এসআইআরে বাদ 51 লক্ষ নাম, বাড়তি ভোট 30 লক্ষ! পরিসংখ্যানেই লুকিয়ে সরকার গঠনের চাবিকাঠি
গত বারের তুলনায় যে 30 লক্ষাধিক মানুষ এ বার বেশি ভোট দিয়েছেন, তার মধ্যে প্রায় 21 লক্ষ ভোটই এসেছে প্রথম দফার নির্বাচন থেকে ।

Published : April 30, 2026 at 2:39 PM IST
কলকাতা, 30 এপ্রিল: একদিকে যখন ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার খবর সামনে এসেছে, তখন অন্যদিকে ভোটবাক্সে দেখা গেল সম্পূর্ণ বিপরীত এক চিত্র । 2021 সালের বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় 2026 সালের এই নির্বাচনে রাজ্যে 51 লক্ষ ভোটার কমেছে । অথচ, বিস্ময়করভাবে ভোটদানের সংখ্যা আগের বারের থেকে প্রায় 30 লক্ষেরও বেশি বেড়েছে। আর এই চমকপ্রদ পরিসংখ্যানই ইঙ্গিত দিচ্ছে, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের মসনদে কে বসবে, তার চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে এই বাড়তি ভোটের অঙ্কেই ।
নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, এই বিশাল সংখ্যক বাড়তি ভোটের সিংহভাগই পড়েছে প্রথম দফায় । গত বারের তুলনায় যে 30 লক্ষাধিক মানুষ এ বার বেশি ভোট দিয়েছেন, তার মধ্যে প্রায় 21 লক্ষ ভোটই এসেছে প্রথম দফার নির্বাচন থেকে । দুই দফার পরিসংখ্যান মেলালে দেখা যাচ্ছে, গতবারের তুলনায় এবার প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে গড়ে প্রায় 10 হাজার জন করে বেশি ভোট দিয়েছেন । দ্বিতীয় দফার শেষে রাত 12টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে রাজ্যের সামগ্রিক ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে 92.63 শতাংশে, যা অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে ।
এই অভূতপূর্ব পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিশ্বজিৎ দাস বলেন, "এবার এসআইআর-এর (SIR) ফলে যেভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়েছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই যে, এই বিষয়টি একা হাতেই বিধানসভার ফলাফল বদলে দিতে পারে । ভোটার কমে যাওয়ার পরেও যেভাবে ভোটদানের সংখ্যা বেড়েছে, তাতে কোনও সেফোলজিস্ট বা ভোটকুশলীই এখন স্পষ্ট করে বলতে পারবেন না যে পাল্লা কোন দিকে ঝুঁকছে । তবে প্রত্যেক দফায় যেভাবে 90 শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে, তা শাসক এবং বিরোধী - উভয় শিবিরের জন্যই যথেষ্ট আশাব্যাঞ্জক হতে পারে ।"
সাধারণত রাজনৈতিক মহলে একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে, ভোটদানের হার অস্বাভাবিক বাড়লে তা বর্তমান সরকারের বিপক্ষে অর্থাৎ প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া হিসেবে কাজ করে । কিন্তু এবারের নির্বাচনে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়েছে । বিশ্লেষকদের মতে, এসআইআর-এর স্ক্রুটিনিতে যেভাবে নাম বাদ গিয়েছে, তাতে যাদের নাম তালিকায় টিকে ছিল, তাদের মধ্যে ভোট দেওয়ার এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা কাজ করেছে। কেউ সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি ।
বিশ্বজিৎ দাসের কথায়, "ভোটের আগে ভিন রাজ্য থেকে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের বাড়ি ফেরার এক হিড়িক দেখা গিয়েছিল । প্রত্যেকেই চেয়েছিলেন এই বিশেষ পরিস্থিতিতে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে । তবে এই পরিসংখ্যান শেষ পর্যন্ত কাদের ঝোলায় শক্তি বাড়াবে, তা নিয়ে আমাদের আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে । তবে এই পরিসংখ্যান যাদের সাহায্য করবে, তারাই যে পরবর্তী সরকার গড়বে, তা একরকম নিশ্চিত ।"
প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে গড়ে এই বাড়তি 10 হাজার ভোটই এখন জয়-পরাজয়ের প্রধান নির্ণায়ক । একদিকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ যাওয়া এবং অন্যদিকে রেকর্ড ভাঙা ভোটদান - এই দুই বিপরীতমুখী মেরুকরণের মধ্যেই এখন বন্দি হয়ে আছে বাংলার রাজনীতির ভবিষ্যৎ । 4 মে-র ফলই বলে দেবে পরিসংখ্যানের এই গোলকধাঁধায় শেষ হাসি হাসল কে ।

