EXCLUSIVE: পরিচারিকা থেকে মন্ত্রিসভা ! আউশগ্রামের কলিতা-কাহিনি
পরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী । আউশগ্রামের কলিতা-কাহিনি এখন অনুপ্রেরণা । তিনি কী বলছেন ? ইটিভি ভারতের প্রতিনিধি অনামিকা ভট্টাচার্য্যের সঙ্গে রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী কলিতা মাজি ৷

Published : June 3, 2026 at 2:57 PM IST
|Updated : June 3, 2026 at 3:44 PM IST
একসময় সংসারের হাল ধরতে ধরতে বাড়ি বাড়ি কাজ করতেন ৷ এবার মন্ত্রিসভায় আউশগ্রামের কলিতা মাজি ৷ পরিচারিকা থেকে তিনি এখন মন্ত্রী ৷ শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার 'সুপার 35' এর অন্যতম কলিতা । সোমবার লোকভবনে প্রথম বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন তিনি ।
স্বামী কলের মিস্ত্রি । সংসারে বাড়তি উপার্জনের জন্যই পরিচারিকার কাজ করতে হয়েছে কলিতাকে । এক পুত্র এবং স্বামী নিয়ে তাঁর সংসার । এই বছরই ছেলে পার্থ বসেছেন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষােয় । তবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা কলিতার অনেক দিনেরই । সেই সুযোগ চলে আসে বিজেপির হাত ধরে । বছর সাতেক রাজনীতি করার পরে 2021 সালে তাঁকে প্রথমবার বিধানসভা ভোটে প্রার্থী করে দল ।
বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগই ছিল কলিতার মূলচালিকা শক্তি । রাজনৈতিক লড়াইয়ে অর্থবল ও পেশিশক্তির মোকাবিলা করেও নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন তিনি । শেষপর্যন্ত আউশগ্রামের মানুষের রায়ে জয় পান কলিতা ।
আজ কলিতা মন্ত্রী হওয়ায় আবেগে ভাসছে পাত্রপাড়া । একটা ছোট্ট একচালা বাড়ির বউ যাঁর সংসারের লড়াই চলে নিত্য দিন । দরিদ্র পরিবারের সন্তান । বিয়েও হয়েছিল তাড়াতাড়ি । সংসারের হাল ধরতে হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পাশাপাশি জীবনের এই বদলে যাওয়ার গল্পই কলিতা শোনালেন ইটিভি ভারতকে ৷
পরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী । আউশগ্রামের কলিতা-কাহিনি এখন অনেকের অনুপ্রেরণা । কলিজা মাজি কী বলছেন ?
যে কোনও জিনিস করতে গেলে কষ্ট করতেই হবে ৷ সেটা আর আলাদা করে বলার কথা নেই ৷
আপনার কোনও রাজনৈতিক পারিবারিক পটভূমি ছিল না, আর্থিকভাবেও খুব সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছেন । আজ মন্ত্রী হওয়ার পর সাধারণ মানুষকে কী বার্তা দিতে চান ?
আমাদের ভারতীয় জনতা পার্টি সর্বোচ্চ দল ৷ সাধারণ মানুষের জন্য কতটা কাজে লাগতে পারে আমাকে দেখলেই বোঝা যায় ৷ সত্যি বলতে আমাদের দলের উপরে ও মোদিজির উপরে ভরসা রাখুন ৷ এছাড়াও আমাদের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুদার উপরে আস্থা রাখুন ৷
বাংলার জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই মহিলা । আপনাকে মন্ত্রী করে বিজেপি কি নারী ক্ষমতায়নের একটি শক্তিশালী বার্তা দিতে চেয়েছে বলে মনে করেন ?
মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিল ৷ পরিবর্তন হয়েছে ৷ আমাদের মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী দলনেতা হিসাবে যখন ছিলেন তখন থেকেই যা যা বলেছিলেন সেগুলি শুরুও করে দিয়েছেন ৷ নারীদের সুরক্ষা অবশ্যই দেখা হবে ৷
দীর্ঘদিনের বিজেপি কর্মী হিসাবে মাঠে-ঘাটে সংগঠনের কাজ করেছেন । এবার প্রশাসনিক দায়িত্বও পেলেন । মন্ত্রী হিসেবে আপনার অগ্রাধিকার কী হবে ?
মন্ত্রিত্ব এখনই বলতে পারব না ৷ বিষয় হল আমাকে যেভাবে যে কাজ নির্দেশ দেবে সেইসব আমি মাথা পেতে নেব ৷ আর মানুষের কাছে পৌঁছে দেব ৷ দায়িত্ব দেবে যে দফতরে সেখানে কোনও দুর্নীতি হতে দেব না ও কাউকে কোনও অভিযোগ করার সুযোগ দেব না ৷ সাধারণ মানুষের যা চাহিদা আমি সমস্ত স্তরে পৌঁছে দেব ৷

