ETV Bharat / opinion

হুমায়ুনের বাবরিতে বঙ্গ রাজনীতির ভোলবদল ! ছাব্বিশের জল মাপতে গ্রাউন্ড জিরোয় ইটিভি ভারত

হুমায়ুনের বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা নিয়ে তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি ৷ ছাব্বিশের নির্বাচনে এর প্রভাব কতটা, তারই চুলচেরা বিশ্লেষণে গ্রাউন্ড জিরোয় ইটিভি ভারতের সাহাজান পুরকাইত ।

ETV BHARAT
গ্রাউন্ড জিরোয় ইটিভি ভারত (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : December 11, 2025 at 8:06 PM IST

10 Min Read
Choose ETV Bharat

জলঙ্গি, 11 ডিসেম্বর: মুর্শিদাবাদের বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীরের বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণার পর থেকেই বদলে গিয়েছে বঙ্গের রাজনীতির চালচিত্র । 2026 সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই বাবরি ইস্যু রাজনীতির গতিপথকে অন্য পথে চালিত করেছে ৷ তারই খোঁজ নিতে সরেজমিন মুর্শিদাবাদ ঘুরে দেখল ইটিভি ভারত ।

নবাবের শহরে বর্তমান চালচিত্র

ঘন কুয়াশায় ঘেরা ভোর । কপি, শিম, হলুদ সর্ষে ক্ষেতের আলে সার দেওয়া খেজুর গাছ । সেই গাছে বাঁধা ভাঁড়ে টুপটাপ ঝরে পড়ছে রস । একটার পর একটা গাছে উঠছেন দোহারা শ্যামলা বর্ণের সাকিরুল মণ্ডল । ঠান্ডা রসভর্তি ভাঁড় উলটে দিচ্ছেন বালতিতে । অদূরে তাঁর স্ত্রী সাবিনা বিবি বাসনা (কলা গাছের শুকনো পাতা) আঁটি বয়ে আনছেন চুলোপাড়ে । এসব সেরে রস জ্বাল দিতে বসাতেই আধা ঘণ্টা লেগে গেল ।

ছাব্বিশের জল মাপতে মুর্শিদাবাদে গ্রাউন্ড জিরোয় ইটিভি ভারত (নিজস্ব ভিডিয়ো)

এমন সময় হাতে এক ডিশ শুকনো মুড়ি ধরিয়ে দিল বছর তিনের ফাতিমা খাতুন । শীতের সকালে চুলোর পাশে উবু হয়ে বসে থাকা দাদু, দাদিমা, আব্বা, ছোটবাবু সকলের হাতে এক এক করে পৌঁছে গেল মুড়ির বাটি । তাতে মেশানো খাঁটি সরিষার তেল আর অল্প চানাচুর । আর গতরাতে বাজার থেকে আনা বড় সাইজের জিলিপি । বাকি সকলের মতো দাদিমার কোলে বসে মহানন্দে সেই মুড়ি খাচ্ছে ফাতিমা । সে মাঝে মধ্যে দাদুর মুখে তুলে দিচ্ছে জিলিপি, শুকনো মুড়ি। এই ছবি মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গি বিধানসভার সাগরপাড়া থানার বারোমাসিয়া গ্রামের ।

বারোমাসিয়ার বাসিন্দাদের জীবনসংগ্রাম

নরসিংহপুর মোড় থেকে প্রায় দু'কিলোমিটার ভিতরের গ্রাম বারোমাসিয়া । চারটি বুথে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের বসবাস । অধিকাংশই সংখ্যালঘু । শিক্ষার হার খুব বেশি নয় । চাষবাস, দিনমজুর ও পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করে স্থানীয়দের সংসার চলে । জলঙ্গি নদীর দু'পাড়ের বাসিন্দাদের অবস্থা এমনই । অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের - এ কথা তারা জানে না । অথচ, বেলডাঙাতে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কিংবা কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে গীতাপাঠের মহা-আয়োজন সম্পর্কে তারা যথেষ্ট ওয়াকিবহাল । কারণ, সাকিরুলের কাছে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল রয়েছে । যার মাসিক রিচার্জ খরচ প্রায় তিনশো টাকাও বেশি । সারাদিন কাজ করেও সেই মোবাইল খরচের টাকা জোগাড় হয় না ।

ETV BHARAT
গুড় জ্বাল দেওয়া হচ্ছে (নিজস্ব চিত্র)

