পরাজয়ের চেয়েও বড় সঙ্কট, দল টিকিয়ে রাখাই চ্যালেঞ্জ মমতার
রাজনৈতিক দলকে আসল পরীক্ষার মুখে পড়তে হয় নির্বাচনে পরাজয়ের পর ৷ এবার সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে মহাসঙ্কটের মুখে তৃণমূল ৷

Published : June 12, 2026 at 5:57 PM IST
রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে পরাজয় কোনও নতুন বিষয় নয় ৷ ভোটে হারার পর কোনও কোনও দল আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসে ৷ কোনও কোনও দলকে বছরের পর বছর কাটাতে হয় বিরোধী পক্ষে ৷ তারপর ফিরে আসে ক্ষমতায় ৷ কোনও কোনও দল আবার অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে ৷ পরিণতি যাই হোক না, রাজনৈতিক দলকে আসল পরীক্ষার মুখে পড়তে হয় নির্বাচনে পরাজয়ের পর ৷
দলের এক বিধায়ক প্রকাশ্যে তৃণমূলের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ৷ তাঁকে সমর্থন করছেন অন্য নির্বাচিত বিধায়করা ৷ পরিষদীয় দলের মতো সংসদীয় দলেও চওড়া হচ্ছে ভাঙন ৷ দলীয় লাইনের বাইরে গিয়ে অধিকাংশ সাংসদ এনডিএ সরকারকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৷ দলের প্রবীণ নেতারা শীর্ষ নেতাদের একাধিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন প্রকাশ্যে ৷ এমন কিছু যে হতে পারে তা কয়েক বছর আগে ছিল কল্পনারও অতীত ৷ শুধু কয়েক বছর আগে কেন, এই 2026 সালের প্রথম দিকেও এরকম কোনও সম্ভাবনাকে বাস্তবোচিত বলে মনে করা ছিল প্রায় অসম্ভব ৷ কিন্তু আজ তৃণমলের কাছে এসবই ঘোর বাস্তব, চূড়ান্ত সত্যি ৷

আর তাই বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিরাট জয়- বাংলার রাজনীতির সবথেকে বড় খবর নয় ৷ বরং 15 বছর ধরে বাংলার শাসন ব্যবস্থা যে দলের হাতে ছিল তাদের অভ্যন্তরীণ বিবাদই জায়গা করে নিয়েছে শিরোনামে ৷ জীবনের একটা দীর্ঘ সময় বিরোধী থাকার পর একদা ক্ষমতায় আসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই প্রথম অস্তিত্বের সঙ্কটে পড়তে হচ্ছে ৷ আবারও ক্ষমতায় ফেরার প্রশ্ন তো কোন ছাড় ক্ষমতার বাইরে থাকা অবস্থায় তাঁর দল টিকে থাকবে কি না সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ৷
হেরে যাওয়াটাই যখন বড়
বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদল আগেও হয়েছে ৷ ক্ষমতায় থাকা কোনও দলকে এই প্রথম সরকার-ছাড়া হতে হয়েছে এমন ভাবার কোনও কারণ নেই ৷ কংগ্রেস প্রথম পরাজিত হয় যুক্তফ্রন্টের কাছে ৷ পরে বামেদের হাতে ৷ সাড়ে তিন দশকের শাসন শেষে বামেরা পরাজিত হয় তৃণমূলের কাছে ৷ এখন তৃণমূলের পরাজয়ের পর যা হচ্ছে তার সঙ্গে 2011 সালে বামেদের পতনের পর কী হয়েছিল তার তুলনা টানার সঙ্গত কারণ অবশ্যই আছে ৷
34 বছর সরকার পরিচালনের পর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে হারতে হয় বামেদের ৷ কিন্তু নির্বাচনী ব্যর্থতার পরও বামেদের সংগঠন অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েনি ৷ মতের অমিল সেখানেও ছিল কিন্তু এমন সাংগঠনিক শূন্যতার দেখা মেলেনি ৷ ক্ষমতায় না থেকেও সিপিএম তার ক্যাডারদের একটা অংশকে ধরে রাখতে পেরেছে ৷ লোকাল কমিটি থেকে শুরু করে ইউনিয়ন এবং ছাত্র সংগঠনের অস্তিত্ব মুছে যায়নি ৷ একের পর এক নির্বাচনী ব্যর্থতা এলেও এ ব্যাপারে কোনও বদল আসেনি ৷
