ETV Bharat / opinion

আর্থিক-সামাজিক উন্নয়নের সূচক হোক মানুষের ভালো থাকা, জিডিপি-মুক্ত পৃথিবী নির্মাণের উদ্যোগ

জিডিপি বাজারের উৎপাদনকে পরিমাপের একক ঠিকই কিন্তু এর সাহায্যে সমাজের ভালো থাকা কখনও বর্ণিত হতে পারে না ৷ এই ভাবনাকে সামনে রেখেই চলছে গবেষণা ৷

GDP
জিডিপি-মুক্ত পৃথিবী নির্মাণের উদ্যোগ (আরকেসি)
author img

By C P Rajendran

Published : June 16, 2026 at 5:47 PM IST

10 Min Read
Choose ETV Bharat

জিডিপি সংক্রান্ত ব্যাপারে সম্প্রতি একটি রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে ৷ রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতরেসের নিয়োগ করা এই উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ কমিটির তৈরি করা রিপোর্টের শীর্ষক 'বিয়ন্ড জিডিপি'৷ তাতে 31টি বিষয়ের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে ৷ জিডিপির সীমার বাইরে গিয়ে এবং চিরাচরিত রীতনীতির উর্ধে উঠে কীভাবে উন্নয়ন করা যেতে পারে সে কথাই স্থান পেয়েছে প্রতিবেদনে ৷

2024 সালের একটি চুক্তির সাহায্যে এই রিপোর্ট তৈরির কাজ শুরু হয় ৷ সাধারণ মানুষের ভালো থাকা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সামগ্রিকভাবে বিশ্বকে আর্থিকভাবে স্থিতিশীল করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই রিপোর্ট তৈরি হয়েছে ৷ যে সমস্ত বিষয়কে ব্যবহার করে ফল পাওয়া যেতে পারে সেগুলিকে গুরুত্ব দিয়েই তৈরি হয়েছে রিপোর্ট ৷ রিপোর্ট তৈরি করা কমিটির মাথায় যুগ্মভাবে আছেন কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌশিক বসু এবং তুলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নোরা লাস্টিং ৷ মে মাসের 7 তারিখ প্রকাশিত এই রিপোর্টে উন্নয়নের জন্য গত কয়েক দশক ধরে যে সমস্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা স্থান পেয়েছে ৷

GDP
রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতরেস (আরকেসি)

চিরাচরিতভাবে আর্থিক প্রগতিকে মাপা হয়েছে জিডিপি দিয়ে ৷ ব্যবসার লাভ-ক্ষতি, চাকরির ক্ষতিয়ান থেকে শুরু করে উদ্ভাবন সম্পর্কে তথ্য় দিয়ে থাকে জিডিপি ৷ কিন্তু পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে কি না বা সমাজে বৈষম্য বাড়ছে কি না সেটা এই একক থেকে বোঝা যায় না ৷ সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়নের অভাবে বিশ্বের মাত্র পাঁচ ভাগের এক ভাগ মানুষর ভালো হয়েছে ৷ বাকি অধিকাংশকে পরিবেশের ক্ষতি থেকে শুরু করে বৈষম্য নিয়ে বাঁচতে হচ্ছে ৷ অর্থনীতির কোনও কোনও শাখা মনে করে সমাজ প্রথমে আর্থিক প্রগতির পথে হাঁটতে পারে ৷ পরে এই কারণে পরিবেশের যা যা ক্ষতি হয়েছে সেটা মেরামত করতে পারে ৷ কিন্তু বাস্তব এই তথ্যের থেকে অনেকটাই আলাদা ৷

এই ভাবনার ঠিক উল্টো পথে হেঁটে আদতে উন্নয়ন বলতে বোঝায় এক অন্তর্ভুক্ত সমাজ ৷ সেখানে মানুষের হাতে ক্ষমতা থাকবে ৷ সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে সেই সামাজিক ব্যবস্থায় স্বাধীনতা এবং সকলের ভালো থাকা সুনিশ্চিত হবে ৷ পরিবেশবিদ তথা অর্থনীতিবিদ টিম জ্যাকসন এক সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কথা বলেছেন ৷ তাঁর কাছে আর্থিক প্রগতির সূচক জিডিপি নয় ৷ কারণ গঠনের দিক থেকে জিডিপি সম্পূর্ণরূপে উপভোক্তাবাদের দিকে ঝুঁকে ৷ এর বদলে তিনি ম্যাক্রোনমিক মডেল বা সামষ্টিক অর্থনীতির মডেল নির্মাণের কথা বলেন ৷ সেখানে অর্থনীতি, ব্যবসা, সামজ এবং পরিবেশগত নানা বিষয় যুক্ত হয় ৷ তবে এখন নয়, গত কয়েক দশক ধরেই আর্থিক উন্নতির সূচক হিসেবে জিডিপির বিকল্প খোঁজার কাজ শুরু হয়েছে ৷