সাকিরুল বলেন, "ভোর চারটে থেকে বেলা বারোটা পর্যন্ত রস সংগ্রহ করে জ্বাল দিলে গুড় পাওয়া যায় ।" এক কেজি গুড় বিক্রি করে মাত্র 200 টাকা পান তিনি । চিনি মেশালে সে গুড়ের কেজি 70 টাকা । শীতের মরশুম শেষ হলে বছরের বাকি সময়ে কখনও ডাব বিক্রি করে, কখনও দিনমজুরি করেই কাটে সাকিরুলের । এভাবে আর কতদিন ? প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, "উপায় তো নাই । সরকার তো আমাদের দেখে না । আমাদের গ্রাম ছাড়াও পাশের গ্রামেও একই অবস্থা । রাস্তা ভালো নাই । কাজ নাই । 100 দিনের কাজ বন্ধ । পড়াশোনার এত খরচ । মেয়েটাকে 14 বছরে বিয়ে দিয়ে দিলাম । সেখানেও যে ভালো আছে তেমন না । সবই একই হাল !"

জীবন-যন্ত্রণাকে ভুলিয়ে দেয় ধর্মের মোহ

বাল্যবিবাহ রোধে কেন্দ্র-রাজ্য উভয় সরকারের একাধিক প্রকল্প থাকলেও মুর্শিদাবাদ জেলাতে বাল্যবিবাহের সংখ্যা সর্বাধিক । কারণ, স্কুলে পড়াশোনার খরচ বৃদ্ধি, স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাব, পড়াশোনা শিখে চাকরি হবে কি না তা নিয়ে সংশয় আর সঙ্গে আর্থিক অনটন । যে কারণে 'কন্যাদায়' গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাঁদের কাছে । তাই, কখনও বোনের বিয়ে, কখনও মেয়ের বিয়ে দিতে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে হয় রানিনগরের গৌতম মণ্ডলদের । কিন্তু, সেখানেও তো এখন সুখ নেই । বাংলা ভাষায় কথা বলার অপরাধে ওড়িশা, কর্ণাটক, হরিয়ানা ছেড়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে গৌতম ইব্রাহিম-সহ আরও অনেককে ।

এদিকে, 100 দিনের কাজ বন্ধ । গ্রামে ফিরলেও এখন কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না । দিনমজুরি করলে দেড়শো থেকে আড়াইশো টাকা পাওয়া যায় । সকলের আবার কাজও মেলে না । তাই রেশনের চাল, ডাল, নুন, তেলই ভরসা । রোজকার জীবন যুদ্ধে সংগ্রামী সাকিরুল-গৌতমদের জীবনে কোনও বদল ঘটছে না । তবুও, তাঁরা প্রশাসন জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্ন করছেন না । রাজনীতির রাজা-রানিরাও এঁদের স্বপ্ন-ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবিত নন ! বরং, রাজনীতির কারবারিরা মন্দির-মসজিদ নিয়ে সাকিরুল-গৌতমদের মাতিয়ে রেখেছেন । জীবন যন্ত্রণাকে পিছনে ঠেলে ধর্মের মোহে নিজেদের চায়ের দোকানও আলাদা করছেন তাঁরা ।

ETV BHARAT
জীবন-যন্ত্রণাকে ভুলিয়ে দেয় ধর্মের মোহ (নিজস্ব চিত্র)

"ধর্মের বেশে মোহ যারে এসে ধরে/অন্ধ সে জন মারে আর শুধু মরে ।" সাকিরুল, গৌতমরা কবিগুরুর এই পংক্তির তাৎপর্য অনুধাবন করতে পারেন না । তারই ফলস্বরূপ কয়েক মাস আগেও এই মুর্শিদাবাদ, মালদার মতো জেলাগুলি সাক্ষী থেকেছে হিংসার, যার কবলে পড়ে বলি হতে হয়েছে তরতাজা প্রাণ । ঘর ছাড়তে হয়েছে বহু মানুষকে । তাই, চোখ বন্ধ করে প্রবাদ আওড়ানো যায়, রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় উলুখাগড়ার প্রাণ যায় ! এই প্রবাদের অস্তিত্ব আজও বর্তমান নবাবি জেলা মুর্শিদাবাদে ।