এখন এটা বুঝতে কোনও অসুবিধা হয় না যে বামেদের পক্ষে থাকা সমর্থনের খানিকটা একটা সময় তৃণমূলে গিয়েছিল ৷ পরে তা চলে যায় বিজেপির দিকে ৷ 2021 সালের বিধানসভা নির্বাচনে একটি আসন না পাওয়ার পরও যেভাবে সিপিএম নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পেরেছে তা তাদের সাংগঠনিক সংস্কৃতির বিজ্ঞাপন হতেই পারে ৷ প্রভাব না-ই থাকতে পারে কিন্তু সিপিএমের অস্তিত্ব এখনও অটুট ৷
তৃণমূলের চ্যালেঞ্জ সম্পূর্ণ আলাদা ৷ দলটি তৈরি হয়েছিল মমতার উপেক্ষা করা অসম্ভব এমন রাজনৈতিক আবেদনের ভিত্তিতে ৷ দলের ভিত্তি শক্ত করেছিল নজিরবিহীন রাজনৈতিক সাফল্য ৷ ক্ষমতায় থাকাই 15 বছর ধরে তৃণমূলকে এক করে রেখেছিল ৷ মাটির কাছাকাছি থাকা সংগঠনের কোন্দল, প্রতিটি জেলার আলাদা আলাদা প্রশাসনিক প্রয়োজনিয়তা এবং বাস্তবতা, বিভিন্ন দল ছেড়ে আসা নেতা-কর্মী এবং অঞ্চলে অঞ্চলে তৈরি হয় ক্ষমতার ভরকেন্দ্র থাকার পরও তৃণমূল যে একটি দল হিসেবে টিকে ছিল সেখানে আঠার কাজটাই করেছে ক্ষমতা ৷ ক্ষমতা নেই তাই সাংগঠনিক ফাঁকফোঁকর এখন চোখে পড়ছে ৷
বিদ্রোহের পটভূমি কলকাতা
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিধানসভার ট্রেজারি বেঞ্চ বা শাসক পক্ষের তরফ থেকে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য খবরটি আসেনি ৷ এসেছে ক্ষমতাচ্যুত তৃণমূলের তরফ থেকে ৷ উলুবেড়িয়া পূর্ব আসনের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখে যেভাবে একদল তৃণমূল বিধায়ক বিদ্রোহ করেছেন তা কয়েক মাস আগেও ছিল কল্পনার অতীত ৷ তাঁকে বরখাস্ত করেছে তৃণমূল ৷ কিন্তু বিধানসভার খাতায়কলমে এখন তিনিই তৃণমূলের নেতা ৷ এখান থেকেই বোঝায় এখন তৃণমূলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি ঠিক কতটা খারাপ ৷
এটা কোনও বিচ্ছিন্ন কোন্দল নয় ৷ বছরের পর বছর ধরে তৃণমূল একটি কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থাকে হাতিয়ার করে প্রবাহিত হয়েছে ৷ সেখানে প্রকাশ্য বিরোধিতা ছিল বিরল ৷ বিরোধ ছিল না তা নয় ৷ তবে তা ছিল দলের অন্দরে ৷ এখন সবকিছুই প্রকাশ্যে এসে গিয়েছে ৷ দলের সিদ্ধান্ত নিয়ে নেতারা এখন প্রকাশ্যে প্রশ্ন করছেন তাও আবার ভয় না পেয়ে ৷ তৃণমূলের সাংগঠনিক দিক থেকে বিবেচনা করলে এই বিষয়টি অতিশয় তাৎপর্যপূর্ণ ৷ বিরোধিতা নিয়ে রাজনৈতিক সংগঠন পরিচালিত হতে পারে ৷ কিন্তু কোনও দলের শীর্ষনেতারা যখন ভিতরে থাকা সংঘাতকে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হন তখন তা বড় ধরনের সঙ্কটের বার্তা বয়ে আনে ৷
বিরোধিতার সুর দিল্লিতেও
কলকাতার পরিস্থিতি যদি তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে তাহলে দিল্লি আরও বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে তৈরি ৷ বিধানসভায় ফাটল তৃণমূলকে চাপে ফেলেছে ৷ কিন্তু লোকসভার ভাঙন আরও বড় সঙ্কট তৈরি করেছে ৷ জাতীয় রাজনীতিতে মমতার রাজনৈতিক প্রভুত্বের দুটো দিক আছে ৷ প্রথমত, বাংলার ক্ষমতায় থাকা ৷ আর দ্বিতীয়ত, দিল্লিতে বড় সংসদীয় দল ধরে রাখা ৷ এই দুটির মধ্যে একটি ইতিমধ্যেই দুর্বল হয়ে গিয়েছে ৷
