জাস্টিস ফর প্রদীপ কর ! মৃতের বাড়ি গিয়ে সরব অভিষেক, বৃহস্পতিতে মিছিল পানিহাটিতে
পানিহাটিতে মৃত প্রদীপ করের বাড়িতে গেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ আগামিকাল মিছিল করবে তৃণমূল ৷

Published : October 29, 2025 at 8:22 PM IST
পানিহাটি, 29 অক্টোবর: পানিহাটিতে প্রদীপ করের নিজেকে শেষ করে দেওয়ার ঘটনার পর এসআইআর ইস্যুতে কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তৃণমূল ৷ বুধবার মৃত ব্যক্তির বাড়িতে গেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ পানিহাটিতে গিয়ে তিনি দেখা করেছেন প্রদীপ করের পরিবারের সঙ্গে ৷ সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি এই ঘটনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছেন ৷
বুধবার পানিহাটিতে নিজেকে শেষ করে দেন 57 বছর বয়সি প্রদীপ কর ৷ তাঁর দেহের সামনে পাওয়া নোটের ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছেন, এসআইআর আর এনআরসি আতঙ্কেই চরম পদক্ষেপ করেছেন তিনি ৷ এদিন তাঁর বাড়িতে যান ডায়মন্ডহারবারের তৃণমূল সাংসদ ৷ সেখানে তিনি বলেন, “গত পরশু জাতীয় নির্বাচন কমিশন রাজ্যে এসআইআর ঘোষণা করেছে ৷ তার 24 ঘণ্টার মধ্যে 57 বছর বয়সি অবিবাহিত প্রদীপ কর আত্মঘাতী হন ৷ এনআরসি ও এসআইআর-এর ভয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৷ গতকালই আমি তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম ৷ এখানকার দলীয় নেতৃত্বও তাঁর পরিবারের পাশে রয়েছে ৷ তাঁর ভাই তপনবাবুর ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছে ৷ এখনও অত্যন্ত দুর্বল ৷ এই খবর পেয়ে তিনি কয়েকবার অজ্ঞান হয়ে গিয়েছেন ৷"

রাজ্যবাসীকে অভয় দিয়ে তিনি আরও বলেন, "এনআরসি ও এসআইআর আতঙ্কের কারণ কেন্দ্রীয় সরকার আর নির্বাচন কমিশন ৷ এসব করে মানুষকে ভীত সন্ত্রস্ত করে রাখা হচ্ছে ৷ প্রদীপবাবুর পরিবার 40 বছরেরও বেশি সময় ধরে এই পাড়ায় রয়েছেন ৷ আমি রাজ্যবাসীর কাছে আবেদন জানাচ্ছি, কেউ ভয় পাবেন না ৷ যাঁদের বাবা, দাদু, ঠাকুরদারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাংলায় রয়েছেন তাঁদের বাংলাদেশি বলে সেদেশে পাঠিয়ে দেওয়া অত সোজা নয় ৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার থাকতে সেটা হবে না ৷ সবাই নির্ভয়ে থাকুন ৷ আমরা বুকের রক্ত দিয়ে সবাইকে রক্ষা করব ৷”

অভিষেক এদিন বলেন, “এনআরসি আর এসআইআর করে যদি একজন বৈধ নাগরিককেও বাদ দেওয়া হয়, তবে আমরা এক লাখ লোক নিয়ে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করব ৷ প্রদীপবাবুর বাড়িতে থাকাকালীনই জানতে পারি, একই আতঙ্কে দিনহাটাতেও এক ব্যক্তি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন ৷ একটা রাজনৈতিক দল যে এত নীচে নামতে পারে ভাবা যায় না ৷ এরা প্রদীপবাবুকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করছে ৷ তিনি লিখতে পারেন কি পারেন না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে ৷ অথচ তিনি নোটে পরিষ্কার লিখে গিয়েছেন, তাঁর মৃত্যুর জন্য এনআরসি এবং এসআইআর দায়ী ৷ একজন মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে যেভাবে রাজনীতি করা হচ্ছে তাতে আমি লজ্জিত ৷”
অভিষেক আরও বলেন, “ঘটনার পর 24 ঘণ্টা কেটে গিয়েছে ৷ যারা নিজেদের হিন্দুধর্মের ধারক ও বাহক বলে, হিন্দুদের রক্ষাকর্তা বলে দাবি করে তারা কেউ একবার পরিবারটির খোঁজ নিয়েছে ? বাংলাদেশ আর মায়ানমারের মানচিত্র দেখলে দেখবেন, চারটি রাজ্য দিয়ে রোহিঙ্গারা এদেশে ঢোকে ৷ আর মায়ানমার ও বাংলাদেশ সীমান্ত ধরলে রয়েছে আটটি রাজ্য ৷ একদিকে মিজোরাম, নাগাল্যান্ড ও মণিপুর ৷ উপরে অরুণাচল প্রদেশ, তার নীচে মেঘালয় ৷ রয়েছে অসম ও ত্রিপুরাও ৷ একদম পশ্চিমে রয়েছে বাংলা ৷ এরা শুধু বাংলায় এসআইআর করছে ৷ কারণ, বাঙালি এদের বশ্যতা স্বীকার করেনি, মাথা নত করেনি, এদের কাছে আত্মসমর্পণ করেনি ৷ তৃণমূল এর বদলা নিয়েই ছাড়বে ৷ সারা বাংলায় এখন একটাই স্বর, জাস্টিস ফর প্রদীপ কর ৷ যাদের জন্য তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন, আগামী দিনে তাদের জেলে পাঠাবে তৃণমূল ৷”