বাবরিকে ঘিরে ধর্মীয় আবেগের প্লাবন

ভৌগোলিক অবস্থানে রাজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত জেলাকে ঘিরেই ছাব্বিশের বঙ্গ নির্বাচন ঘুরপাক খাচ্ছে । হুমায়ুনের নেতৃত্বে বেলডাঙাতে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছে । উত্তর 24 পরগনার বসিরহাট, দক্ষিণের ভাঙড়, বর্ধমানের ভাতার, কিংবা নদিয়ার পলাশি, কালীগঞ্জ থেকে ট্রাক ভর্তি করে, ট্রাক্টর ভর্তি করে ইট-সিমেন্ট যাচ্ছে বেলডাঙায় । লক্ষ লক্ষ টাকা ঢুকছে হুমায়ুন কবীরের অ্যাকাউন্টে । উপচে পড়ছে দান পেটি ৷ টাকা গুনতে গুনতে মেশিনও বিকল হয়ে পড়ছে ৷ অথচ, ধর্মীয় আবেগে ভাসা মানুষগুলোর যাঁকে ঘিরে স্বপ্ন দেখছেন, সেই হুমায়ুনই 2019 সালের নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন । যিনি জেলার 30 শতাংশ হিন্দুকে কেটে ভাগীরথিতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ।

একই ধাঁচে আগামিতে বহরমপুরে রাম মন্দির হবে । এদিকে, ব্রিগেডে হয়েছে গীতাপাঠ ৷ তাই নিয়ে মাথাচাড়া দিয়েছে 'চিকেন প্যাটিস' বিতর্ক ৷ গীতাপাঠের পালটা হিসেবে আবার কোরান তেলাওয়াত হবে নবাবের শহরে । কিন্তু, কেন মুর্শিদাবাদের পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় এখনও হল না ? সংশোধিত ওবিসি তালিকা থেকে শেরশাবাদিয়া-সহ বারোটিরও বেশি পদবির সংখ্যালঘুরা কেন বাদ পড়লেন ? সেই প্রশ্নের জবাব মেলে না । নদীর গ্রাসে একের পর এক গ্রাম নিশ্চিহ্ন হলেও প্রশাসন কেন দেখছে না ? বিড়ি শ্রমিকরা কেন ন্যায্য মজুরি পাচ্ছে না ? SF প্রশ্নগুলির উত্তর অমিল !

ETV BHARAT
বারোমাসিয়ার বাসিন্দাদের জীবনসংগ্রাম (নিজস্ব চিত্র)

এইসব প্রশ্নকে স্থানীয়দের মনে জায়গা করে দিতে চেয়ে 'বাংলা বাঁচাও যাত্রা' করছে সিপিএমে ৷ অধীররঞ্জন চৌধুরীর রয়েছে 'মিশন স্বরাজ'৷ তবে এসব কতটা সফল হবে তা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে । কারণ, মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি, রানিনগর বেলডাঙা, বহরমপুর, ভরতপুর-সহ গোটা জেলার মানুষের মুখে ঘুরেফিরেই সেই মন্দির-মসজিদের রাজনীতি । তাঁদের অধিকাংশ জনের প্রশ্ন, "দিদি (মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) একটার পর একটা মন্দির করছেন । মসজিদ করলে অপরাধ কীসের ? হুমায়ুনকে কেন দল থেকে তাড়ানো হল ? মসজিদ করছে বলে ? মসজিদ করা যদি হুমায়ুনের অপরাধ হয়, তাহলে আমরা হুমায়ুনকেই ভোট দেব । দিদিকে তাড়াব ।"

তৃণমূলকে ভাবাচ্ছে হুমায়ুন ফ্যাক্টর

মুর্শিদাবাদ জেলার শহর এলাকার মানুষজনের আবার এদল, সেদল, নির্দল ঘোরা গভীর জলের মাছ হুমায়ুনের প্রতি বিশেষ আগ্রহ নেই । তাঁদের যুক্তি, "মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের পিতা বাবরের সঙ্গে মুর্শিদাবাদ জেলার সম্পর্ক নেই । মসজিদ করতে হলে তো নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার নামেই করা যেত ! তা হল না কেন ? এই হুমায়ুন কবীর একসময় বিজেপিতে ছিলেন । তিনি এখন সংখ্যালঘুদের আবেগ নিয়ে মসজিদ করতে চাইছেন । তাতে তো আপত্তি থাকার কথা নয় । কিন্তু, পাড়ায় পাড়ায় মসজিদ মন্দির দিয়ে তো স্কুল-কলেজ চলবে না । পেট চলবে না । চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যাবে না । ঠিক তেমনই, এই হুমায়ুনই আবার ছাব্বিশের ভোট মিটলে তৃণমূলে ফিরবে না বা বিজেপিতে যাবে না, তার কি গ্যারান্টি আছে ?

