শুভেন্দু-শান্তনুর টার্গেট পূরণ করছে কমিশন ! 1.25 কোটি নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত, দাবি অভিষেকের
শুভেন্দু অধিকারী এবং শান্তনু ঠাকুরের পুরনো বক্তব্য তুলে ধরলেন অভিষেক ৷ ফর্ম 6 ও 7-এর ক্ষেত্রে কারচুপির অভিযোগ ৷

Published : March 1, 2026 at 8:59 PM IST
কলকাতা, 1 মার্চ: এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটারদের নাম বাতিলের নেপথ্যে কারচুপির অভিযোগ তুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে 'বিজেপির সহকারী সংস্থা' বলে নিশানা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ৷ তাঁর দাবি, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের বেঁধে দেওয়া টার্গেট পূরণের জন্যই বাংলায় 1 কোটি 25 লক্ষ ভোটারের নাম বাতিলের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে ৷
রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে জেলা ও বিধানসভা ভিত্তিক একাধিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অমান্য করা এবং বেছে-বেছে বিজেপি-বিরোধী ভোটারদের টার্গেট করা হচ্ছে বলে দাবি করলেন অভিষেক ৷
বিজেপি নেতাদের 'টার্গেট' ও ক্রোনোলজির অভিযোগ
এ দিন বিজেপি নেতাদের পুরনো বক্তব্যের ভিডিয়ো তুলে ধরে অভিষেক দাবি করেন, "এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর আগেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী 1 কোটি 25 লক্ষ এবং শান্তনু ঠাকুর 1 কোটি 20 লক্ষ ভোটারের নাম বাতিলের কথা বলেছিলেন ৷ এই সংখ্যার হিসাব মেলাতেই কমিশন কাজ করছে ৷"
তৃণমূলের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথমে খসড়া তালিকায় 58 লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল ৷ এরপর ফর্ম সেভেন (Form 7)-এর মাধ্যমে আরও প্রায় সাড়ে 5 লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ৷ এর সঙ্গে বর্তমানে 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন' বা বিচারাধীন অবস্থায় থাকা 60 লক্ষ 6 হাজার 675 জনের নাম যোগ করলে সংখ্যাটা প্রায় 1 কোটি 24 লক্ষে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে ৷ অভিষেকের অভিযোগ, বিজেপি নেতারা যে টার্গেট বেঁধে দিয়েছিলেন, জাতীয় নির্বাচন কমিশন সেটাই কার্যকর করতে গরিব মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে ৷
মন্ত্রী, বিধায়ক থেকে সরকারি আধিকারিক, 'বিচারাধীন' সবার নাম
ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়ায় শুধু সাধারণ মানুষ নয়, শাসকদলের বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি আমলাদের নাম 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন' তালিকায় রয়েছে ৷ যা নিয়ে অভিষেক বলেন, "রাজ্যের মন্ত্রী গোলাম রব্বানি, আমডাঙার তিনবারের বিধায়ক রফিকুল রহমান, কুমারগঞ্জের বিধায়ক তোরাফ হোসেন, চণ্ডীতলার বিধায়ক স্বাতী খন্দকার এবং বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখের নাম এই তালিকায় রয়েছে ৷ আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, সন্দেশখালি 1 নম্বর ব্লক এবং ময়নাগুড়ির কর্মরত বিডিও (BDO)-দের নামও বিচারাধীন তালিকায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে ৷"
ফর্ম-6 ও ফর্ম-7’র গরমিল
নতুন ভোটারদের নাম তোলার আবেদন (ফর্ম-6) এবং নাম বাতিলের আবেদন (ফর্ম-7) সংক্রান্ত বিষয়ে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলেছেন অভিষেক ৷ তিনি দাবি করেন, 19 এবং 20 জানুয়ারির নোটিফিকেশনে ফর্ম সিক্স জমা পড়ার সংখ্যা দেখানো হয়েছিল 6 লক্ষ 33 হাজার 762 ৷ কিন্তু, পরবর্তীকালে তা এক ধাক্কায় কমিয়ে 1 লক্ষ 82 হাজার 36টি দেখানো হয় ৷ এর ফলে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ নতুন ভোটারের হিসাব উধাও হয়ে গিয়েছে বলে তাঁর দাবি ৷ একইভাবে ফর্ম-7’এর পরিসংখ্যানেও এক দিনে 41 হাজার থেকে 5 লক্ষ 48 হাজার হয়ে যাওয়ার মতো অসামঞ্জস্য রয়েছে অভিযোগ করেন অভিষেক ৷
টার্গেট সংখ্যালঘু এলাকা ও বিজেপি-র দুর্বল কেন্দ্রগুলি
এ দিন অভিষেক সরাসরি অভিযোগ করেন, যে সমস্ত জেলায় বা বিধানসভায় বিজেপি রাজনৈতিকভাবে দুর্বল বা যেখানে সংখ্যালঘু, তফসিলি জাতি ও উপজাতি মানুষের বসবাস বেশি, বেছে-বেছে সেখানেই সবচেয়ে বেশি ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে ৷
মালদা ও মুর্শিদাবাদের উদাহরণ টেনে বলেন, "মালদা জেলার 29 লক্ষ ভোটারের মধ্যে প্রায় সাড়ে আট লক্ষ (40 শতাংশ) নাম বিচারাধীন ৷ এর মধ্যে সুজাপুর বিধানসভায়, যেখানে বিজেপি গত নির্বাচনে মাত্র 18 হাজার ভোট পেয়েছিল, সেখানে 1 লক্ষ 34 হাজার (প্রায় 90 শতাংশ) ভোটারের নাম আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনে রয়েছে ৷ একই অবস্থা রতুয়া, মালতিপুর, হরিশ্চন্দ্রপুর এবং মোথাবাড়িতেও ৷ মুর্শিদাবাদে 54 লক্ষ ভোটারের মধ্যে 11 লক্ষেরও বেশি (20 শতাংশের উপর) নাম বিচারাধীন রাখা হয়েছে ৷ রঘুনাথগঞ্জ, ভগবানগোলা, ডোমকল, জলঙ্গী এবং রানিনগরের মতো বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে গড় এক লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে ৷"
এছাড়াও, উত্তর দিনাজপুরে প্রায় 30 শতাংশ, কোচবিহারে 10 শতাংশ এবং দুই 24 পরগনা ও পূর্ব বর্ধমানেও কয়েক লক্ষ ভোটারের নাম আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনের তালিকায় রয়েছে বলে অভিযোগ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৷
সুপ্রিম কোর্টকে অবমাননার অভিযোগ
নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানছে না-বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূল সাংসদ ৷ তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্ট নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে আধার কার্ড ব্যবহার করতে নিষেধ করলেও, পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে তা গ্রহণ করার কথা বলেছিল ৷ কিন্তু, নির্বাচন কমিশন নিজেদের ইচ্ছে মতো এসওপি (SOP) তৈরি করে বিবাহিত মহিলাদের ক্ষেত্রে আধার কার্ড বাতিল করছে ৷ বিয়ের পর ঠিকানা পরিবর্তন হওয়া মহিলাদের বেছে-বেছে এই হয়রান করা হচ্ছে বলে তিনি সরব হন ৷