এসআইআর ইস্যুতে এদিন জাতীয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকারকেও একহাত নেন অভিষেক ৷ বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার ভাবছে কী ? যাকে ইচ্ছে বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা ঘোষণা করে দেবে ? ভোটার তালিকায় জ্ঞানেশ কুমারের বাবার নাম আছে ? নথি দেখাতে পারবে ? অমিত শাহ তাঁর বাবার জন্মের শংসাপত্র দেখাতে পারবেন ? প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে ক্যাবিনেট মন্ত্রীরা নিজেদের বাবা, ঠাকুরদার জন্মের সার্টিফিকেট দেখাতে পারবেন ? নির্বাচন কমিশনের কর্মীরা দেখাতে পারবেন ? স্থানীয় বিজেপি নেতারা এখানে প্রচারে এলে ওদের ল্যাম্পপোস্ট কিংবা গাছে বেঁধে রাখবেন ৷ বলবেন, বাবা, ঠাকুরদার জন্মের শংসাপত্র নিয়ে এসে যেন প্রচার করতে আসে ৷ তবে কেউ গায়ে হাত তুলবেন না ৷ আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি ৷”
এসআইআর নিয়ে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ডের বক্তব্য, “আগামী 4 তারিখ থেকে এসআইআর-এর ফর্ম বিলি শুরু হবে ৷ বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের ক্যাম্প থাকবে ৷ তৃণমূল অতন্দ্র প্রহরীর মতো সবার পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করবে ৷ ভয় পাওয়ার কিছু নেই ৷ আমরা যতদিন আছি সবাই নিশ্চিন্ত থাকুন ৷ রবীন্দ্রনাথ, বিদ্যাসাগর, স্বামী বিবেকানন্দ, রামকৃষ্ণ পরমহংসের বাংলাকে যারা ব্যঙ্গ করছে, বাংলাদেশি বলে অপমান করছে, আগামীতে তাদের জবাব দেওয়ার জন্য এখন থেকেই সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে ৷ এরা 11 বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে ৷ কেউ প্রচারে এলে তাদের কাছে হিসাব চাইবেন ৷”
অভিষেকের দাবি, “এরা পাঁচজনকে বাংলাদেশি বলে সেদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিল ৷ আমরা আইনি লড়াই লড়েছি ৷ হাইকোর্ট ওদের ভারতে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে ৷ আগে থেকে জানলে আমরা হয়তো প্রদীপবাবুকে বাঁচাতে পারতাম ৷ এর আগেও রিজেন্ট পার্ক আর নেতাজি নগরে দু’জন নিজেকে শেষ করেছে ৷ এদের মৃত্যুর জন্য জ্ঞানেশ কুমার আর অমিত শাহ দায়ী ৷ বিজেপি ভাবছে, ইডি আর নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে আমাদের টাইট করবে ৷ বুকের পাটা থাকলে বাংলার মানুষের গায়ে হাত দিয়ে দেখাক ৷ জ্ঞানেশ কুমারের মেয়ে ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসে কাজ করে ৷ এসআইআর ঘোষণা হওয়ার পর তাঁকে নয়ডার জেলাশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ৷ জামাই মনীশ বনসলকে এসআইআর ঘোষণার একদিন আগে সাহারানপুরের জেলাশাসক করে পাঠানো হয়েছে ৷ এসব কাকতালীয় ? আমরা নিশ্চিত করব একটা মানুষেরও মৌলিক অধিকার যেন কেড়ে না নেওয়া হয় ৷ আগামিকাল পানিহাটি থেকে মিছিল করবে তৃণমূল ৷ বাংলা জুড়ে একটাই স্বর, জাস্টিস ফর প্রদীপ কর স্লোগানকে সামনে রেখেই মিছিল হবে ৷”