একটা সময় মনে করা হয়েছিল, দ্বিতীয় বিষয়টি তৃণমূলের পক্ষে ততটা ভাবনার কারণ হবে না ৷ কিন্তু তা হয়নি ৷ তৃণমূলের সংসদীয় দলে ভাঙন এখন আর কল্পনায় বা নথিতে আটকে নেই ৷ 28 জনের মধ্যে 20 জন তৃণমূল সাংসদ চিঠি লিখে লোকসভার স্পিকারকে জানিয়েছেন তাঁরা বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ-কে সমর্থন করেবন ৷ এই বিরোধিতার নেতৃত্বে একসময় মমতার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত চিকিৎসক-সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার ৷

ধারনা আর সংখ্যা দুটোই রাজনীতির বাহক ৷ রাজনৈতিক দল সঙ্কটে পড়লে তখন তার ভিতরের সমীকরণ বদলাতে থাকে ৷ নেতারা বিকল্পের খোঁজ শুরু করেন ৷ উচ্চাকাঙ্খা খুঁজে নেয় নয়া দিশা ৷ অনেক পুরনো দিনের আনুগত্যও পডে প্রশ্নর মুখে ৷ আর তাই সাংসদদের বিরোধিতা তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের কাছে অনেক বড় উদ্বেগের কারণ ৷ এই রুঢ় বাস্তব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কঠিন পরিস্থিতির মুখে ফেলেছে ৷ পরিষদীয় দলে অসন্তোষ অস্বস্তির কারণ ৷ সংসদীয় দলে ক্ষোভ তৃণমূলের অস্তিত্বকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে ৷ কলকাতা এবং দিল্লির এই যৌথ অসন্তোষ তৃণমূলের চিন্তা বহুগুণ বাড়িয়েছে ৷ চাপে ফেলেছে মনস্তাত্বিক দিক থেকেও ৷

অভিষেক অ্যাখ্যান
তৃণমূলের অসন্তোষের অন্যতম বড় দিক একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আবর্তীত হচ্ছে ৷ আর তা হল গত কয়েক বছরের মধ্যে অভিষের বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া নেতৃত্বের মডেল ৷ সে সমস্ত অভিযোগ এখন খুবই চেনা-জানা ৷ পরামর্শদাতা সংস্থার উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, ক্ষমতার একছত্র কেন্দ্রীকরণ, দলের ভিতরে বিতর্কের অবকাশ কমে যাওয়া এবং নীচুতলার কর্মীদের সঙ্গে নীতি নির্ধারকদের দূরত্ব- এই ধরনের নানা অভিযোগ এখন একত্রিত হয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে ৷ অভিযোগ সত্য় না মিথ্য়া সেটা আর বিবেচ্য নয় ৷ যা বিবেচ্য তা হল সকলে এখন প্রকাশ্যেই এই ধরনের কথা বলছেন ৷
তৃণমূল যখন একের পর এক নির্বাচনে জিতত তখনও এই সমস্ত অভিযোগ ছিল ৷ জয় অভিযোগকে প্রকাশ্য়ে আসতে বাধা দিয়েছিল ৷ পরাজয়ের অভিঘাত সেই কাজটাই করে দিয়েছে ৷ রাজনৈতিক সঙ্কট এভাবেই দিনের আলো দেখে ৷ সাফল্য চ্যুতিরেখাকে ঢেকে রাখে ৷ ব্যর্থতা সেসবকে প্রকাশ্যে এনে দেয় ৷
মমতা এবং নীরবতা
এই পরিস্থিতিতে মমতার ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ৷ তাঁর গোটা রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে সঙ্কট এসেছে ৷ প্রতিবার তিনি নিজেই তাঁর পরিত্রাতার ভূমিকা নিয়েছেন ৷ ক্ষমতার অলিন্দে থেকে তিনি নিজের সুনাম অর্জন করেছেন তা নয় ৷ তার সুনামের নেপথ্যে আছে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিরোধ ৷ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ, লাগাতার প্রচার এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা তাঁর অস্তিত্বের অংশ হয়ে উঠেছিল ৷ তাঁকে এভাবেই দেখতে প্রস্তুত সমর্থকরা ৷ তাঁরা সেই মমতাকেই চেনেন যাঁর কাছে রাস্তাই রাস্তা ৷ তাই নির্বাচনের পর থেকে মমতার নীরব অবস্থান তাঁর সমর্থকদের কাছে শুধু অচেনাই নয় উদ্বেগেরও কারণ বটে ৷