বিকল্প আর্থিক মডেলের মাইলফলক

আর্থিক উন্নয়নের চালু মডেল নিয়ে আধুনিক সময়ের সবার প্রথম আপত্তির কথা শোনা যায় 1972 সালে ৷ সে বছর বিশিষ্ট বিজ্ঞান-চিন্তক ডানেলা মেডসের নেতৃত্বে থাকা বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানী একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেন ৷ সেখানে আর্থিক মডেলের পাশাপাশি জীবপদার্থবিজ্ঞানের উপর তার প্রভাব নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন তোলা হয় ৷ তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন ওঠে শিল্প-সমাজের ভিত্তি নিয় ৷ পৃথিবীর জীবপদার্থ বিজ্ঞানের দিক থেকে বিবেচনা করেই এই সমস্ত প্রশ্নের ভিত্তি নির্মিত হয় ৷ সেখানে পৃথিবীর বুকে ঘটে চলা জনসংখ্যার বিস্ফোরণকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয় ৷ 2009 সালে আর্থ সিস্টেম বা বিশ্বের বায়ুমণ্ডল, জলবায়ু এবং জীবজগৎ নিয়ে যাঁরা গবেষণা করেন তাঁরা একটি নির্দিষ্ট ফ্রেমওর্য়াক তৈরি করেন ৷ মানব সমাজের কোন কোন কাজ প্রকৃতির ভারসাম্যকে নষ্ট করবে না বা বলা ভালো প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে কীভাবে মানুষ উন্নয়নের কাজ করতে পারে সে কথা বলেছিলেন বিজ্ঞানীরা ৷ কিন্তু প্রকৃতিকে ধ্বংস করে আর্থিক প্রগতির চরমে পৌঁছনোর অভিপ্রায় মাঝেমধ্যেই বিজ্ঞানীদের ঠিক করে দেওয়া লক্ষণরেখাকে অতিক্রম করছে ৷ তার ফলে জীবপদার্থ বিজ্ঞানে বর্ণিত ক্ষতির বেশিটাই সইতে হচ্ছে ৷ পরিশুদ্ধ জলের অভাব দেখা যাচ্ছে ৷

GDP
গত কয়েক দশক ধরেই আর্থিক উন্নতির সূচক হিসেবে জিডিপির বিকল্প খোঁজার কাজ শুরু হয়েছে (আরকেসি)

এরপর বলতেই হয় ব্র্যান্টল্যান্ড কমিশনের কথা ৷ রাষ্ট্রসঙ্ঘের তৈরি এই কমিশনের আনুষ্ঠিক নাম ছিল ওর্য়াল্ড কমিশন অন এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট ৷ 1983 সালে নরওয়ের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী গ্রো হারলেম ব্র্যান্টল্যান্ড ছিলেন কমিশনের মাথায় ৷ 1987 সালে অবলুপ্ত হওয়ার আগে এই কমিশনের তরফে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল ৷ নাম ছিল, 'আমাদের সম্মিলিত আগামী' ৷ সেখানে স্থিতিস্থাপক উন্নয়ন (sustainable development)-এর ব্যাখ্যা করা হয় ৷ কমিশন মনে করেছিল স্থিতিশীলতাকে বজায় রেখে উন্নয়ন করা মানে শুধু বর্তমানের প্রয়োজন মিটিয়ে ফেলা নয়, আগামী প্রজন্মও যাতে নিজেদের চাহিদা পূরণের মতো পরিস্থিতি পায় সেটা সুনিশ্চিত করা ৷ 2009 সালে দুনিয়ার আর্থিক অগ্রগতি ও সামাজিক উন্নয়ন সংক্রান্ত নানা বিষয় খতিয়ে দেখতে আরও একটি কমিশন গঠিত হয় ৷ জোসেফ সিটগ্লিৎজ, অমর্ত্য সেন এবং জেনপল ফিতৌসির মতো অর্থনীতিবিদরা ছিলেন সেই কমিশনের অংশ ৷ চেয়ারম্যান ছিসেন জোসেফ ৷ এই কমিশনও সামাজিক উন্নয়নের প্রশ্নে জিডিপির ভূমিকাকে খতিয়ে দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল ৷ সামাজিক ন্যায়-সাম্য এবং স্থিতিস্থাপকতার পক্ষে সওয়াল করেছিল ৷

2023 সালের মে মাসে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন পার্লামেন্ট জিডিপিকে বাদ রেখে উন্নয়নের মাপজোক করা সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় বেশ খানিকটা অগ্রসর হয় ৷ সম্মেলন শুরু হয়েছিল ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েনের বক্তব্য দিয়ে ৷ শেষ হয় এক 'আন্দোলনের আন্দোলন'গড়ে তোলার ডাককে সামনে রেখে ৷ বক্তব্য একটাই এমন এক ব্যবস্থা নির্মাণ করা যেখানে স্থিতাবস্থা বজায় রেখে হওয়া উন্নয়ন সামাজিক ন্যায় এবং সামাজিক পর্যাপ্ততাকে গুরুত্ব হবে ৷ সম্মেলনের আলোচনার মূল সুরই ছিল জিডিপি বাজারের উৎপাদনকে পরিমাপের একক ঠিকই কিন্তু এর সাহায্যে সমাজের ভালো থাকা কখনও বর্ণিত হতে পারে না ৷ এমন আলোচনাও হয়েছিল জিডিপির ভিত্তি এক মিথ্যা প্রতিশ্রুতি যেখানে আর্থিক উন্নতি আর মানুষের ভালো থাকাকে এক সূত্রে বাঁধা হয় ৷ রাষ্ট্রসঙ্ঘের মনোনিত একটি সংস্থা 2024 সালে এ সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেয় ৷ সঙ্ঘের মানবাধিকার কাউন্সিলকে দেওয়া সেই রিপোর্টে তুলে ধরা হয় চিরাচরিত জিডিপি বৈষম্য়ের কারণ, প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষয়েরও কারণ বটে ৷ আরও বলা হয় জিডিপির হাত ধরে দারিদ্র্যর হাত থেকেও রক্ষা পাওয়া যায় না ৷ রিপোর্টের একটি অংশে তুলে ধরা হয়, " গত চার বছরে দুনিয়ার সবচেয়ে বিত্তবান পাঁচজন মানুষ নিজেদের সম্পদ দ্বিগুণ করতে পেরেছেন ৷ আর 5 বিলিয়ন মানুষ আরও বেশি গরিব হয়েছে ৷"

2026 সালের মে মাসের রিপোর্ট

এখন সবচেয়ে বড প্রশ্ন হল জিডিপির বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে উঠবে কীভাবে এবং কোন পথে ? কারণ, এখানে প্রয়োজন এমন এক ব্যবস্থা তৈরি করা যা পৃথিবীর তথা পরিবেশগত ব্যবস্থাকে সম্মান করবে এবং উন্নয়নকে দেখবে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ৷ তাত্বিক দিক থেকে কীভাবে এই রূপান্তর সম্ভব হতে পারে তা এখনও নির্দিষ্ট হয়নি ৷ 2025 সালের মে মাসে এই গ্রুপটি তৈরি হয় ৷ এখন প্রকাশিত হয়েছে তাদের তৈরির রিপোর্ট-কাউন্টিং হোয়াট কাউন্টস- অ্য়া কম্পাস অফ প্রোগ্রেস ফর পিপিল অ্যান্ড প্ল্যানেট ৷ এই প্রতিবেদনে জিডিপির বাইরে বেরিয়ে সামাজিক অগ্রগতি পরিমাপের জন্য কয়েকটি মানদণ্ড ঠিক করার প্রস্তাব করা হয়েছে ৷ এর পাশাপাশি আলোচিত বিষয়কে প্রয়োগ করতে বাস্তবসম্মত কর্মপদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে ৷ রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে একটি ধারণা ভিত্তিক কাঠামো ৷ আরও আছে উন্নয়নের সূচকমূহ সম্মিলিত ড্যাশবোর্ড ৷ আগামিদিনে যে সমস্ত সূচক প্রধান ভূমিকা নিতে পারে সেটা নির্ধারণের সম্ভাব্য উপায়ের সন্ধানও দেওয়া হয়েছে ৷ তাছাড়া পরিসংখ্যানের দিক থেকে উন্নয়নের কথা বলা আছে ৷ গবেষণা ও জাতীয় পর্যায়ে প্রয়োগের রূপরেখার খোঁজও দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে ৷ সবমিলিয়ে 31টি নয়া সূচকের কথাও বলা হয়েছে ৷ সেগুলি ব্যবহার করে জিডিপির নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়া সম্ভব বলেই মনে করেন রিপোর্ট তৈরির নেপথ্যে থাকা গবেষকরা ৷

GDP
বসার লাভ-ক্ষতি, চাকরির ক্ষতিয়ান থেকে শুরু করে উদ্ভাবন সম্পর্কে তথ্য় দিয়ে থাকে জিডিপি (আরকেসি)

প্রস্তাবিত সূচকগুলি বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত। অর্থনৈতিক পরিমাপকগুলোর মধ্যে রয়েছে মাথাপিছু পারিবারিক ব্যয়যোগ্য আয়ের বিষয়টি। পরিবেশগত তথ্যের আওতায় রয়েছে কোনও একটি দেশের গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন এবং বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্ম কণার মাত্রা নির্ণয় করার বিষয়টি। আছে স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার সঙ্গে জড়িত সূচকও ৷ মানুষের গড় আয়ু থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের পঠনপাঠন ও গণিতে শিশুদের দক্ষতার মতো বিষয়ের উল্লেখ আছে ৷ জীবনযাত্রার মানের পাশাপাশি সুস্থতা-সংক্রান্ত পরিমাপকও যুক্ত হয়েছে রিপোর্টে ৷ শারীরিক ও যৌন হিংসার শিকার নারী ও শিশুকন্যাদের অনুপাতও চর্চার বিষয়।

প্রস্তাবিত নয়া ব্যবস্থায় মানবাধিকারের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ৷ প্রতিটি সরকার এবং কোটিপতিরা যে কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত তা যদি সমাজের পক্ষে ক্ষতিকারক হয়ে থাকে তাহলে তার দায়ও নিতে হবে তাদেরই ৷ যে 31টি পরিমাপকের কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে 15টি ইতিমধ্য়েই রাষ্ট্রসঙ্ঘ নির্ধারিত স্থিতিস্থাপক উন্নয়ন (UN's Sustainable Development Goals)-এর অংশ ৷

প্রস্তাবের প্রয়োগ যে সহজ নয় সেটাও উল্লেখ করা হয়েছে ৷ প্রথমেই বলা আছে এতদিন ধরে যেভাবে জিডিপির দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্ত ব্যবস্থা বর্ণিত হয়েছে সেটার বিকল্প সন্ধান খুব একটা সহজ বিষয় নয় ৷ এতদিনের ব্যবস্থাকে জবাবদিহি নির্ভর ব্যবস্থায় পরিণত করতে দীর্ঘমেযাদি রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিরাট প্রয়োজন ৷ জিডিপিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার বৃত্ত এবং তার অভিঘাত বিরাট ৷ আন্তর্জাতিক স্তরে ঋণ পাওয়ার মাপকাঠিও বটে ৷ সমাজ পরিচালনের সুগভীরে নিহিত ব্যবস্থাকে বদলে ফেলার মতো বড় কাজ এখন বিভিন্ন সরকারের সামনে এসে গিয়েছে ৷ আগের ব্যবস্থার বদল করে উন্নয়নের সূচক হিসেবে মানুষের ভালো থাকা, সাম্য, অন্তর্ভুক্তিকে প্রাধান্য দিতে গেলে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন প্রয়োজন ৷ প্রয়োজন বিশেষজ্ঞদের ৷ আরও প্রয়োজন প্রতিনিয়ত তথ্য় সংগ্রহ করতে সক্ষম এমন ব্যবস্থার ৷

GDP
চিরাচরিতভাবে আর্থিক প্রগতিকে মাপা হয়েছে জিডিপি দিয়ে (আরকেসি)

স্পেন এবং গায়ানার মতো দেশ রিপোর্টে উল্লিখিত সুপারিশ লাগু করার বিষয়টি দেখবে ৷ শুধু প্রস্তাব নিয়ে চর্চা করলেই হবে না ৷ সূচকগুলির পরিবর্তনও সেভাবেই হওয়া আবশ্যক যা দেশগুলির পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব ৷ ভারত এলবং ইউরোপের কয়েকটি দেশ রাষ্ট্রসঙ্ঘকে জিডিপির বাইরে গিয়ে উন্নয়নের রূপরেখা স্থির করতে অনুরোধ করেছিল ৷ তবে সামগ্রিকতার বিচারে এই দেশগুলির সংখ্য়া বেশ কম ৷ এখানেই প্রশ্ন ভারত কি কথা মতো কাজ করবে ? এবং জিডিপির বদলে মানবতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এমন বিষয়গুলিকে উন্নয়নের সূচক হিসেবে তুলে ধরার ব্যাপারে দুনিয়াকে নেতৃত্ব দেবে ?

এখানে একটি মৌলিক চাহিদাও সম্পূক্ত ৷ তা হল তথ্য নির্ভর ব্যবস্থা তৈরি করে সামাজিক প্রগতি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার মতো বন্দোবস্ত গড়ে তোলা ৷ একটি উদাহরণের সাহায্যে পরিস্থিতিটি ব্যাখ্যা করা যায় ৷ ভারত বিশ্বমঞ্চে জলবায় সংরক্ষণের ব্যাপারে এমন লক্ষ্য নেয় যা আপতভাবে অসম্ভব ৷ কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা যায় সেগুলিকে বাস্তবে প্রয়োগ করা যাচ্ছে ৷ এই জিডিপি সংক্রান্ত ব্যাপারেও ভারতক এই একই ভূমিকা নিতে হবে ৷