ETV Bharat / politics

বাংলার ভোটার তালিকায় থাবা ! কমিশনের বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ভাঙার অভিযোগ অভিষেকের

সুকৌশলে কারচুপি করে ইআরও-দের হাত বেঁধে দেওয়ার অভিযোগ অভিষেকের ৷ চক্রান্ত করে ভোটারদের তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ ৷

Abhishek Banerjee
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : February 21, 2026 at 8:19 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 21 ফেব্রুয়ারি: বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও আইনি স্বচ্ছতা নিয়ে ফের জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ শনিবার সোশাল মিডিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন তিনি ৷ কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি 'তিন দফা নিয়ম লঙ্ঘন' অভিযোগ করেছেন অভিষেক ৷

তাঁর দাবি, ইসিআই-নেট (ECINet) পোর্টালে সুকৌশলে কারচুপি করে ইআরও (ERO) বা নির্বাচনী পঞ্জীকরণ আধিকারিকদের হাত বেঁধে দেওয়া হচ্ছে, যাতে সহকারী আধিকারিকরা (AERO) যথেচ্ছভাবে তালিকা থেকে নাম বাদ দিতে পারেন ৷

শনিবারের এই বিস্ফোরক পোস্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, "বর্তমানে ইআরও-রা আর পোর্টালে তাঁদের অধস্তন সহকারী আধিকারিকদের (AERO) কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন না ৷" তিনি একে একটি সুপরিকল্পিত প্রাতিষ্ঠানিক বিচ্যুতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন ৷ সেই সঙ্গে কমিশনের বিরুদ্ধে তিনটি নির্দিষ্ট আইনি ভাঙার অভিযোগ করেছেন ৷

প্রথমত, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, 1950-এর উল্লেখ করে অভিষেক লিখেছেন, "আইন অনুযায়ী ভোটার তালিকা তৈরি ও সংশোধনের চূড়ান্ত দায়িত্ব ইআরও-র ৷ আইনের 13বি এবং 13সি ধারা অনুযায়ী, সহকারী আধিকারিকরা কেবলমাত্র ইআরও-কে সহায়তা করার জন্য নিযুক্ত এবং তাঁরা সর্বদা ইআরও-র নিয়ন্ত্রণেই কাজ করতে বাধ্য ৷ বর্তমান ব্যবস্থায় সেই নিয়ন্ত্রণ আলগা করে দিয়ে আসলে সংবিধানের মূল কাঠামোকেই আঘাত করা হচ্ছে ৷"

দ্বিতীয়ত, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, "গত 9 ফেব্রুয়ারি এবং 20 ফেব্রুয়ারির রায়ে দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত যে কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেবলমাত্র ইআরও-রা নেবেন ৷ আদালত আরও জানিয়েছে যে, ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি বা বাদ দেওয়ার বিষয়টি একটি 'আধা-বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়া' ৷ বাংলার ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে ভগবান সাজার অধিকার কারও নেই ৷ এই প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য ভেঙে আসলে ভোটারদের বেআইনিভাবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জমি তৈরি করা হচ্ছে ৷"

তৃতীয়ত, আইন ভাঙার ক্ষেত্রে তিনি নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব নির্দেশিকা (24 জুন, 2025)-র বিষয় তুলে ধরেছেন ৷ তিনি বলেন, "সেই নির্দেশের 2 নম্বর পয়েন্টে স্পষ্ট বলা আছে যে, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে কোন যোগ্য নাগরিক যাতে বাদ না-পড়েন এবং অযোগ্য কেউ যাতে অন্তর্ভুক্ত না-হন, তা নিশ্চিত করার দায়বদ্ধতা কেবলমাত্র ইআরও-র ৷ নথি অনুযায়ী, ভোটার তালিকা যাচাইয়ের জন্য ইআরও-রা ব্যক্তিগতভাবে সন্তুষ্ট না-হওয়া পর্যন্ত কারোর নাম তালিকায় যুক্ত করা যাবে না ৷ অথচ বর্তমানে তাঁদের সেই নজরদারির অধিকারই কেড়ে নেওয়া হয়েছে ৷"

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি উঠে এসেছে অভিষেকের পোস্ট করা একটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট থেকে (ইটিভি ভারত এর সত্যতা যাচাই করেননি) । স্ক্রিনশটে দেখা যাচ্ছে, ইআরও-দের নজরদারির সুযোগ দেওয়ার বদলে বলা হচ্ছে, তাঁরা এবং সহকারী আধিকারিকরা বর্তমানে সমান স্তরে রয়েছেন এবং তাঁরা একে অপরের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না ৷ এই বিষয়টিকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, "নির্বাচন কমিশনের এই আচরণ আদতে সেই গেঁড়ে বসা 'বাবু কালচার'-এর প্রতিফলন, যা নিয়ে গতকালই সুপ্রিম কোর্টের কাছে পরোক্ষভাবে ধমক খেয়েছে ৷"

কেন্দ্রীয় সরকারকে 'বাংলা-বিরোধী জমিদার' বলে তীব্র আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, "পর্দার আড়াল থেকে যারা সুতো টেনে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার র‍্যাকেট চালাচ্ছেন, তাদের বুঝে নেওয়া দরকার আইনের আদালত এবং জনগণের আদালত— উভয় জায়গাতেই জবাবদিহি করতে হবে ৷ কেউ বাংলার মানুষের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারবে না ৷"