ তৃণমূল যেভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছে, আগামীতে কংগ্রেসও এভাবেই শেষ হয়ে যাবে ৷ তাই কংগ্রেসে গিয়েও তৃণমূলের লোকজনের কোনও লাভ হবে না ৷ আর আমাদের একটাই সিদ্ধান্ত, তৃণমূলের কাউকে দলে নেওয়া হবে না ৷"