তফশিলি ভোট পেতে নজরে 'সংরক্ষিত' 84 আসন, নয়া জনসংযোগ কর্মসূচির সূচনা অভিষেকের
নজরুল মঞ্চে এক বিশেষ সভা থেকে তফশিলি জাতি এবং উপজাতি অধ্যুষিত 84টি সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটারদের জন্য এই প্রচার কর্মসূচি শুরু করেন তিনি ।

Published : March 2, 2026 at 3:21 PM IST
কলকাতা, 2 মার্চ: আসন্ন 2026 সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন মেগা জনসংযোগ কর্মসূচি 'তফশিলির সংলাপ'-এর সূচনা করলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । সোমবার কলকাতার নজরুল মঞ্চে আয়োজিত এক বিশেষ সভা থেকে তফশিলি জাতি (এসসি) এবং তফশিলি উপজাতি (এসটি) অধ্যুষিত রাজ্যের 84টি সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটারদের জন্য এই প্রচার কর্মসূচি শুরু করেন তিনি । আগামী দুই মাস ধরে চলবে এই নিবিড় জনসংযোগ । দোল উৎসব মিটে যাওয়ার পর আগামী 5 মার্চ থেকে দলের প্রতিনিধিরা বিশেষ প্রচার গাড়িতে করে সরাসরি মানুষের দুয়ারে পৌঁছে যাবেন ।
এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হল তফশিলি ও জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষদের কাছে রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরা এবং একইসঙ্গে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে দলিত ও আদিবাসীদের উপর হওয়া বঞ্চনা ও নির্যাতনের কথা প্রচার করা ।

কর্মীদের নির্দেশ দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "যে 84টি বিধানসভা এসসি, এসটি সংরক্ষিত, তার দায়-দায়িত্ব আপনাদের কাঁধে তুলে নিতে হবে । যে তফশিলি ভাইয়েরা, মায়েরা একবুক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ভোট দিয়েছিল, তারা দেখুক এই বিজেপি তাদের কীভাবে অপমানিত করেছে ।" আগামী দু'মাস ধরে প্রতিদিন প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রচার গাড়িতে করে প্রতিনিধিরা অন্তত তিনটি স্থানে যাবেন এবং 'তফশিলির সংলাপ' পুস্তিকা বিলি করে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনবেন ।
2 মার্চ দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে অভিষেক 1930 সালে বাবাসাহেব আম্বেদকরের কালারাম মন্দির আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন । তিনি কেন্দ্রের শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, "কেন্দ্র সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন আম্বেদকরের নাম জপ করা এখন ফ্যাশন হয়ে গেছে ! যারা দলিত, আদিবাসী, জনজাতিদের ওপর দিনের পর দিন অত্যাচার করে...তারা আর যাই হোক, সমাজের বন্ধু হতে পারে না ।"

ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (এনসিআরবি)-র পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি প্রমাণ দেন কীভাবে উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশের মতো 'ডাবল ইঞ্জিন' সরকারের রাজ্যগুলিতে এসসি-এসটিদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা সর্বাধিক । তিনি আরও বলেন, "দেশের রাষ্ট্রপতি, একজন এসটি মহিলা, রাম মন্দিরের উদ্বোধনে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি । একজনকে... শিডিউল কাস্ট বা শিডিউল ট্রাইব প্রতিনিধিকে রাম মন্দির উদ্বোধনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি ।"
সংবিধান পরিবর্তন ও সংরক্ষণের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্তের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, "যে দল 240টা সাংসদ নিয়ে সংবিধান পালটাতে চায়...সেই দল যদি আগামী দিনে আবারও ক্ষমতায় আসে, তাহলে যে সংবিধানের মাধ্যমে বাবাসাহেব আম্বেদকর এসসি, এসটিদের অধিকার দিয়েছিল, তারা সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন ।"
তৃণমূল সরকারের সাফল্যের খতিয়ান দিয়ে অভিষেক বলেন, "মার্চের 1 তারিখে তফশিলি জাতি এবং জনজাতি মূলবাসীর মায়েরা 1700 টাকা করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেয়েছেন । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুনরায় নির্বাচিত করে বিজেপিকে শূন্য করা মানে...আমাদের রাজ্য সরকার সরাসরি আপনাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে 1 লক্ষ 2 হাজার টাকা পৌঁছবে । এই দৃষ্টান্ত ভারতে আর কোথাও নেই ।"
কেন্দ্র সরকার 100 দিনের কাজ ও আবাস যোজনার বকেয়া টাকা আটকে রাখলেও রাজ্য সরকার কীভাবে 32 লক্ষ মানুষের মাথার উপর ছাদের ব্যবস্থা করেছে, তা তিনি জোরালোভাবে তুলে ধরেন । তাঁর চ্যালেঞ্জ, "আমাদের টাকা, গত সাত বছরে বাংলা থেকে কর বাবদ সাত লক্ষ কোটি টাকা এই বিজেপির সরকার তুলে নিয়ে গেছে...দেখাক এরা বাংলায় গত পাঁচ বছরে বাড়ির জন্য পাঁচ পয়সা দিয়েছে । আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব ।"
বিজেপির আসন্ন রথযাত্রা কর্মসূচিকে কড়া ভাষায় কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, "জমিদারবাবুরা কাল থেকে রথযাত্রা শুরু করেছে...মানুষের প্রতিনিধিরা রাস্তায় থাকবে, না-থেকে তারা থাকছে কোথায় ? রথে । আপনি ভাবুন, মানুষ যাদের নির্বাচিত করেছে, তাদের পা-ই যদি মাটিতে না পড়ে...তাহলে যদি ক্ষমতায় থাকত এরা কীসে চড়তো ?" খাদ্যাভ্যাস নিয়ে রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, "কে চিকেন প্যাটিস বিক্রি করবে আর কে ভেজ রোল বিক্রি করবে, বিজেপির নেতারা ঠিক করছে... যতদিন বাংলায় আমরা আছি, বিজেপির বাবু আর জমিদাররা এটা দিল্লিতে বসে ঠিক করবে না ।"
দলীয় কর্মীদের আগামী 60 দিনের জন্য সর্বস্ব দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন অভিষেক ৷ তিনি বলেন, "24 ঘণ্টার মধ্যে যতটুকু ঘুম, খাবার দাবার, স্নান করার সময় ছাড়া বাকি পুরো সময়টা আগামী দু মাস বাংলা মায়ের জন্য দিতে হবে... শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত এই লড়াই চলবে ।" পরিশেষে তিনি কর্মীদের বার্তা দেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকা অবধি বাংলার মানুষকে কেউ ভাতে মারতে পারবে না... মানুষের হয়ে এই লড়াই লড়তে হবে, বিজেপিকে বাংলা ছাড়া করতে হবে । তাই যতই করো হামলা... আবার জিতবে বাংলা ।"