স্থানীয় তৃণমূল শিবিরের গলায় একই সুর শোনা গেলেও দল থেকে হুমায়ুনের বহিষ্কার নিয়ে অনেকে উদ্বিগ্ন ৷ ভরতপুর, বেলডাঙা রানিনগর, রেজিনগর-সহ একাধিক এলাকা হুমায়ুনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় বলে তাঁরা দাবি করেন । ফলে এই বিশাল এলাকার কয়েকটি বিধানসভা এবার তৃণমূল কংগ্রেসের হাতছাড়া হবে বলে তাঁরা নিশ্চিত । শুধু তাই নয়, আসাদউদ্দিন ওয়াইসির মিমের সঙ্গে হুমায়ুন জোট বাঁধলে মুসলিম ভোট ব্যাংক ধরে রাখা যথেষ্ট চাপের হবে বলে তাঁরা স্বীকার করছেন । এদিকে, 2009 সালে প্রতিষ্ঠিত এসডিপিআই (Social Democratic Party of India) মুর্শিদাবাদ ও মালদার বিভিন্ন অংশে নিজেদের সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে । সবমিলিয়ে সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংকের দৌলতে একচেটিয়া আধিপত্য কায়েম রাখা নিয়ে তৃণমূলের চিন্তা বেড়েছে ।

কৌশল সাজাচ্ছে বিরোধীরাও

চিন্তামুক্ত নন কংগ্রেস কিংবা বামেরা । তবে এই ডামাডোলের বাজারে কিছুটা হলেও হিন্দু ভোটব্যাংকের বৃদ্ধি ঘটবে বলে আশাবাদী বিজেপি । এই কারণেই হুমায়ুনের বিদ্রোহী সত্তা ও বেলডাঙার বাবরি মসজিদকে ঘিরে প্রতিদিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আবেগপ্রবণ মুসলিমদের ইট বয়ে নিয়ে যাওয়ার ছবি ও ভিডিয়োতে হিন্দু ভোট ব্যাংককে এককাট্টা করতে সুবিধা হচ্ছে বলেই মনে করছে গেরুয়া শিবির ।

এই পরিস্থিতি বিবেচনা করেই অধীররঞ্জন চৌধুরীকে বলতে শোনা যাচ্ছে, "মন্দির-মসজিদ নির্মাণ হোক বা গীতাপাঠ - শুভ মানসিকতার সঙ্গে করলে সমাজে সৌহার্দ্য বজায় থাকে । গীতা বা কোরান শুধু পাঠ নয়, মানুষকে তার প্রকৃত অর্থও বোঝানো হোক । মসজিদের প্রতি মানুষের আবেগ আছে । সাধারণ মানুষ ধর্মীয় আবেদনের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে দান করছেন । দিদি আর মোদির অদ্ভুত মিল, দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি করছে বিজেপি, সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলায় বিভাজনের রাজনীতি করছে তৃণমূল । দিদি মন্দির করছেন, তাঁর MLA তাঁরই পথ অনুসরণ করছেন ।"

আর মহম্মদ সেলিম বলছেন, "এখন ঝুলি থেকে বেড়াল বের হচ্ছে । তখন তৃণমূল হুমায়ুনকে সাসপেন্ড করল না । এখন মসজিদ তৈরি করবে বলেছে, আর বের করে দিল । এটা ওর ব্যক্তিগত ব্যাপার । 2002-এর ভোটার লিস্ট ডাউনলোড করবেন না । সেই বাংলাকেও ডাউনলোড করালো । জ্যোতি বসু বলেছিলেন, বিজেপি বর্বর দল । মমতা বলেছিলেন, বন্ধু । আমরা বলছি, মন্দির-মসজিদ যে ধর্ম করে তাকে মানায় । সরকারের কাজ রাস্তা, স্কুল করা । সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ফলে কালোবাজারি বেড়ে গেল । মজুরি পাচ্ছে না । ভাষার নামে, পোশাকের নামে রাজনীতি চলছে । আমরা এই বিভাজনের বিরুদ্ধে । এই মুর্শিদাবাদ জেলাতেই অধীর-সেলিমকে হারানো হয়েছে । আমরা হেরে গিয়েছি । হারিয়ে যায়নি । যাঁরা মনে করছেন, লাল ঝান্ডা দুর্বল হয়েছে, তাঁদের বলব, লড়াই করুন ।"

সবমিলিয়ে ছাব্বিশের নির্বাচনের ঠিক আগে ভোটের চালচিত্রে নয়া তুলির টান নিঃসন্দেহে বাবরি মসজিদ নির্মাণ ইস্যু ৷ আর তার সঙ্গী গীতাপাঠ, কোরানপাঠ ৷ কেন্দ্রীয় বঞ্চনা, এসআইআর-সহ একাধিক জ্বালাময়ী বিষয়কে ছাপিয়ে গিয়ে আগামী দিনে এই স্ট্র্যাটেজিই বঙ্গ রাজনীতির নিউক্লিয়াস হয়ে ওঠে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে ৷

আরও পড়ুন: