স্নায়ুযুদ্ধ, সন্ত্রাসের আবহ আর হেভিওয়েটদের লড়াই- বঙ্গের দ্বিতীয় দফা ভোটের পরতে পরতে রোমাঞ্চ
দ্বিতীয় দফার ভোট বুধবার । এসআইআর থেকে শুরু করে আরও নানা ইস্যুকে সামনে রেখে হচ্ছে নির্বাচন । শেষ মুহূর্তের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখল ইটিভি ভারত ।

Published : April 28, 2026 at 10:52 PM IST
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের প্রথম দফায় যে পরিমাণ ভোট পড়েছে তা খুব একটা অচেনা না হলেও নাটকীয় ৷ আর এই সংখ্যা দ্বিতীয় দফার ভোটকে আরও চিত্তাকর্ষক করে তুলছে ৷
93 শতাংশের চেয়েও বেশি ভোট পড়লে তাকে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার ফলাফল ভাবা খুবই স্বাভাবিক ৷ অথবা ভোট ঘিরে কোনও এক বিশেষ পক্ষের দিকে 'হাওয়া' আছে সেটা ধরে নেওয়াও আপতদৃষ্টিতে ভুল নয় ৷ কিন্তু সাধারণভাবে যা ধরে নেওয়া সেটাকেই বাংলা মান্যতা দিয়েছে-এমনটা ভাবার তেমন কোনও কারণ নেই ৷ এখানে কত সংখ্যক ভোট পড়ল তার চেয়েও বেশি চিত্তাকর্ষক হল ভোট পড়ার কারণ ৷ আর এবার এত পরিমাণে ভোট পড়ার নেপথ্য় কাহিনী আরম্ভ হয়েছে বেশ কয়েক মাস আগে ৷
এবারের ভোটের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন ৷ এমনিতেই এই বিষয়টি খুব বেশি করে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে এমনটা নাও হতে পারে ৷ কিন্তু এবার ঘটনাচক্রে অন্য সবকিছুকে পিছনে ফেলে দিয়ে নির্বাচনের প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে ৷ শুধু তাই নয়, অন্য কয়েকটি ঘটনাও ঘটতে শুরু করেছে এই এসআইআর-কে ঘিরে ৷ তার পরিধি যে এতটা বেশি হবে সেটা আগে থেকে জানা ছিল না ৷ রাজ্যজুড়ে মোট 91 লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে ৷ আরও বেশ কয়েক লক্ষ নাম এখনও বিচারাধীন ৷ এমনিতে এসআইআরের লক্ষ্য ভোটার তালিকায় থাকা অস্বচ্ছতা এবং অসঙ্গতি দূর করে ত্রুটি মুক্ত করা ৷ নির্দিষ্ট পদ্ধতি অবলম্বন করে শুধুমাত্র যোগ্য ভোটারদের রেখে তালিকা তৈরি করাই এসআইআর ৷ উদ্দেশ্য যাই থাকুক না কেন শেষমেশ ভোটারদের যে অভিজ্ঞতা হল তা বেনজির,অপ্রত্যাশিত ৷

রাজ্যের সীমান্তের কাছাকাছি থাকা উত্তর ও পূর্ব দিকের জেলা থেকে শুরু করে জঙ্গলমহল সবর্ত্র এসআইআর ঘিরে এমনিতে নীরব আদতে প্রবল অস্বস্তির আবহাওয়া তৈরি হয়েছে ৷ এসআইআর প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে কী কী সমস্যায় পড়তে হয়েছে তা নিয়ে আলোচনার অন্ত নেই ৷ কিছু কিছু ঘটনা, অনেকটাই রটনা ৷ তবে এসবই যে অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে তাতে সংশয়ের অবকাশ নেই ৷ দশকের পর দশক যাঁরা ভোট দিয়েছেন তাঁদের অনেকের নাম হয় বাদ পড়ল নয়তো এল বিচারাধীনের তালিকায় ৷
এমনই আবহে শুরু হয়েছিল নির্বাচনী প্রচার ৷ মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের নেতৃত্বে থাকা তৃণমূল ভোটারদের কাছে খুব সহজেই একটি বার্তা পৌঁছে দিতে পেরেছিল ৷ তা হল এসআইআর কোনও পদ্ধতিগত সংশোধন নয় ৷ বরং এটি মানুষের অধিকারের সঙ্গে যুক্ত ৷ প্রতিটি নির্বাচনী জনসভায় এই একই কথা বলেছেন তৃণমূলের নেতা-নেত্রীরা ৷ তাঁরা আরও যোগ করেছেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া কোনও বিচ্ছিন্ন বিষয় নয় মোটেই ৷ এটার নেপথ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের অন্য উদ্দেশ্য আছে ৷ এই প্রবণতা এখনই বন্ধ না করা গেলে আগামিদিনে নাগরিকত্ব প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে ৷ স্বভাবতই বিরোধিতায় সরব বাংলার প্রধান বিরোধী দল বিজেপি ৷ তারা বারবার বোঝানোর প্রয়াস করেছে এসআইআর হওয়া প্রয়োজন ছিল ৷ ভোটা প্রক্রিয়াকে ত্রুটি মুক্ত করতে এই সংশোধন সবিশেষ প্রয়োজন ৷ তবে বাস্তবে এসআইআর ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার থেকে এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আবেগ জনমানসে ব্যাখ্যা তৈরির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিয়েছে ৷

এসআইআরে নাম থাকবে না বাদ যাবে - এই বক্তব্যকে সামনে রেখে বেশ কয়েকটি সপ্তাহ অতিবাহিত হয়েছে ৷ সেটা আমাদের দীর্ঘদিনের চেনা সংঘাতের থেকে আলাদা, নীরব-উদ্বেগ বললে একেবারেই ভুল বলা হয় না ৷ জনমানসের চর্চার এতটা জু়ড়ে এসআইআর ছিল ষার পরিমাণ পরিমাপ করা খুবই কঠিন ৷ ভোটরার বারবার দেখে নিচ্ছিলেন তালিকায় তাঁদের নাম আছে কি নেই ৷ দীর্ঘদিন ধরে যে সমস্ত সরকারি নথি নিয়ে বড় একটা চর্চা হয়নি, সেসবই চলে এসেছে আলোচনায় ৷ চায়ের দোকান থেকে গ্রাম বাংলার আড্ডা- সবর্ত্র আলোচনায় বারবার উঠে আসে একটি প্রশ্ন- নাম বাদ গেলে কী হবে ? এই ভয়ের যে সর্বদা রাজনৈতিক ভাষ্য আছে তা নয় তবে অস্বীকার করাও অসম্ভব ৷
প্রথম দফার ভোটে বোঝা গেল এই উদ্বেগ পরিণত হয়েছে প্রতিনিধিত্বে ৷ দার্জিলিঙের পাহাড় থেকে দক্ষিণবঙ্গের জঙ্গল সব জায়গায় প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়েছে ৷ সকাল থেকেই ভোট কেন্দ্রের বাইরে ভিড় জমতে শুরু করে ৷ এই ভিড় শুধুই উৎসাহের অভিমুখ হয়ে উঠেছিল সেটা মনে করার কারণ নেই ৷ হয়েছিল আস্থার প্রতীক ৷ ভোটররা শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেননি ৷ তাঁরা বুঝেশুনেই ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন ৷ তাঁরা বুঝে গিয়েছেন এবার ভোট দেওয়া শুধু নাগরিক দায়িত্ব নয় ৷ বরং এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে ভোট দেওয়া ছাড়া উপায় নেই ৷
93 শতাংশ ভোট পড়লে অতীতের সঙ্গে তুলনা এসে পড়া মোটেই অস্বাভাবিক কোনও বিষয় নয় ৷ 2021 সালের নির্বাচন বাংলার সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় মেরুকৃত ভোট ৷ সেবারও প্রচুর ভোট পড়েছিল ৷ এবার তার চেয়ে 9 শতাংশ বেশি ভোট পড়েছে ৷ 2024 সালের লোকসভা নির্বাচনেও বুথের বাইরে ভিড় ছিল তবে সেই তথ্য় থেকেও এবারের সংখ্যা ফারাকটা বোঝা যায় ৷ এবারের অংশগ্রহণ বলেই দিয়েছে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যা আগে কখনও ছিল না ৷
সেটা আবেগের তাড়ানা হতে পারে ৷ তবে অন্যবার যখন বেশি ভোট পড়ে তখন যে উৎসবের কথা বলা হয়ে থাকে সেটা এখানে খাটে না ৷ কোনও কিছু পাওয়ার জন্য অথবা উৎসাহে ভর করে এবারে নির্বাচন আয়োজিত হচ্ছে সেটা ভাবার কোনও কারণ নেই ৷ বড় ক্ষতির আশঙ্কা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ভোট দেওয়ার হিড়িক বেড়েছে ভাবলে ভুল হয় না ৷ জেলার পর জেলার ভোটাররা ইভিএমকে দেখেছেন রক্ষাকবচ হিসেবে ৷ বুঝেছেন এবার ভোট দিলে তাঁদের পরিচয়, অস্তিত্ব এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় থাাকর বিষয়টি সুনিশ্চিত হবে ৷ প্রথম দফার ভোটের মূল কথা যদি মেজাজ হয়ে থাকে দ্বিতীয় দফার ভোটের ইউএসপি প্রার্থী এবং তাঁর দলে নীতি ও বাস্তবের সঙ্গে থাকা চ্যুতিরেখা ৷

এবারের লড়াইয়ের কেন্দ্রে আছে ভবানীপুর ৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েপ মুখোমুখি শুভেন্দু অধিকারী ৷ একসময় মমতার দল তৃণমূলের অন্য়তম শীর্ষ নেতা এখন তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ ৷ একসময়ে দুজনেই সিপিএমকে বাংলা ছা়ড়া করার স্বপ্ন দেখতেন, সেই প্রকল্পের অংশ ছিলেন ৷ সেই ঐতিহাসিক ভূমিকায় এখন আদর্শগত বদল এসেছে ৷ পাড়ার মেয়ে মমতার উত্থান দেখেছে ভবানীপুর ৷ আর সেখানে এবার এমন এক লড়াই হচ্ছে যাকে কোনও একটি কেন্দ্রে আটকে রাখা যায় না ৷ আদতে এটি কোনও একটি কেন্দ্রের লড়াইও নয় ৷ এটা হল নিয়ন্ত্রক হওয়ার, নিজেকে অপরাজেয় করে তোলার লডা়ই ৷ তবে অন্যত্র নির্বাচনে গুরুত্ব পেয়েছে স্থানীয় সমস্যা ৷
টালিগঞ্জে লড়ছেন অরূপ বিশ্বাস ৷ এটা তাঁর দীর্ঘদিনের দিন দুর্গ ৷ তিনি আজীবন সংগঠনের নেতা হিসেবে চিহ্নিত থেকেছেন ৷ তাঁকে সারাবছর এলাকাতেই পাওয়া যায় ৷ তবে তাঁর প্রচারে সেভাবে চমকের দেখা মেলে না ৷ কিন্তু তা বলে তিনি যে মানুষের কাছে পৌঁছতে পারেন না- তা একেবারেই নয় ৷ অরূপ আদতে এমন এক নেতা যিনি দেখনদারির চেয়ে বেশি আস্থা রাখেন বহমানতায় ৷
কামারহাটিতে মদন মিত্র নিজের কালারফুল ইমেজ তুলে ধরতে কসুর করেন না ৷ রাস্তায় নেমে মানুষের মনে প্রভাব বিস্তার করার আদি এবং অকৃত্রিম ক্ষমতাও তাঁর আছে ৷ তাঁর প্রচার রাজনীতি আর কাজের মধ্যে থাকা ফারাককে গুলিয়ে দেয় ঠিকই তবে যে ভোটাররা যে রংয়ের দিকে আকর্ষিত হন তার কমতি মদনের আবেদনে থাকে না ৷ আলোচনার স্বর যেমনই হোক-তিনি চর্চায় থাকতে জানেন ৷
রাসবিহারী কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী স্বপন দাশগুপ্ত নিজেকে নয়া অবতারে ভোটারদের কাছে তুলে ধরছেন বললে ভুল হবে না ৷ সাংবাদিক থাকার সময় তিনি পরিমিতবোধ সম্পন্ন, মরিয়া এবং খুঁটিনাটির দিকে নজর দিতেন ৷ সেসব থেকে এখন নিজেকে সরিয়ে এনেছেন ৷ তাঁর প্রচারের অভিমুখ ধাপে ধাপে এগিয়ে জনসংযোগ তৈরি করা ৷

সোনারপুর দক্ষিণের রূপা গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর অভিনেত্রীর ইমেজ ভেঙে বেরোনোর চেষ্টা করছেন ৷ স্থানীয় পরিচিতিকে হাতিয়ার করে নিজের জনপ্রিয়তাকে ইভিএমে ভোটের আকারে পেশ করা তাঁর অভিপ্রায় ৷
ভাঙরের নওশাদ সিদ্দিকি নিজের মধ্যে নানা স্তর আনতে পেরেছেন ৷ এমনিতে তিনি শান্ত কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতে হলে 'অস্ত্র হাতে ধরতে জানেন ৷'প্রথা ভেঙে অনুরাগী তৈরিতেও তিনি সিদ্ধহস্ত ৷ তাঁর উপস্থিতি বলে দেয় এবার বাংলার ভোট ঘিরে সাধারণভাবে যে দ্বিমেরুকরণের কথা বলা হচ্ছে তা ভাঙড়ে নেই ৷
নোয়াপাড়ায় লড়ছেন বাংলার আধুনিক রাজনীতিতে গিরিগিটি হিসেবে পরিচিত অর্জুন সিং৷ তিনি এমন এক প্রবীণ নেতা যিনি আজীবন অস্থিরতাকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে ৷ তিনি দলীয় আনুগত্য বদলে নেন ৷ কৌশল পাল্টে পাল্টে সর্বদা নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পাওয়ার পথ খুঁজে নেন। বিজেপির টিকিটে তাঁর এই নির্বাচনী লড়াই যতটা না দলের ভাগ্যের প্রশ্ন, তার চেয়েও বেশি তাঁর নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই।
উত্তর দমদমে, সিপিএমের দীপ্সিতা ধর শুধু নিজে লড়ছেন ভাবলে ভুল হবে ৷ তিনি সিপিএম তথা সামগ্রিকভাবে বামপন্থীদের হারানো জমি পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টার এক অদৃশ্য প্রতিনিধি হয়ে উঠেছেন। তিনি বয়সে তরুণী ৷ বাগ্মীও বটে ৷ উঠে আসা ছাত্র রাজনীতি থেকে ৷ বামপন্থীদের পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনা ও নিজেকে জেতানোর গুরুদায়িত্ব— দুটোই নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। ভোটের ময়দানে তাঁর এই অর্থবহ উপস্থিতি শেষ পর্যন্ত ইভিএমে ধরা পড়বে কি না সেটা আলাদা কথা ৷ তবে তাঁর উপস্থিতি যে এক নয়া প্রজন্মের ভাবনার প্রতিনিধিত্ব করছে তাতে সংশয় নেই ৷

এই কেন্দ্রগুলি এবং এরকম আরও নানা কেন্দ্রের লড়াই দ্বিতীয় দফার ভোটের লডাইয়ের অভিঘাতকে স্পষ্ট করে ৷ আরও বলে দেয় প্রথম দফার ভোটের সার কথা ছিল আবেগ ৷ এবার প্রাধান্য পাচ্ছে স্থানীয় সমীকরণ, প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা আর এর সঙ্গে বাংলার ভোটারদের প্রার্থী বেছে নেওয়ার অনিশ্চিত মনন ৷
এভাবে ভাবলে 93 শতাংশ ভোট পড়ার বিষয়টি এক অসম্পূর্ণতার দিকেই ইঙ্গিত করে ৷ এখান থেকে আমরা জানতে পারি প্রবল ভোট পড়েছে ৷ আর এই বেশি পরিমাণে ভোট পড়া যত তথ্য আমাদের দেয় ততটাই গোপন করে ৷ এটা একীকরণ এবং বিভাজন-দুয়েরই ইঙ্গিত হতে পারে ৷ এটা সমর্থনের ইঙ্গিত যেমন হতে পারে তেমনি হতে পারে উদ্বেগেরে পরিচায়ক ৷
অন্তিম ভোট পর্বের দিকে পা বাড়িয়ে থাকা বঙ্গজ রাজনীতি এখন এক দারুণ সন্ধিক্ষণে এসে উপস্থিত ৷ একদিকে আছেন এমন ভোটররা যাঁরা নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে চান ৷ আর অন্যদিকে আছেন বিভিন্ন দলের বিভিন্ন নেতারা - যাঁদের প্রত্যেকের নিজস্ব অ্যাখ্যান, আবেদন এবং পদ্ধতি আছে ৷ এই দুটোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে বাংলার বিধান ৷

বাংলার রাজনীতি সর্বদা প্রত্যয়ের অংশ হয়ে থেকেছে ৷ নাটকীয়তা এবং হটকারিতাও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ৷ বেশিরভাগ সময় চূড়ান্ত ফলাফল আসে সবাইকে অবাক করে দিয়ে, জনমত একপক্ষে গিয়ে ৷ এটা খানিক আশ্চর্যের কিন্তু স্বকীয়তার কোনও অভাব নেই ৷ একেবারে শেষে বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম রঙিন নেতা মদন মিত্রর কথা তুলে ধরে বলাই যায় যখনই মনে হবে বাংলার রাজনীতির এই অভিঘাত অনুধাবন করা গিয়েছে তখনই আসবে একটা বাঁক, একটা হতবাক করে দেওয়া মুহূর্ত আসবে যেখানে হয়তো অজান্তেই বলে ফেলতে হবে 'ওহ লাভলি ।

