ETV Bharat / opinion

যত্নশীল পথপ্রদর্শক, শ্রী রামোজি রাওয়ের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি

শৃঙ্খলা, কঠোর পরিশ্রম ও সততার সঙ্গে গড়া এক উত্তরাধিকার রেখে গিয়েছেন শ্রী রামোজি রাও ৷ দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে এই মহান ব্যক্তিকে গভীর শ্রদ্ধা ইটিভি ভারত-এর ৷

Tribute to Ramoji Rao
ফিল্ম সিটিতে রামোজি রাওয়ের মূর্তি (ইটিভি ভারত)
author img

By Bilal Bhat

Published : June 7, 2026 at 3:07 PM IST

5 Min Read
Choose ETV Bharat

শ্রী রামোজি রাও ছিলেন এমন এক মানুষ, আলাদা করে যাঁর কোনও পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন নেই । তিনি রামোজি ফিল্ম সিটি ও মার্গদর্শীর প্রতিষ্ঠাতা ৷ যিনি আঞ্চলিক গণমাধ্যমের জন্য এক নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেছিলেন ।

রামোজি রাও ছিলেন এক দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব যিনি চলচ্চিত্র, সাংবাদিকতা কিংবা সাহিত্য—সব ক্ষেত্রেই তেলুগু ভাষার জগতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন । তিনি রেখে গিয়েছেন এক বিশাল ও গৌরবময় উত্তরাধিকার ৷ নির্ভীক ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ঐতিহ্য, পেশাদারদের এক অত্যন্ত যত্নশীল ও সুশৃঙ্খল টিম এবং রামোজি গ্রুপের মধ্যে এমন এক নেতৃত্ব কাঠামো, যা তিনি নিজে হাতে তৈরি করেছেন ৷ যাতে প্রত্যাশিত বা আকস্মিক যে কোনও চ্যালেঞ্জ সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করা যায় ।

Tribute to Ramoji Rao
ফিল্ম সিটিতে রামোজি রাওয়ের সিলিকা মূর্তি (ইটিভি ভারত)

তাঁর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে (8 জুন, 2026 ) আমরা এমন এক অনন্য ব্যক্তিত্বকে স্মরণ করছি, যাঁর জীবন আঞ্চলিক গণমাধ্যমকে নতুন রূপ দিয়েছিল এবং প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছিল।

কী বোর্ডে লেখার সময় আমার হাত কাঁপছে ৷ আমি এমন এক ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি, যিনি কেবল জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই অত্যন্ত নিখুঁত ও যত্নশীল ছিলেন না; বরং শৃঙ্খলার এক অনন্য দৃষ্টান্তও ছিলেন । তিনি যদি আজ আমার এই লেখাটি পর্যালোচনা করতেন, তবে কীভাবে তা খুঁটিয়ে দেখতেন সেই কথা ভাবতেই আমার মন ভারাক্রান্ত হয়ে উঠছে এবং চোখ জলে ভরে আসছে ৷

Tribute to Ramoji Rao
ফিল্ম সিটিতে রামোজি রাওয়ের মূর্তি (ইটিভি ভারত)

তাঁর নেতৃত্বে কাজ করার সময় ইনাডু (Eenadu) বা ইটিভি ভারত (ETV Bharat)-এর জন্য আমার লেখা প্রতিটি নিবন্ধ তাঁর অনুমোদন পেত ৷ তিনি কখনওই বাক্যের গঠনগত ভুল বা শব্দের অনুপযুক্ত ব্যবহার সহ্য করতেন না । তাঁর কাছে ভাষা ছিল এমন এক বাহন, যা কোনও দীর্ঘ ও কঠিন যাত্রায় কোনওভাবেই ত্রুটিপূর্ণ হতে পারে না । তিনি প্রায়শই অন্যদের ভাষা আয়ত্ত করতেন এবং মাতৃভাষার দক্ষতা অর্জনের জন্য সচেষ্ট হতে উৎসাহিত করতেন ৷

ইংরেজি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তিনি সর্বদা নিখুঁত ছিলেন ৷ যদিও তেলুগু ভাষার প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ছিল । যারা তেলুগু জানতেন না, তাঁদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি নিশ্চিত করতেন যেন তাঁর ভাষা সহজে বোঝা যায় এবং প্রতিটি শব্দ অত্যন্ত যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয় । অতীতে ইটিভি (ETV) চ্যানেলগুলোর মতোই বর্তমানে তেরোটি ভাষায় পরিচালিত ইটিভি ভারত-এর মতো বহুভাষিক প্ল্যাটফর্ম চালু করা ছিল তাঁর দূরদর্শিতারই প্রমাণ ।

Tribute to Ramoji Rao
রামোজি রাওয়ের বাণীসমূহ (ইটিভি ভারত গ্রাফিক্স)

শৃঙ্খলা তাঁর হৃদয়ের খুব কাছের বিষয় ছিল ৷ কাজের ফলাফল হল একজন ব্যক্তির কঠোর পরিশ্রম, সততা ও নিষ্ঠার মাপকাঠি ৷ এই বিষয়টিকে যেমন তিনি গুরুত্ব দিতেন, তেমনই সময়ের প্রতিও তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ছিল । তাঁর কাছে সময় ছিল কাজের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এক অপরিহার্য উপাদান ও প্রধান মাপকাঠি । তিনি প্রায়ই বলতেন, "সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তা কখনওই কারও জন্য অপেক্ষা করে না; তাই এর সর্বোত্তম ব্যবহার করো ।"

অধিকাংশ মানুষ যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকতেন, তখনই তাঁর দিনের সূচনা হত । তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠিত তেলুগু দৈনিক ইনাডু এবং হায়দরাবাদ থেকে প্রকাশিত প্রধান ইংরেজি সংবাদপত্রগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়তেন, আর সেই সঙ্গে অপেক্ষা করতেন তাঁর দলের সদস্যদের জন্য ৷ যারা অন্যান্য জাতীয় দৈনিকের প্রিন্ট-আউট বা মুদ্রিত কপি তাঁর কাছে পৌঁছে দিত । মৌলিক ধারণার প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল ৷ তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ যিনি সর্বদা নতুন নতুন ভাবনার সন্ধানে থাকতেন ৷ গভীর মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করতেন কীভাবে বিভিন্ন লেখক প্রধান ইংরেজি সংবাদপত্রগুলোর মতামত বিভাগে তাঁদের চিন্তাভাবনা তুলে ধরছেন । সংবাদকক্ষের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তিনি নিউজ আইডিয়া ব্যাঙ্ক (NIB) নামে একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন ।

Tribute to Ramoji Rao
শ্রী রামোজি রাও (ফাইল ছবি - ইটিভি ভারত)

আকর্ষণীয় সাংবাদিকতা বা এমন কোনও গল্পের সন্ধান পেলেই তিনি প্রায়শই আমাকে ফোন করতেন ৷ তিনি বলতেন, গল্পটিকে পরবর্তীতে অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক কোনও দৃশ্যমান আখ্যানে (visual narrative) রূপ দেওয়া যেতে পারে । সংবাদকক্ষে কোনও রিপোর্ট তৈরির দায়িত্ব দেওয়ার আগে তিনি সেটিকে 'হ্যাভ ইউ কভারড' (HYC) বা 'আপনারা কি এটি কভার করেছেন'—সংবাদকক্ষে পরিচিত এই প্রক্রিয়ার আওতায় চিহ্নিত করতেন । আমাদের আলোচনাগুলো মূলত আবর্তিত হত সাংবাদিকরা কীভাবে নির্দিষ্ট কোনও ঘটনাকে তুলে ধরছেন বা বর্ণনা করছেন, তার ওপর ভিত্তি করে ।

তাঁর কাছে সাংবাদিকতা কেবল জীবিকা অর্জনের মাধ্যম ছিল না ৷ ছিল একটি সেবাধর্মী কাজ । তাঁর মতে, সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্য হল মানুষকে তথ্য জানানো, শিক্ষিত করা এবং এমন সব বিষয়ে সচেতন ও সতর্ক করা যেসব বিষয়ে তাদের সজাগ থাকা প্রয়োজন । তিনি মেধার বিকাশে বিশ্বাসী ছিলেন ৷ তাঁর কাছে সহজাত বুদ্ধিমত্তার চেয়ে কঠোর পরিশ্রম এবং শেখার আগ্রহ অনেক বেশি মূল্যবান ছিল । অন্যদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণে উৎসাহিত করার জন্য তিনি প্রায়শই নিজের জীবনের নানা সংগ্রামের কথা তুলে ধরতেন । তিনি ছিলেন একাধারে একজন সফল উদ্যোক্তা, নির্ভীক সাংবাদিক এবং একজন অসাধারণ পরামর্শদাতা ।