10 বছরে দু’বার লাইনে দাঁড় করাল, SIR-নোটবন্দির তুলনা টেনে মোদিকে নিশানা অভিষেকের
বিজেপিকে শিক্ষা দেওয়ার হুমকি ৷ আলিপুরদুয়ারের 400 বুথেই তৃণমূলকে জয়ী করাতে, কথা চাইলেন অভিষেক ৷

Published : January 3, 2026 at 4:09 PM IST
আলিপুরদুয়ার, 3 জানুয়ারি: এসআইআর-এর শুনানি পর্ব চলছে ৷ আর সেই পর্বে 'আনম্যাপড' ভোটারদের নথি-সহ শুনানি কেন্দ্রে আসতে হচ্ছে ৷ আর এই নিয়েই অভিনব কায়দায় এবার কেন্দ্রকে নিশানা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ নোটবন্দির সঙ্গে এসআইআর-এর শুনানির তুলনা টানলেন অভিষেক ৷ 10 বছর আগের মতোই সাধারণ মানুষকে নরেন্দ্র মোদির সরকার 'লাইনে' দাঁড় করালেন বলে মন্তব্য করলেন তিনি ৷
শুক্রবার থেকে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার শুরু করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ তৃণমূলের এই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে 'আবার জিতবে বাংলা' ৷ যার দ্বিতীয়দিনে আলিপুরদুয়ারে রয়েছেন অভিষেক ৷ সেখান থেকে এসআইআর-এর শুনানিতে সাধারণ মানুষকে হেনস্তার অভিযোগ করেছেন তিনি ৷
অভিষেক বলেন, "SIR-এর নাম করে সবাইকে সমস্যায় ফেলছে ৷ এই নরেন্দ্র মোদির সরকার 10 বছর আগে 130 কোটি জনতাকে নোটবন্দির নামে লাইনে দাঁড় করিয়েছিল ৷ কালাধন বাজেয়াপ্ত করার স্বপ্ন দেখিয়েছিল ৷ কালাধন কি শেষ হয়েছে ? দশ বছর পর দেখা যাচ্ছে কালাধন আরও বেড়ে গেছে ৷ এটা বিজেপির সরকার ৷ 10 বছর পর এসআইআর-এর নামে আবার সবাইকে লাইনে দাঁড় করাল ৷ শুনানির নামে বয়স্কদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড় করাচ্ছে ৷ জনতা আগে ঠিক করত কে সরকার গড়বে ৷ এখন সরকার ঠিক করছে ভোটার কে হবে ৷"
এ দিন আলিপুরদুয়ারের মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতি চাইলেন অভিষেক ৷ বিজেপিকে বারবার সুযোগ দিয়েও আলিপুরদুয়ার ঠকেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি ৷ তাই এবার জেলার 400 বুথে ও 5টি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলকে জেতানোর প্রতিশ্রুতি চাইলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ৷
অভিষেক বলেন, "আলিপুরদুয়ার-জলপাইগুড়ি আপনারা বিজেপিকে সুযোগ দিয়েছেন ৷ দু’মাস আগে বন্যায় কোনও বিজেপির নেতাদের দেখা গেছে ? কলকাতা থেকে দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) এসেছে ৷ আমাদের সরকার ঘর, খাবার, রাস্তা সব দিয়েছে ৷ 2024 সালে মোদি এসেছিলেন ৷ 2026 সালে আবার ভোটের আগে আসবেন ৷ কিন্তু, নির্বাচনের পরেও আমরা এসেছি ৷"
এই প্রসঙ্গে 100 দিনের কাজের টাকা ও রাজ্যের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের তুলনা টানেন অভিষেক ৷ তিনি বলেন, "গত পাঁচ বছর থেকে আপনারা দেখছেন ৷ বিজেপি 2021 সালে হেরে যাওয়ার পর তানাসাহি করছে ৷ একশো দিনের কাজের টাকা দিচ্ছে না পাঁচ বছর ধরে ৷ আমি আলিপুরদুয়ারের সবাইকে জিজ্ঞাসা করতে চাই, যেখানে দল হেরে যায়, সেখানে কি উন্নয়নের কাজ বন্ধ করে দেওয়া উচিত ? আলিপুরদুয়ারের পাঁচটি আসনেই হেরে গেছি ৷ পরে সুমন কাঞ্জিলাল দলে এসেছেন ৷ মাদারিহাট উপনির্বাচনে আমরা জিতেছি ৷ আমরা হেরে গেলেও উন্নয়ন বন্ধ করেছি কি ? বাংলায় বিজেপি হেরে যাওয়ার পর বাংলার সব টাকা বন্ধ করে দিল ৷ আলিপুরদুয়ারের হেরে গেলেও মায়েদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷"