তাঁর নীরবতার নেপথ্য়ে কৌশল থাকতেই পারে ৷ তিনি হয়তো সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করছেন ৷ তাঁর হয়তো মনে হচ্ছে সংগঠনকে চাঙ্গা করার আগে স্থিতিশীল করা দরকার ৷ কিন্তু রাজনীতি তো রঙ্গমঞ্চও বটে ৷ সঙ্কট বা অনিশ্চয়তার সময় দল তার নেতার মুখের দিকেই তাকিয়ে থাকে ৷ ঘুরে দাঁড়ানোর আশ্বাস চায় ৷ সঠিক দিশায় ধাবিত হওয়ার মাগদর্শন চায় ৷ যাঁরা এখনও তৃণমূলে রয়ে গিয়েছেন তাঁরা সেই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করছেন যেখানে দলনেত্রী তাঁদের সঠিক পথে নিয়ে যাবেন ৷
সম্প্রতি দিল্লিতে বিরোধী জোটের বৈঠকে মমতা হাজির ছিলেন ৷ কিন্তু তাতে যে খুব একটা কাজের কাজ হয়েছে তা ভাবার কোনও কারণ নেই ৷ কারণ তিনি যখন দিল্লিতে ঠিক তখনই সুকৌশলে বিজেপি তৃণমূলের পরিষদীয় দলে ভাঙন ধরাতে পেরেছে ৷ লোকসভা তাঁর পক্ষে আছেন মাত্র 8 জন সাংসদ ৷ আর ঋতব্রতর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা তৃণমূলের পরিষদীয় দল আদতে কী করবে তা একেবারেই মমতার নিয়ন্ত্রণে নেই ৷
অস্তিত্বের সঙ্কট
তৃণমূলের সঙ্কটের কারণ শুধু একটা নির্বাচনে পরাজয় নয় ৷ বরং ক্ষমতা-ছাড়়া দলটির অস্তিত্ব থাকে কি না সেটাই এখন বড় প্রশ্ন ৷ গত 15 বছর ধরে তৃণমূল বাংলার ক্ষমতার ভরকেন্দ্র হিসেবে থেকেছে ৷ ক্ষমতায় থাকার সময় অনান্য দল থেকে অনেক নেতা তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন ৷ অনেক কর্মী এমন তৃণমূলকেই চেনেন যা এতদিন ক্ষমতায় ছিল ৷ তবে বিরোধী রাজনৈতিক দল করা অন্য় বিষয় ৷ তার জন্য আলাদা মানসিকতার প্রয়োজন ৷ প্রয়োজন শৃঙ্খলার এবং অনিশ্চয়তাকে কাটিয়ে ওঠার দক্ষতার ৷
বামেরা 2011 সালের পর এই দক্ষতা রপ্ত করেছে ৷ তাদের কাছে নির্বাচনী সাফল্য ছিল না ৷ কিন্তু অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার মতো যথেষ্ট সংগঠন ছিল ৷ তৃণমূল সবে এই যাত্রা শুরু করেছে ৷ তারা বামেদের মতো সাফল্য পাবে কি না সেটা নিয়ে এখনও সংশয়ের অবকাশ আছে ৷
মমতা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রথম থেকেই সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করে এসেছেন ৷ তাঁর রাজনৈতিক জীবন শেষ করে দেওয়ার সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে অতীতে ৷ আর তাই এখনই বলে দেওয়া যাবে না যে তৃণমূল অবলুপ্ত হতে চলেছে ৷ একইভাবে এখনকার পরিস্থিতি তৃণমূলের জন্য কতটা সঙ্কটদীর্ণ সেটা অস্বীকার করাও সমপরিমাণ ভুল হবে ৷ কারণ, বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর ঘুরে দাঁড়ানো যায় ৷ দলের ভিতরে থাকা অসন্তোষও কাটিয়ে ওঠা যায় ৷

তবে এটাও ঠিক, সংগঠনের ফাঁকফোকরও সামাল দেওয়া যায় ৷ কিন্তু যখন একসঙ্গে দলের সংগঠন, পরিষদীয় দল এবং সংসদীয় দলে অবিশ্বাস আর সন্দেহ দানা বাঁধে, ফাটল তৈরি হয় সেটা অনেক বড় সঙ্কটের কারণ হয়ে ওঠে ৷ আর তা সামলানোও কঠিন ৷
আগামী নির্বাচনে তৃণমূল জিতবে কি না সেটা এখন বিবেচ্য নয় ৷ তারা নিজেদের ঐক্যবদ্ধ রেখে এবং পর্যাপ্ত বিশ্বাস অর্জন করে বাংলার অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে থাকবে কি না সেটাই এখন বড় প্রশ্ন ৷ আর ঠিক এই কারণেই তৃণমূলের সঙ্কট খুব গভীর ৷ মমতা এখন শুধু কোনও বিরোধী নেত্রী নন, তিনি এমন এক লড়াইয়ে ব্রতী যেখানে তাঁর নিজের হাতে তৈরি রাজনৈতিক দল নিজের আগামীতে বিশ্বাস করে কি না সেটাই অজানা ৷

