ETV Bharat / politics

মালদার সভায় আইপ্যাক নিয়ে চুপ অভিষেক, পরিযায়ী প্রশ্নে বিঁধলেন কংগ্রেসকে

অভিষেক জানান, ফেব্রুয়ারিতে তিনি আবারও মালদায় আসছেন ৷ যেখানে নরেন্দ্র মোদি সভা করবেন, সেই মাঠেই সভা করবেন তিনি ৷

ETV BHARAT
মালদার সভায় আইপ্যাক নিয়ে চুপ অভিষেক (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : January 8, 2026 at 5:59 PM IST

7 Min Read
Choose ETV Bharat

মালদা, 8 জানুয়ারি: মালদায় নির্বাচনী জনসভায় প্রত্যাশিতভাবেই পরিযায়ী শ্রমিকদের কাছে টানার চেষ্টা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ এদিন বিজেপির পাশাপাশি তিনি নিশানা করলেন কংগ্রেসকেও ৷ মালদা উত্তরের কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খান চৌধুরীর নাম করে অভিষেকের সরাসরি প্রশ্ন, "পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কী করেছেন সাংসদ !" তবে এদিন আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ও দফতরে ইডি হানা এবং তার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় হলেও এই নিয়ে কোনও শব্দ খরচ করেননি অভিষেক ৷

মালদা জেলার পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোট টানতে আগেই ময়দানে নেমেছেন মহম্মদ সেলিম, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, শতরূপ ঘোষদের মতো সিপিআইএম নেতৃত্ব ৷ এবার সেই একই তাস খেলতে মাঠে নামলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ বৃহস্পতিবার পুরাতন মালদার জলঙ্গা মাঠে জেলার পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে মিলিত হন তিনি ৷ মঞ্চে ডেকে নেন সাম্প্রতিক সময়ে ভিনরাজ্যে হেনস্তার শিকার হওয়া শ্রমিকদের ৷ কথা দেন, ফেব্রুয়ারিতে তিনি আবারও মালদায় আসছেন ৷ যেখানে নরেন্দ্র মোদি সভা করবেন, সেই একই মাঠে সভা করবেন তিনি ৷

ETV BHARAT
মালদার সভায় অভিষেক (নিজস্ব চিত্র)

তিনি এদিন বলেন, “ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর ধারাবাহিক অত্যাচার, অবহেলা, অপমান, বঞ্চনা, নিপীড়ন ও শোষণের একাধিক ঘটনা আমরা দেখেছি এবং শুনেছি ৷ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সরকার পরবর্তীকালে পোর্টাল খুলে, আলাদা হেল্পলাইন চালু করে, আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সমস্ত আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করেছে ৷ আজ মঞ্চে যে মানুষগুলো বসে রয়েছেন, তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা সবাইকে বলেছেন ৷ তাঁদের কেউ ওড়িশা, কেউ মধ্যপ্রদেশে কাজ করতে গিয়ে এমন অত্যাচার সহ্য করেছেন ৷”

অভিষেক আরও বলেন, “2021 সালে মালদা জেলার মানুষ প্রথমবার 12টি আসনের মধ্যে আটটি আসনে তৃণমূল দলকে জিতিয়েছেন ৷ তারপর তিন বছর আমাদের অপমান বা অসম্মান করার দুঃসাহস বিজেপির কোনও নেতা দেখায়নি ৷ 2024 সালে একটি লোকসভা আসনে বিজেপি, অন্যটিতে জিতল কংগ্রেস ৷ গাজোলের বিনয় বেসরা অত্যাচারিত হয়েছেন ৷ এখানকার সাংসদের নাম খগেন মুর্মু ৷ দু’জনেই তফশিলি উপজাতিভুক্ত ৷ কিন্তু তিনি কি একবারও বিনয় বেসরার সঙ্গে কথা বলেছেন ? তাঁর খোঁজ নিয়েছেন ? ওড়িশা, গুজরাত, ছত্তিশগড়ে কোন সরকার ক্ষমতায় রয়েছে ? বিজেপি ৷ তাহলে বিজেপি সাংসদের কি উচিত ছিল না তাঁর সংসদীয় এলাকার যে বাসিন্দারা ভিনরাজ্যে আক্রান্ত হচ্ছেন তাঁদের খোঁজ নেওয়া ? এই বিষয় নিয়ে সরব হওয়া, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে চিঠি দেওয়া কিংবা সংসদে প্রশ্ন তোলা ? তা না করে দিল্লির তল্পিবাহকতা করেছেন ৷”

কালিয়াচকের আমিরকে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক করে দিয়েছিল রাজস্থান পুলিশ ৷ অভিষেকের দাবি, তাঁকে ফের দেশে ফিরিয়ে এনেছেন তাঁরা ৷ তিনি বলেন, “মানুষ যখনই বিপদে পড়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ও তৃণমূল পাশে দাঁড়িয়েছে ৷ আগামীতেও ব্যতিক্রম হবে না ৷ 2021 সালে তৃতীয়বার রাজ্যে তৃণমূলকে প্রতিষ্ঠার পিছনে দক্ষিণবঙ্গের 5-7টি জেলা ছাড়া যে ক’টি জেলা অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে তার মধ্যে মালদা ও মুর্শিদাবাদ অন্যতম ৷ মুর্শিদাবাদে 22টির মধ্যে 20টি আর মালদায় 12টির মধ্যে আটটি পেয়ে তৃণমূল, বিজেপির অশ্বমেধের ঘোড়া আটকে দিয়েছিল ৷ ভোকাট্টা হয়ে দিল্লি আর গুজরাতের ডেইলি প্যাসেঞ্জাররা ফেরত গিয়েছিল ৷"

ETV BHARAT
পরিযায়ী প্রশ্নে কংগ্রেসকে বিঁধলেন অভিষেক (নিজস্ব চিত্র)

অভিষেকের কথায়, "আগামীর লড়াই আমাদের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ ৷ রাজ্য সরকার কর্মসাথী থেকে শুরু করে শ্রমশ্রী পোর্টাল চালু করেছে ৷ পরিযায়ীদের জন্য এককালীন মাসে পাঁচ হাজার টাকা এবং যতদিন না তিনি কাজ পাবেন ততদিন মাসিক পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে ৷ আজ থেকে আমি ডায়মন্ডহারবারের হেল্পলাইন নম্বর মালদার জন্য খুলে দিলাম ৷ মালদার কেউ কোনও সমস্যায় পড়লে সেই হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করবেন ৷”

ডায়মন্ডহারবারের সাংসদের বক্তব্য, “শুধু বাংলায় কথা বলা বা বাংলার নথি থাকার জন্য গত ছ’মাসে 1200 পরিযায়ী শ্রমিককে বাংলাদেশি বলে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে ৷ যারা এই কাজ করে তাদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠবেন না ? কলকাতায় গীতাপাঠের আসরে শুধুমাত্র চিকেন প্যাটিস বিক্রি করার জন্য বিজেপির লোকজন এক যুবককে বেধড়ক মারধর করেছে ৷ 70টি আসন পেয়ে বিজেপি যদি এই কাজ করে তবে যদি এরা বাংলার ক্ষমতায় আসে তবে কী করবে ? তাই যে ক’টা আবর্জনা রয়েছে, তাদের ঝেঁটিয়ে সাফ করে গঙ্গায় ফেলতে হবে ৷ এখন নরেন্দ্র মোদিরা ভোটার ঠিক করছে ৷ এখন বলছে, মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেবে ৷ আমাদের সবকিছু দিল্লির বাবুরা নাকি ঠিক করবে ৷ কে তাদের এই অধিকার দিয়েছে ? মানুষকে এখন লাইনে দাঁড়িয়ে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে ? আগে করেছিল নোটবন্দি, এখন করছে ভোটবন্দি ৷ আমরা প্রতিটি মানুষের পাশে রয়েছি ৷ ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে এসব কথা মাথায় রাখবেন ৷”

আইএসএফ কিংবা মিমের নাম না করে এদিন অভিষেক ওই দুই দলকে নিশানা করেছেন ৷ বলেছেন, “গণতান্ত্রিক দেশে কে কোথায় ভোটে লড়বে সেটা তাদের বিষয় ৷ সেই অধিকার সবার রয়েছে ৷ দেশে 1500 রাজনৈতিক দল রয়েছে ৷ কিন্তু বিজেপিকে যদি কেউ শিক্ষা দিতে পারে সেটা শুধু তৃণমূল ৷ সবাইকে হারালেও বিজেপি এই তৃণমূলের কাছে হারে ৷ বিজেপি এখন রাজ্যের বাসিন্দাদের বাংলাদেশি তকমা দিচ্ছে ৷ খগেন মুর্মু, শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, দিলীপ ঘোষ কোন ভাষায় কথা বলেন ? তাহলে বাংলায় কথা বলার জন্য এঁদের কেন জেলে পাঠানো হবে না ? শুধু পরিযায়ী শ্রমিকদেরই কেন ? এক যাত্রায় পৃথক ফল তো হতে পারে না ৷ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আমার সোনার বাংলা গান গাওয়ার জন্য অসমে একজনের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা দেওয়া হয়েছে ৷ এবার কিন্তু এদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য ভোট দিতে হবে ৷ এরা শুধু হিন্দু-মুসলমান করে ৷”

পরিযায়ী ইস্যুতে এদিন কংগ্রেসকেও দুষেছেন অভিষেক ৷ বলেন, “মালদা দক্ষিণের সাংসদ কংগ্রেসের ৷ তিনি ক'টা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ? তেলাঙ্গানা বা কর্ণাটকের কোনও মন্ত্রীকে ফোন করে বলতে পারেন না, ওই রাজ্যগুলিতে এই রাজ্যের মানুষের উপর অত্যাচার হচ্ছে ? সে ফোন করেনি ৷ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে তৃণমূল ৷ মানুষ এবার কিন্তু সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে ৷ আজ গরিব মানুষের বাড়ির টাকা, জলের টাকা, 100 দিনের কাজের টাকা বন্ধ ৷ কংগ্রেসের কোনও নেতা বা প্রতিনিধি চিঠি লিখেছে? ”

হুমায়ুন কবীর নিয়ে অভিষেকের মন্তব্য, “2019 সালে যে বিজেপির প্রার্থী ছিল সে এখন বাবরি মসজিদ করছে ৷ ধর্মের নামে বিভাজন করে মানুষকে বোকা বানিয়ে কিছু টাকা তুলে নিচ্ছে ৷ ওকে এক পয়সাও দেবেন না ৷ কোনও ধর্ম কোনওদিন বিভাজনের কথা বলে না ৷ এই বাংলা বিজেপির বিভাজনের কাছে কখনও নতি স্বীকার করবে না ৷ যারা বিজেপির সঙ্গে ডিল করে বিভাজনের রাজনীতি করছে, তাদের কঠোর শিক্ষা দিতে হবে ৷ এই লড়াই বাংলার মাটি থেকে বিজেপিকে শেষ করার লড়াই ৷ 2029 সালে এদের গল্প শেষ ৷ তাই মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে ৷”

আরও পড়ুন: