ETV Bharat / opinion

কল্যাণমুখী বাস্তবতা নাকি আমূল সংস্কার- ভোট-বাংলায় তরজা দুই ইস্তাহারের

দুয়ারে বাংলার ভোট ৷ ইস্তাহার প্রকাশ করে শাসক-বিরোধী সবাই কাছে টানার চেষ্টা করছে ভোটারদের ৷ প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তবতা নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণে ইটিভি ভারত ৷

west bengal assembly election 2026
ভোটের প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তবতা নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণে ইটিভি ভারত (ছবি: পিটিআই)
author img

By Dipankar Bose

Published : April 17, 2026 at 2:18 PM IST

9 Min Read
Choose ETV Bharat

বাংলার নির্বাচনের ফলাফল কখনও শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্ধারিত হয়নি ৷ আগের দেওয়া প্রতিশ্রুতি, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলটির সামগ্রিক কর্মকাণ্ড, তাদের বিরুদ্ধে থাকা ক্ষোভ এবং আগামিদিনে আশা পূরণের 'আশা'র মতো অনেক বিষয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ৷ কখনও প্রতিটি উপাদান আলাদা আলাদা কাজ করে ৷ কখনও আবার পড়ে একত্রিত প্রভাব ৷ 2026 সালের বিধানসভা নির্বাচনেও সেই একই প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে ৷ তবে এবার স্বচ্ছতা অনেক বেশি ৷

তৃণমূল ও বিজেপি একই ধরনের ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছে ৷ দুটি দলের নির্বাচনী ইস্তাহারের পাতা ওল্টালে মনে হতে বাধ্য এখানে শুধু প্রতিশ্রুতি পূরণের প্রতিজ্ঞাই নেই, সেটার দিকনির্দেশও বর্তমান ৷ মানবকল্যাণ, সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেওয়া, চাকরির ব্যবস্থা করা বা নিরাপত্তা জোরালো ব্যবস্থা করা-আর যাই হোক শুধু নীতিগত প্রতিজ্ঞা নয় ৷ এটা আসলে রাজনৈতিক বার্তাও যা এবারের নির্বাচনের লড়াইয়ের অভিঘাতটা বুঝিয়ে দেয় ৷

west bengal assembly election 2026
কলকাতার রাস্তায় মিছিল করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ছবি: পিটিআই)

দুটি পৃথক আর্থিক দৃষ্টিভঙ্গি

তৃণমূলের প্রতিশ্রুতির মূলে আছে উন্নয়নকে পাথেয় করে তৈরি আর্থিক বৃদ্ধির মডেল ৷ ইস্তাহারে এ কথাই বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছে বাংলার শাসক শিবির ৷ তারা চায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে রাজ্যের অর্থনীতিকে 40 লাখ কোটি টাকায় নিয়ে যেতে ৷ তার মধ্যে বৃহত্তর জনগোষ্ঠির জন্য প্রচুর অর্থ বরাদ্দ, নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার ভর্তুকি, রাজ্য সরকারি অর্থে পরিকাঠামো তৈরির অভিপ্রায় সুনিহিত ৷ আরও বেশি পরিমাণে এমএসএমই ক্লাস্টার তৈরি থেকে শুরু করে রফতানি হাব তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ৷ তাছাড়া আছে সরকারের ভূমিকাকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্থানীয় এলাকা ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তৈরির স্বপ্ন ৷

বিজেপি আবার আমূল সংস্কারের কথা বলছে ৷ তাদের আগ্রহ ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করায় ৷ তারা যে সিন্ডিকেট রাজের দাপটের কথা বলছে সেটাকে শেষ করে দেওয়া ৷ বিজেপি মনে করে এভাবে বাংলাকে বিশ্বের সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থার অংশ করা সম্ভব ৷ চটকদার উন্নয়নের পথে না হেঁটে বিনিয়োগের বাতাবরণ তৈরি করতে চায় গেরুয়া শিবির ৷ যেখানে সরকারি নিয়ন্ত্রণ হবে সুদৃঢ় এবং জাতীয়-আন্তর্জাতিক অথনৈতিক বিকাশের সঙ্গে সম্পৃক্ত ৷

WEST BENGAL ASSEMBLY ELECTION 2026
বাংলায় ভোট প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (ছবি: পিটিআই)

নারী কেন্দ্রিক নগদ-অর্থনীতি

এবারের নির্বাচনের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন মেয়েরা ৷ তাঁদের সঙ্গে এক দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়তে করতে সক্ষম হয়েছে তৃণমূল ৷ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রভাবের কথা আলাদা করে বলার দরকার নেই ৷ এখন সাধারণ পরিবারের মহিলারা মাসে দেড় হাজার টাকা করে পান ৷ তফশিলি জাতি ও উপজাতি পরিবারের সদস্যরা পান 1700 টাকা করে ৷ এই টাকা এখন আর বিপদের সময় সম্বল নয়, পরিবারের মোট রোজগারের একটা অংশ ৷ আর এই টাকা কোথায় কোথায় খরচ হবে সেটা ঠিক করেন মহিলারাই ৷

বিজেপি ভোটারদের মন পাওয়ার এই মডেলের বিরোধিতা তো করেইনি বরং পরিধি বাড়িয়েছে আরও ৷ তারা বলছে, ক্ষমতায় এলেই তিন হাজার টাকা করে পাবেন মহিলারা ৷ বাসে যাতায়াত করতে কোনও খরচ হবে না ৷ মাতৃত্বকালীন বরাদ্দ হিসেবে মিলবে 21 হাজার টাকা ৷ মহিলাদের কাছে বেছে নেওয়ার বিষয়টি পুরোটাই অনুমান নির্ভর বা বায়োবিয়ো নয় ৷ তৃণমূল এতদিন যা দিয়ে এসেছে সেটাই দেবে বলছে ৷ বিজেপি বলছে আরও বেশি অর্থ বরাদ্দ করার কথা ৷ তার মানে মহিলাদের কাছে থাকা বিকল্পের মূল কথা হল- হয় এতদিন ধরে যা মিলছিল সেটাকে আঁকড়ে ধরা নয়তো আরও বেশি পরিমাণে টাকা দেওয়ার কথা যারা বলছে তাদের বিশ্বাস করা ৷

west bengal assembly election 2026
ভোটের আগেই টহল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা (ছবি: পিটিআই)

যুব সমাজ ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

মেয়েদের পরিস্থিতিতে যদি স্থায়ীত্বের ছোঁয়া থাকে তাহলে যুব সমাজের অবস্থান অস্থিরতার ভরকেন্দ্রে ৷ তাঁরা মতাদর্শ নিয়ে ভাবিত নন, ফলাফল নিয়ে আগ্রহী ৷ চাকরি আছে কি না, সরকারি পদে নিয়োগ স্বচ্ছতার সঙ্গে হচ্ছে কি না এবং অর্থনীতি গতিশীল কি না- এসবই তাঁদের ভাবনার সারাৎসার ৷

তৃণমূল সরকার যুবসাথী প্রকল্পে বেকার যুবকদের মাসে 1500 টাকা করে দেয় ৷ রাজ্য়ে কর্মসংস্থানের অভাব যে আছে সে কথাকে প্রাতিষ্ঠানিক মান্যতা দিতে এই প্রকল্পই যথেষ্ট ৷ আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে বিজেপি বলছে তিন হাজার টাকা দেওয়ার কথা ৷ চাকরির পরীক্ষায় যাঁরা বসতে চাইছেন তাঁদের 15 হাজার টাকার আর্থিক সহয়তা দেওয়ার কথাও বলছে ৷ বলছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকারি শূন্যপদ পূরণ করার কথা ৷ স্টার্টআপকে উৎসাহ দিতে 10 লক্ষের ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে গেরুয়া শিবির ৷ এত কিছুর পরও মোদ্দা কথা হল আস্থা ৷ তৃণমূল সরকারের আমলে সরকার চাকরির প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়া, নিয়োগে দেরি এবং অস্বচ্ছতা যুবকদের অন্তরে অনাস্থার জন্ম দিয়েছে ৷ প্রতিশ্রুতি যতই জবর হোক না কেন ভঙ্গুর আস্থার মুখোমুখি তাকে হতেই হবে ৷

west bengal assembly election 2026
প্রধানমন্ত্রীর জনসভা (ছবি: পিটিআই)

কৃষিপণ্য ও গ্রাম বাংলার মতিগতি

গ্রাম বাংলার রাজনীতি এখনও কৃষিনির্ভর ৷ তৃণমূল প্রতি কুইন্টাল ধানের নূন্যতম সহায়ক মূল্য 2 হাজার 500 টাকা করে দেওয়ার কথা বলেছে ৷ ধান ক্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর কথাও বলেছে ৷ আরও বলেছে, সেচের খরচে ছাড় দেওয়ার কথা ৷ এটা কৃষকদের আর্থিক-আশ্রয় দিয়ে চলার প্রতিশ্রুতি ৷ তার পাশাপাশি স্থানীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসা ৷

বিজেপি বলছে, আরও বেশি নূন্যতম সহায়ক মূল্য দেওয়ার কথা ৷ সার বিতরণে মুন্সিয়ানা দেখানোর কথা ৷ একইসঙ্গে পিএম কিশান প্রকল্প লাগু করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে গেরুয়া শিবির ৷ তাদের ভাবভঙ্গির মধ্যে খানিকটা গোছালোভাব আছে ৷ এখানে সরকারি নীতিই হয়তো সব নয়, তার চেয়েও দরকারি কৃষকদের মনের বাসনা মাথায় রেখে নীতি বাস্তবায়িত করা ৷ যেখানে অনিশ্চয়তাই দস্তুর সেখানে আশ্বাস অবশ্যই এক রাজনৈতিক পুঁজি ৷ তৃণমূল আর বিজেপি-দুপক্ষই সেটা জানে, মানে ৷

প্রতিযোগিতামূলক কল্যাণ, সুশাসনের অন্য মডেল

প্রতিদিন সাধারণ মানুষকে যে সমস্ত সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে সেগুলি থেকে তাঁদের কে বের করে আনতে পারে তা নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে এক নীরব প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে ৷ কারা বেশি আকর্ষণীয় সমাধান নিয়ে হাজির হতে পারে সেটা নিয়েই লড়াই ৷ তৃণমূল বেশি করে পেনশন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ৷ গিগ কর্মীদের আরও বেশি করে সাহায্য করার কথাও বলেছে ৷ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চা-বাগান কর্মীদের দৈনিক মজুরি বাড়ানোর ৷ আশা এবং অঙ্গনওয়াড়িদের ভাতাও বাড়াবে বলেও কথা দিয়েছে তৃণমূল ৷ এসবই তাৎক্ষণিক প্রাপ্তি ৷ একই কথা বিজেপিও দিয়েছে ৷ তবে সেখানে দ্বিগুণ আর্থিক সহয়াতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে ৷ সামাজিক সুরক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিকতা দেওয়ার কথাও বলছে ৷ এর পাশাপাশি বলেছে মহিলাদের রোজগারের জন্য 1 লক্ষ টাকার সহয়তার কথাও ৷

প্রতিদিনের সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে দু'তরফের মধ্যে থাকা পার্থক্য আরও প্রকট হয় ৷ বিজেপির সংকল্প পত্রে পিঙ্ক বুথ নির্মাণের কথা বলা আছে ৷ বলা আছে, রাতের নজরদারি বাড়ানোর কথাও ৷ ক্ষমতায় এলে পুলিশ বাহানীতেও মহিলাদের সংখ্যা বাড়িয়ে নারী নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেবে বিজেপি ৷ স্বাস্থ্যক্ষেত্রে তারা চায় রাজ্যে 'আয়ুষ্মান ভারত' প্রকল্প লাগু করতে ৷ উত্তরবঙ্গে এআইআইএমস তৈরির প্রতিশ্রুতিকেও এর সঙ্গে এক করে দেখতে হবে ৷

তৃণমূল আবার স্বাস্থ্য় ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণের কথা বলছে ৷ তার সূত্র ধরে বিভিন্ন জায়গায় স্বাস্থ্য শিবির, নায্য মূল্যের ওষুধের দোকান এবং জেলায় জেলায় মেডিক্যাল কলেজ খোলার প্রতিশ্রুতি তারা দিয়েছে ৷ শিক্ষাক্ষেত্রে এআই ল্যাব এবং দক্ষতা কেন্দ্র নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তৃণমূল ৷ বিজেপি আবার বলেছে ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি লাগু করার কথা ৷ মেধা-ভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা চালুও তাদের আরেকটি অভিপ্রায় ৷

দু'পক্ষের মধ্যে থাকা সুশাসনের এই বৈপরিত্যও চোখে পড়ার মতো ৷ তৃণমূলের আস্থা বহমানতায়, প্রশাসনের সম্প্রসারণে, ডিএ-র এরিয়ার মিটিয়ে দেওয়ায় ৷ কখনও কখনও সুশাসনকে পরিচয়ের রাজনীতির সঙ্গে একাত্ম করে দিতে চায় তৃণমূল ৷ রাজ্যের নাম বদলের উদ্যোগ নেওয়া তেমনই এক বিশেষ পদক্ষেপ ৷ এখানে বিজেপির গুরুত্ব স্বচ্ছতা রক্ষায় ৷ তারা বলেছে, তৃণমূল আমলে হওয়া দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশিত করবে ৷ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি হবে উন্নত ৷ সরকারি কর্মচারিদের জন্য লাগু হবে সপ্তম পে কমিশন ৷

আশ্বাস ও পরিবর্তনের দড়ি টানাটানি

এই দুটি ইস্তাহারকে বিপরীতমুখি ধারনার মধ্যে সংঘাত হিসেবে ভাবা বা ব্যাখ্যা করা ঠিক নয় ৷ বরং একই ধরনের বিষয়ের ভিন্ন ভিন্ন অভিমুখ বলে অনুধাবন শ্রেয় ৷ দু'পক্ষরে পাখির চোখ উন্নয়ন ৷ দু'পক্ষই জানে কর্মসংস্থানের গুরুত্ব ৷ দু'পক্ষ আরও জানে মহিলা ভোটাররা কীভাবে খেলা ঘুরিয়ে দিতে পারেন ৷ ফারাক শুধু বক্তব্য উপস্থাপনের মাত্রায় ৷ বিদ্য়মান ব্যবস্থাকে আরও বড় আকারে উপস্থাপন, তৃণমূলের লক্ষ্য ৷ বিজেপি সংস্কারের মাধ্যমে বাড়তি রোজগারের কথা বলছে ৷

প্রস্তাবিত শিল্পায়নের দিক থেকেও দু'পক্ষের ভাবনার ফারাক চোখে পড়ার মতো ৷ লজিস্টিক পার্ক, তথ্য কেন্দ্র এবং সেক্টর বাছাই করে হাব তৈরি করবে বলে কথা দিয়েছে তৃণমূল ৷ বিজেপি আবার পাট, চা এবং স্টিলের মতো দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ক্ষেত্রগুলির দিকে নজর দিয়েছে বিজেপি ৷ সংকল্প পত্রে শিল্পের জন্য নির্দিষ্ট হাব তৈরির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে গেরুয়া শিবির ৷

WEST BENGAL ASSEMBLY ELECTION 2026
বাংলায় ভোট প্রচারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (ছবি: পিটিআই)

ইস্তাহারে ঢাকা পড়ে থাকা মনোজগত

এবার বঙ্গভোটের সব থেকে বেশি চর্চার বিষয়-বাংলার ভোটারদের মনোজগত ৷ এখন বাংলায় কোনও এক পক্ষের দিকে হাওয়া নেই ৷ ভোট-আড্ডা থেকে নির্বাচনের কোনও একটি নির্দিষ্ট অভিমুখও উঠে আসছে না ৷ সমস্ত চর্চার একমাত্র কমন ফ্যাক্টর এসআইআর ৷ বলা ভালো এসআইআর ঘিরে থাকা অনিশ্চয়তার পাহাড় ৷ এসবের বাইরে গিয়ে যা আছে তা হল এক সুচিন্তিত মূল্যায়ন ৷ বাংলা উন্নয়নের আশ্বাসকে অস্বীকার করছে না ৷ প্রত্যাখ্যান করার প্রশ্নও উঠছে না ৷ তবে প্রশ্ন করছে, শুধু উন্নয়নই কি যথেষ্ট ? বাংলা পরিবর্তন-বিমুখ নয় ঠিকই তবে পরিবর্তনের সঙ্গে আসা ঝুঁকি নিয়েও ভীষণভাবে সচেতন ৷ বাংলার ভোটারদের কাছে এই মেরুকরণ সহজ সরল বিকল্প নয় ৷ আসলে এটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সেই কঠিন সময় যেখানে অন্য সবকিছুকে ছাপিয়ে যায় ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ৷

প্রতিমাসে আর্থিক অনুদান পাওয়া একজন নারী বহমানতাকে প্রাধান্য দিতে চাইবেন ৷ সরকারি চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন বুকে নিয়ে প্রথমবার ভোটের লাইনে দাঁড়ানো তরুণ-তরুণীরা হয়তো পদ্ধতিগত সংস্কারকে আঁকড়ে ধরতে চাইবেন ৷ কৃষক হয়তো কৃষিক্ষেত্রে নীতিগত বদল এবং সংস্কার নিয়ে ভাবিত না হয়ে চিন্তা করবেন নূন্যতম সহায়ক মূল্য বেড়ে যাওয়ার কথা ৷ বিভিন্ন ইস্তাহারের প্রতিস্পর্ধার উর্ধে উঠে আশ্বাস এবং আকাঙ্খার এই দ্বৈরথই যেন এবারের ভোটকে নিয়ে যাচ্ছে এক অন্য মাত্রায়, ভিন্ন উচ্চতায় ৷ কী কাজ হয়েছে এবং কী কী হতে পারে- এই দুই চিন্তার ফারাকই ঠিক করে দেবে 23 আর 29 এপ্রিল নির্বাচনে ভোটাররা কী করবেন ৷