আউশগ্রামের মানুষ বহু প্রত্যাশা নিয়ে আপনাকে দেখছেন । তাঁদের জন্য প্রথমে কোন বিষয়গুলিতে জোর দিতে চান ?
বিধায়ক হিসাবে একটা কথা বলতে চাই, যে বিধানসভা থেকে আমি জিতেছি দলকে এটাই বলব আমার বিধানসভায় যা যা খামতি আছে সেগুলি পূরণ করতে ৷ কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও প্রকল্প আমার বিধানসভায় নেই ৷ প্রথম কাজ হবে গুসকরাতে একটা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ৷ এখানে খুবই দরকার ৷ এছাড়াও পানীয় জল ৷ আসল বিষয় হল নারীদের সুরক্ষা ৷ আমার জঙ্গল মহল এলাকা ৷ অনেকটা জঙ্গল পেরিয়ে স্কুল যায় মেয়েরা ৷ এগুলি সব ঠিক করা দরকার ৷
এছাড়াও আরও দেখতে হবে ঘর বাড়ি রাস্তাঘাট সেগুলি কিচ্ছু নেই ৷ সেগুলিকে দেখা ৷ সবথেকে বড় বিষয় হল জঙ্গলমহল এলাকায় যদি আগুন লেগে যায় নেভানোর কোনও ব্যবস্থা থাকে না ৷ পাশের বিধানসভা থেকে ফায়ার ব্রিগেড আনতে হয় ৷ এই খামতিগুলি পূরণ করব ৷

একজন সাধারণ পরিবারের মেয়ের মন্ত্রী হওয়া কি বাংলার মেয়েদের রাজনীতিতে আরও এগিয়ে আসতে উৎসাহ দেবে বলে মনে করেন ?
মন্ত্রিত্ব পাওয়াটা আমার স্বপ্নে ছিল না ৷ কোনওদিন আশাও করিনি ৷ আমার মুখ্যমন্ত্রী আমাকে মন্ত্রীত্ত্ব দিয়েছেন এতে আমি গর্বিত ও আনন্দিত ৷ আমি প্রথমেই বলেছি যা সাধারণ মানুষকে বলতে চাই ৷ আমাদের দলে প্রতি বিশ্বাস ও ভরসা রাখুন ৷ সবথেকে বড় বিষয় হল মোদিজির গ্যারেন্টি ৷ অবশ্যই মনের আশা সবার পূরণ হবে ৷
বিরোধীরা বলছে, মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হয়েছে রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে । এই সমালোচনার জবাব কী দেবেন ?
বিরোধীরা কী বলল, কী বলল না এটা নিয়ে আমার কোনও মন্তব্য নেই ৷ ওরা কাউকে সম্মান দিতে পারে ? তাহলে কী করে সম্মান পাবে ৷ তৃণমূল মানেই চোরে ভরা ৷ তাঁদের মুখে এই কথা মানায় না ৷
বাংলার শিক্ষা কি অনেকটা পিছিয়ে ?
একদমই তাই ৷ যে শিক্ষাকেন্দ্র উন্নত করার দরকার ছিল, সেই শিক্ষাকেন্দ্র আজ বেহাল দশা ৷ শিক্ষক নেই ৷ আমাদের মোদিজি ও মুখ্যমন্ত্রী বলে দিয়েছেন যুবপ্রজন্মদের জন্য ভাবা হবে ৷ চাকরি দেওয়া হবে ৷ আমার উপনেতৃত্ব যেটা বলবে তার বাইরে কিছু হবে না ৷
- EXCLUSIVE: অলিভ অয়েলে সতে করা সিদ্ধ মাছ, সঙ্গে যোগব্যায়াম আর প্রাণায়াম; হিরণের ফিটনেস মন্ত্রে আর কী কী ?
- EXCLUSIVE: ভালো গান গাইতে গেলে আগে বড় মনের মানুষ হতে হবে: অকপট কুমার শানু
- EXCLUSIVE: 'নাচ-গানের মাধ্যমে নিজেকে সবসময় রিফ্রেশ রাখুন', আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবসে অকপট ইন্দ্রাণী
- Exclusive: 'শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য পরিবেশ পশ্চিমবঙ্গে নেই' ! ইটিভি ভারতে সরাসরি চিকিৎসক ইন্দ্রনীল খাঁ

